সংবাদ

বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬: অপুষ্টি প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্য গঠনে ডিমের ভূমিকা


মাহতাব হোসাইন মাজেদ
মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২২ এএম

বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬: অপুষ্টি প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্য গঠনে ডিমের ভূমিকা

বিশ্ব ডিম দিবস আজ। দেশে বর্তমানে মাথাপিছু বছরে প্রায় ১৩৭টি ডিমের প্রাপ্যতা রয়েছে। তবে পোলট্রি খাদ্য, বাচ্চা, ওষুধ ও জ্বালানির দাম বাড়ায় ডিম উৎপাদনের খরচও বাড়ছে। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটির কারণে খামারির বিক্রয়মূল্য এবং খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। এতে প্রান্তিক খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা ২০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। দৈনিক উৎপাদন ৬ কোটিরও বেশি। ফলে দেশে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৭টিতে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পুষ্টিবিষয়ক নির্দেশনা অনুযায়ী, মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রাপ্যতা ও প্রকৃত ভোগ এক বিষয় নয়। উৎপাদন পর্যাপ্ত হলেই সবার খাদ্যতালিকায় ডিম নিশ্চিত হয় না। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, বাজারদর ও খাদ্যাভ্যাসও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বব্যাপী ডিম দিবস পালিত হয়। আন্তর্জাতিক ডিম কমিশনের উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় প্রথম এ দিবস পালনের সূচনা হয়। এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘শক্তি জোগায়, সুরক্ষা দেয় যে প্রোটিন’। ডিমের উচ্চমানের প্রোটিন এবং শারীরিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ ও সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এর ভূমিকা তুলে ধরাই এ প্রতিপাদ্যের লক্ষ্য। দিবসটি উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিশ্ব পোলট্রি বিজ্ঞান সমিতির বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্পের কেন্দ্রীয় পরিষদের যৌথ উদ্যোগে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

ডিমের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব

অপুষ্টি প্রতিরোধ ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে ডিম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। সহজলভ্যতা, তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্য এবং সহজে রান্না করার সুবিধার কারণে ডিম দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে পারে।

একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম প্রোটিন এবং ৭০ থেকে ৮০ কিলোক্যালরি শক্তি থাকে। এতে ভিটামিন এ, ডি, বি৬ ও বি১২, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস ও সেলেনিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। ডিমের কুসুমে থাকে কোলিন, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিমে থাকা প্রোটিন শরীরের কোষ গঠন, পেশি রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে।

ডিমের প্রোটিনকে উচ্চমানের প্রোটিন বলা হয়, কারণ এতে শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে। তাই শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিম ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু ডিমের ওপর নির্ভর না করে শাকসবজি, ফল, শস্য, ডাল, মাছ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সমন্বয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।

শিশুর বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে ডিম

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। ডিমের প্রোটিন শরীরের বৃদ্ধি ও কোষ গঠনে সহায়তা করে। এতে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্মৃতিসংশ্লিষ্ট স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিমের অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য ডিম একটি উপকারী খাবার। তবে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে ডিমের পাশাপাশি বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্য, নিরাপদ পানি, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের বয়স ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী ডিম দিতে হবে এবং খাদ্যনিরাপত্তার জন্য ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়ানো উচিত।

প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের জন্য ডিম

প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে প্রোটিন ও ভিটামিনের প্রয়োজন হয়। ডিমের প্রোটিন পেশি রক্ষণাবেক্ষণ ও শারীরিক পরিশ্রমের পর পেশির ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে। এতে থাকা বি-ভিটামিন শরীরের স্বাভাবিক বিপাকপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। ডিমের কুসুমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ বিশেষভাবে প্রয়োজন। ডিম সহজে রান্না করা যায় এবং এর পুষ্টিগুণও বেশি। তাই বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা যেতে পারে। তবে হাড়ের সুস্থতা নিশ্চিত করতে শুধু ডিমের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়; পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, শারীরিক পরিশ্রম ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য: প্রয়োজন সচেতনতা

ডিমে কোলেস্টেরল থাকায় অনেকেই এটি খেতে দ্বিধা করেন। তবে খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরলের প্রভাব সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে ডিম সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে। ডিম খাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে অতিরিক্ত সম্পৃক্ত চর্বি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করা জরুরি।

যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, হৃদ্‌রোগ রয়েছে কিংবা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা আছে, তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে। ডিম নিজে থেকেই হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ করে বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

