সংবাদ

পদ্মায় ক্ষতিকর চায়না দুয়ারির ফাঁদ, বিলীনের পথে দেশি মাছ


প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রতিনিধি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ পিএম

পদ্মায় ক্ষতিকর চায়না দুয়ারির ফাঁদ, বিলীনের পথে দেশি মাছ
ছবি : সংবাদ

একসময় নদী, খাল-বিল আর জলাশয়ে ছিল দেশি মাছের প্রাচুর্য। বর্ষা এলেই পানিতে টইটম্বুর হয়ে উঠত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার নদী-নালা ও বিলগুলো। জেলেদের জালে ধরা পড়ত নানা প্রজাতির মাছ। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চেনা ছবি। অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর 'চায়না দুয়ারি' জাল। সূক্ষ্ম ফাঁসের এই জালে বড় মাছের পাশাপাশি ধরা পড়ছে রেণুপোনা ও নানা দরকারি জলজ প্রাণী। ফলে পদ্মাসহ স্থানীয় নদী ও বিলে দ্রুতই কমছে দেশি মাছের বংশ বৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য।

গোয়ালন্দের বিভিন্ন নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে বর্তমানে চায়না দুয়ারি দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যন্ত এলাকার জলাশয় থেকে শুরু করে পদ্মার বিভিন্ন অংশে গোপনে ও প্রকাশ্যে বসানো হচ্ছে এই ক্ষতিকর জাল। রাতের আঁধারে যেমন জাল পাতা হচ্ছে, তেমনি দিনের বেলাতেও কোথাও কোথাও চলছে এই ধ্বংসাত্মক মাছ শিকার।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চায়না দুয়ারির ফাঁস এতটাই সূক্ষ্ম যে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ ও পোনা মাছও রেহাই পাচ্ছে না। এমনকি ক্ষতিকর এই জালে আটকা পড়ে মারা পড়ছে বিভিন্ন জলজ কীটপতঙ্গও। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশি মাছের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিগুলো।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহাজাহান বলেন, 'যেভাবে অবৈধ চায়না দুয়ারি দিয়ে অবাধে মাছ মারা হচ্ছে, তাতে একসময় নদী মাছশূন্য হয়ে যাবে। মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির সুযোগ না দিলে ভবিষ্যতে সংকট আরও তীব্র হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে জেলে পরিবারের জীবিকাই হুমকির মুখে পড়বে।'

উপজেলা জেলে সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অছেল উদ্দিন জানান, অল্প সময়ে বেশি মাছ পাওয়ার লোভে কিছু অসাধু লোক এই জাল ব্যবহার করছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে পুরো জলজ পরিবেশের অপরূণীয় ক্ষতি হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক বলেন, 'চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল সারা বছরই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব জাল বন্ধে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিস্তীর্ণ নদী ও জলাভূমি এলাকা হওয়ায় সব জায়গায় একসঙ্গে নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা গিয়ে বাস্তুসংস্থানে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।'

দেশি মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় গোয়ালন্দের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত ও কঠোর অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


পদ্মায় ক্ষতিকর চায়না দুয়ারির ফাঁদ, বিলীনের পথে দেশি মাছ

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

একসময় নদী, খাল-বিল আর জলাশয়ে ছিল দেশি মাছের প্রাচুর্য। বর্ষা এলেই পানিতে টইটম্বুর হয়ে উঠত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার নদী-নালা ও বিলগুলো। জেলেদের জালে ধরা পড়ত নানা প্রজাতির মাছ। তবে সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে সেই চেনা ছবি। অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর 'চায়না দুয়ারি' জাল। সূক্ষ্ম ফাঁসের এই জালে বড় মাছের পাশাপাশি ধরা পড়ছে রেণুপোনা ও নানা দরকারি জলজ প্রাণী। ফলে পদ্মাসহ স্থানীয় নদী ও বিলে দ্রুতই কমছে দেশি মাছের বংশ বৃদ্ধি ও বৈচিত্র্য।

গোয়ালন্দের বিভিন্ন নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে বর্তমানে চায়না দুয়ারি দিয়ে অবাধে মাছ শিকারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যন্ত এলাকার জলাশয় থেকে শুরু করে পদ্মার বিভিন্ন অংশে গোপনে ও প্রকাশ্যে বসানো হচ্ছে এই ক্ষতিকর জাল। রাতের আঁধারে যেমন জাল পাতা হচ্ছে, তেমনি দিনের বেলাতেও কোথাও কোথাও চলছে এই ধ্বংসাত্মক মাছ শিকার।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, চায়না দুয়ারির ফাঁস এতটাই সূক্ষ্ম যে বড় মাছের পাশাপাশি ছোট মাছ ও পোনা মাছও রেহাই পাচ্ছে না। এমনকি ক্ষতিকর এই জালে আটকা পড়ে মারা পড়ছে বিভিন্ন জলজ কীটপতঙ্গও। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশি মাছের বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতিগুলো।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহাজাহান বলেন, 'যেভাবে অবৈধ চায়না দুয়ারি দিয়ে অবাধে মাছ মারা হচ্ছে, তাতে একসময় নদী মাছশূন্য হয়ে যাবে। মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধির সুযোগ না দিলে ভবিষ্যতে সংকট আরও তীব্র হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে জেলে পরিবারের জীবিকাই হুমকির মুখে পড়বে।'

উপজেলা জেলে সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অছেল উদ্দিন জানান, অল্প সময়ে বেশি মাছ পাওয়ার লোভে কিছু অসাধু লোক এই জাল ব্যবহার করছেন। এতে দীর্ঘমেয়াদে পুরো জলজ পরিবেশের অপরূণীয় ক্ষতি হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে এদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক বলেন, 'চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল সারা বছরই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব জাল বন্ধে মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিস্তীর্ণ নদী ও জলাভূমি এলাকা হওয়ায় সব জায়গায় একসঙ্গে নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে মাছের পাশাপাশি অন্যান্য জলজ প্রাণী মারা গিয়ে বাস্তুসংস্থানে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।'

দেশি মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় গোয়ালন্দের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়মিত ও কঠোর অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত