কেউ হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন, কেউবা কাজ শেষে দাঁড়িয়ে ছিলেন দোকানের সামনে। হঠাৎ অন্ধকারের ভেতর থেকে এসে আক্রমণ চালায় একটি কালো রঙের পাগলা কুকুর। এক ঘণ্টার ব্যবধানে শহরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে ও আঁচড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর শহরের হলবাজার, আমতলা ও ইদ্রাক মোড়সহ আশপাশের এলাকায় এ তাণ্ডব চলে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, রাত ৮টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে কুকুরের কামড়ে আহত অন্তত ৩৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের অনেকের শরীরেই গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ জনকে র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বাকিদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরদিন সকালে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা নামতেই শহরজুড়ে এক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পথচারীদের কামড়ে দিয়ে কুকুরটি আমতলা, হলবাজার ও ইদ্রাক মোড় পেরিয়ে কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের চড়াইকোল এলাকার দিকে চলে যায়।
রাত পৌনে আটটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় এক বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের চিত্র। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগী ও তাদের স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই স্যাভলন বা সাবান-পানি দিয়ে ক্ষতের স্থান পরিষ্কার করছিলেন, আবার কাউকে ভ্যাকসিনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
হলবাজার এলাকায় আক্রান্ত হওয়া রোকনুজ্জামান নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, “দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ কালো রঙের একটি কুকুর এসে পায়ে কামড় দিয়ে এক দৌড়ে পালিয়ে গেল। পরে হাসপাতালে এসে দেখি আমার মতো আরও অনেকেই চিকিৎসার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে।”
একই এলাকার বাসিন্দা প্রবীণ নাগরিক আফজাল হোসেন জানান, মসজিদ থেকে এশার নামাজ পড়ে বের হওয়া মাত্রই কুকুরটি তার ওপর হামলা চালায়।
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাভিদ সারওয়ার জানান, খবর পেয়েই হাসপাতাল পরিদর্শন ও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। শহরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি পাগলা কুকুরটি দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাজ চলছে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
কেউ হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন, কেউবা কাজ শেষে দাঁড়িয়ে ছিলেন দোকানের সামনে। হঠাৎ অন্ধকারের ভেতর থেকে এসে আক্রমণ চালায় একটি কালো রঙের পাগলা কুকুর। এক ঘণ্টার ব্যবধানে শহরের বিভিন্ন স্থানে কুকুরের কামড়ে ও আঁচড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে কুষ্টিয়ার কুমারখালী পৌর শহরের হলবাজার, আমতলা ও ইদ্রাক মোড়সহ আশপাশের এলাকায় এ তাণ্ডব চলে। আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে দ্রুত কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, রাত ৮টা পর্যন্ত জরুরি বিভাগে কুকুরের কামড়ে আহত অন্তত ৩৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্তদের অনেকের শরীরেই গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৭ জনকে র্যাবিস ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বাকিদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরদিন সকালে হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যা নামতেই শহরজুড়ে এক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। পথচারীদের কামড়ে দিয়ে কুকুরটি আমতলা, হলবাজার ও ইদ্রাক মোড় পেরিয়ে কুমারখালীর নন্দলালপুর ইউনিয়নের চড়াইকোল এলাকার দিকে চলে যায়।
রাত পৌনে আটটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় এক বিশৃঙ্খলা ও আতঙ্কের চিত্র। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে রোগী ও তাদের স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই স্যাভলন বা সাবান-পানি দিয়ে ক্ষতের স্থান পরিষ্কার করছিলেন, আবার কাউকে ভ্যাকসিনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল।
হলবাজার এলাকায় আক্রান্ত হওয়া রোকনুজ্জামান নামের এক ভুক্তভোগী বলেন, “দোকানের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎ কালো রঙের একটি কুকুর এসে পায়ে কামড় দিয়ে এক দৌড়ে পালিয়ে গেল। পরে হাসপাতালে এসে দেখি আমার মতো আরও অনেকেই চিকিৎসার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে।”
একই এলাকার বাসিন্দা প্রবীণ নাগরিক আফজাল হোসেন জানান, মসজিদ থেকে এশার নামাজ পড়ে বের হওয়া মাত্রই কুকুরটি তার ওপর হামলা চালায়।
এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাভিদ সারওয়ার জানান, খবর পেয়েই হাসপাতাল পরিদর্শন ও খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। শহরবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি পাগলা কুকুরটি দ্রুত চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কাজ চলছে।

আপনার মতামত লিখুন