বিশ্ব খাদ্যব্যবস্থায় ডিমের গুরুত্ব

বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তার সংকট ও অপুষ্টি মোকাবিলায় পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যান্য অনেক প্রাণিজ খাবারের তুলনায় ডিম উৎপাদনে তুলনামূলক কম সম্পদ প্রয়োজন হয়। তবে উৎপাদনের পরিবেশগত প্রভাব নির্ভর করে খাদ্য, পানি, জ্বালানি, খামার ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর।

ডিম উৎপাদন ও বিপণন গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানেও অবদান রাখে। বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। ক্ষুদ্র খামার, খাদ্য উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের মাধ্যমে অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্র পরিসরে মুরগি পালন আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে পোলট্রি শিল্পের উন্নয়ন পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাসেও ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের ডিমশিল্পের চ্যালেঞ্জ

দেশে ডিমের উৎপাদন বাড়লেও খামারিদের উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদরের মধ্যে ভারসাম্য রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পোলট্রি খাদ্যের কাঁচামাল, বাচ্চা, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। আবার খামার থেকে ভোক্তার কাছে ডিম পৌঁছানোর পথে একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী যুক্ত থাকলে দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে খামারি ন্যায্য দাম পান না, আবার ভোক্তাকেও বেশি দামে ডিম কিনতে হয়।

এ সমস্যা সমাধানে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজারতথ্যের স্বচ্ছতা এবং খামারি ও বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। ক্ষুদ্র খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ, উন্নত প্রযুক্তি, রোগ প্রতিরোধ ও মানসম্মত পোলট্রি খাদ্যের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও কারসাজি প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ২০৩০ সালের মধ্যে ২০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না। ডিমের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। উৎপাদন, সরবরাহ ও ভোগ—এই তিন ক্ষেত্রেই সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি।

ডিম খাওয়ার অভ্যাস ও সতর্কতা

ডিমের পুষ্টিগুণ কাজে লাগাতে স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করে খাওয়া প্রয়োজন। সেদ্ধ বা অল্প তেলে রান্না করা ডিম ভালো বিকল্প। অতিরিক্ত তেল, লবণ ও চর্বিযুক্ত উপকরণ দিয়ে রান্না করলে খাবারের সামগ্রিক পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব বদলে যেতে পারে। ডিমের খোসা পরিষ্কার রাখা, নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং ভালোভাবে রান্না করাও গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া উচিত, তা বয়স, শারীরিক চাহিদা, সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই সবার জন্য একই পরিমাণ নির্ধারণ করা ঠিক নয়। বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা সাজানো উচিত।

উপসংহার

ডিম পুষ্টিকর, সহজলভ্য ও বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য একটি খাবার। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরের বৃদ্ধি, পেশি রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। শিশুর বিকাশ থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে ডিমের পুষ্টিগুণের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে হলে এর উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন, ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশ্ব ডিম দিবসের তাৎপর্য শুধু ডিম খাওয়ার উপকারিতা প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সবার জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী খাবারের সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারেও নিহিত।

আসুন, ডিমকে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ করি, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন হই এবং খামারি থেকে ভোক্তা—সবার স্বার্থ রক্ষায় একটি টেকসই ডিমশিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোগী হই। পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস ও কার্যকর জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ।

[লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি।]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬: অপুষ্টি প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্য গঠনে ডিমের ভূমিকা

প্রকাশের তারিখ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশ্ব ডিম দিবস আজ। দেশে বর্তমানে মাথাপিছু বছরে প্রায় ১৩৭টি ডিমের প্রাপ্যতা রয়েছে। তবে পোলট্রি খাদ্য, বাচ্চা, ওষুধ ও জ্বালানির দাম বাড়ায় ডিম উৎপাদনের খরচও বাড়ছে। অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব ও সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটির কারণে খামারির বিক্রয়মূল্য এবং খুচরা বাজারের দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হচ্ছে। এতে প্রান্তিক খামারিরা লোকসানের মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা ২০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।


প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ৫০ লাখ ডিম উৎপাদিত হয়। দৈনিক উৎপাদন ৬ কোটিরও বেশি। ফলে দেশে মাথাপিছু বার্ষিক ডিমের প্রাপ্যতা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৭টিতে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার পুষ্টিবিষয়ক নির্দেশনা অনুযায়ী, মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রাপ্যতা ও প্রকৃত ভোগ এক বিষয় নয়। উৎপাদন পর্যাপ্ত হলেই সবার খাদ্যতালিকায় ডিম নিশ্চিত হয় না। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা, বাজারদর ও খাদ্যাভ্যাসও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।


প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বব্যাপী ডিম দিবস পালিত হয়। আন্তর্জাতিক ডিম কমিশনের উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় প্রথম এ দিবস পালনের সূচনা হয়। এবারের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ‘শক্তি জোগায়, সুরক্ষা দেয় যে প্রোটিন’। ডিমের উচ্চমানের প্রোটিন এবং শারীরিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ ও সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এর ভূমিকা তুলে ধরাই এ প্রতিপাদ্যের লক্ষ্য। দিবসটি উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিশ্ব পোলট্রি বিজ্ঞান সমিতির বাংলাদেশ শাখা এবং বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্পের কেন্দ্রীয় পরিষদের যৌথ উদ্যোগে শোভাযাত্রা, সেমিনার ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।


ডিমের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব

অপুষ্টি প্রতিরোধ ও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে ডিম একটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড, বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। সহজলভ্যতা, তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্য এবং সহজে রান্না করার সুবিধার কারণে ডিম দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করতে পারে।


একটি মাঝারি আকারের ডিমে প্রায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম প্রোটিন এবং ৭০ থেকে ৮০ কিলোক্যালরি শক্তি থাকে। এতে ভিটামিন এ, ডি, বি৬ ও বি১২, আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস ও সেলেনিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। ডিমের কুসুমে থাকে কোলিন, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিমে থাকা প্রোটিন শরীরের কোষ গঠন, পেশি রক্ষণাবেক্ষণ ও ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে।


ডিমের প্রোটিনকে উচ্চমানের প্রোটিন বলা হয়, কারণ এতে শরীরের প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড রয়েছে। তাই শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিম ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সুস্বাস্থ্যের জন্য শুধু ডিমের ওপর নির্ভর না করে শাকসবজি, ফল, শস্য, ডাল, মাছ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের সমন্বয়ে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।


শিশুর বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে ডিম

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। ডিমের প্রোটিন শরীরের বৃদ্ধি ও কোষ গঠনে সহায়তা করে। এতে থাকা কোলিন মস্তিষ্কের বিকাশ ও স্মৃতিসংশ্লিষ্ট স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিমের অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে।


বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারের শিশুদের জন্য ডিম একটি উপকারী খাবার। তবে শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে ডিমের পাশাপাশি বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্য, নিরাপদ পানি, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। শিশুদের বয়স ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী ডিম দিতে হবে এবং খাদ্যনিরাপত্তার জন্য ডিম ভালোভাবে রান্না করে খাওয়ানো উচিত।


প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের জন্য ডিম

প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে প্রোটিন ও ভিটামিনের প্রয়োজন হয়। ডিমের প্রোটিন পেশি রক্ষণাবেক্ষণ ও শারীরিক পরিশ্রমের পর পেশির ক্ষয়পূরণে সহায়তা করে। এতে থাকা বি-ভিটামিন শরীরের স্বাভাবিক বিপাকপ্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে। ডিমের কুসুমে থাকা লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির শক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ বিশেষভাবে প্রয়োজন। ডিম সহজে রান্না করা যায় এবং এর পুষ্টিগুণও বেশি। তাই বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা যেতে পারে। তবে হাড়ের সুস্থতা নিশ্চিত করতে শুধু ডিমের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়; পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, শারীরিক পরিশ্রম ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও গুরুত্বপূর্ণ।


ডিম ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য: প্রয়োজন সচেতনতা

ডিমে কোলেস্টেরল থাকায় অনেকেই এটি খেতে দ্বিধা করেন। তবে খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরলের প্রভাব সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে ডিম সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে। ডিম খাওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে অতিরিক্ত সম্পৃক্ত চর্বি, লবণ ও অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করা জরুরি।


যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, হৃদ্‌রোগ রয়েছে কিংবা ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা আছে, তাঁদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে। ডিম নিজে থেকেই হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ করে বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।


বিশ্ব খাদ্যব্যবস্থায় ডিমের গুরুত্ব

বিশ্বজুড়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্যনিরাপত্তার সংকট ও অপুষ্টি মোকাবিলায় পুষ্টিকর খাবারের সহজলভ্যতা বাড়ানো জরুরি। এ ক্ষেত্রে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যান্য অনেক প্রাণিজ খাবারের তুলনায় ডিম উৎপাদনে তুলনামূলক কম সম্পদ প্রয়োজন হয়। তবে উৎপাদনের পরিবেশগত প্রভাব নির্ভর করে খাদ্য, পানি, জ্বালানি, খামার ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর।


ডিম উৎপাদন ও বিপণন গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানেও অবদান রাখে। বাংলাদেশের পোলট্রি শিল্পের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত। ক্ষুদ্র খামার, খাদ্য উৎপাদন, পরিবহন ও বিপণনের মাধ্যমে অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের ক্ষুদ্র পরিসরে মুরগি পালন আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করতে পারে। ফলে পোলট্রি শিল্পের উন্নয়ন পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাসেও ভূমিকা রাখতে পারে।


বাংলাদেশের ডিমশিল্পের চ্যালেঞ্জ

দেশে ডিমের উৎপাদন বাড়লেও খামারিদের উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদরের মধ্যে ভারসাম্য রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পোলট্রি খাদ্যের কাঁচামাল, বাচ্চা, ওষুধ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়। আবার খামার থেকে ভোক্তার কাছে ডিম পৌঁছানোর পথে একাধিক মধ্যস্বত্বভোগী যুক্ত থাকলে দাম বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে খামারি ন্যায্য দাম পান না, আবার ভোক্তাকেও বেশি দামে ডিম কিনতে হয়।


এ সমস্যা সমাধানে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারদরের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন, বাজারতথ্যের স্বচ্ছতা এবং খামারি ও বিক্রেতার মধ্যে সরাসরি সংযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। ক্ষুদ্র খামারিদের সহজ শর্তে ঋণ, উন্নত প্রযুক্তি, রোগ প্রতিরোধ ও মানসম্মত পোলট্রি খাদ্যের সুযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও কারসাজি প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।


মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ২০৩০ সালের মধ্যে ২০০টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না। ডিমের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে হবে। পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে হবে এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। উৎপাদন, সরবরাহ ও ভোগ—এই তিন ক্ষেত্রেই সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি।


ডিম খাওয়ার অভ্যাস ও সতর্কতা

ডিমের পুষ্টিগুণ কাজে লাগাতে স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করে খাওয়া প্রয়োজন। সেদ্ধ বা অল্প তেলে রান্না করা ডিম ভালো বিকল্প। অতিরিক্ত তেল, লবণ ও চর্বিযুক্ত উপকরণ দিয়ে রান্না করলে খাবারের সামগ্রিক পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যগত প্রভাব বদলে যেতে পারে। ডিমের খোসা পরিষ্কার রাখা, নিরাপদে সংরক্ষণ করা এবং ভালোভাবে রান্না করাও গুরুত্বপূর্ণ।


প্রতিদিন কতটি ডিম খাওয়া উচিত, তা বয়স, শারীরিক চাহিদা, সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর নির্ভর করে। তাই সবার জন্য একই পরিমাণ নির্ধারণ করা ঠিক নয়। বিশেষ স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা সাজানো উচিত।


উপসংহার

ডিম পুষ্টিকর, সহজলভ্য ও বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য একটি খাবার। এতে থাকা উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অপরিহার্য অ্যামাইনো অ্যাসিড শরীরের বৃদ্ধি, পেশি রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বাভাবিক শারীরিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। শিশুর বিকাশ থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক ও বয়স্কদের পুষ্টি চাহিদা পূরণেও ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।


তবে ডিমের পুষ্টিগুণের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে হলে এর উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন, ন্যায্য বাজারদর নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। পাশাপাশি সুষম খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশ্ব ডিম দিবসের তাৎপর্য শুধু ডিম খাওয়ার উপকারিতা প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সবার জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সাশ্রয়ী খাবারের সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারেও নিহিত।


আসুন, ডিমকে সুষম খাদ্যতালিকার অংশ করি, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন হই এবং খামারি থেকে ভোক্তা—সবার স্বার্থ রক্ষায় একটি টেকসই ডিমশিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোগী হই। পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস ও কার্যকর জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের সমন্বয়েই গড়ে উঠতে পারে সুস্থ, সবল ও কর্মক্ষম বাংলাদেশ।


[লেখক: প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি।]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত