সারের সংকট ও কৃষকের চাহিদাকে পুঁজি করে নীলফামারীর সৈয়দপুরে জৈব সারের নামে ভেজাল সার ও কীটনাশক উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগ উঠেছে। আকর্ষণীয় মোড়কে এসব পণ্য বাজারের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষক প্রতারিত হচ্ছেন, একই সঙ্গে ফসলের উৎপাদন ও জমির উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জানা গেছে, বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক পণ্যের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, ব্যাচ নম্বর ও নিবন্ধন নম্বর নেই। কোনো কোনো পণ্যে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়নি। নামি কোম্পানির পণ্যের আদলে মোড়ক তৈরি করায় আসল ও নকল পণ্য চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ কৃষকের পক্ষে শুধু মোড়ক দেখে পণ্যের মান যাচাই করা সম্ভব নয়। এর সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
জৈব সারের নামে বালু, মাটি, ছাই ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে পণ্য তৈরির অভিযোগও রয়েছে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে মানসম্মত সার ও কীটনাশকের বিকল্প নেই। প্রকৃত জৈব সার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জৈব উপাদান পচিয়ে তৈরি করতে হয়। মানহীন বা ভেজাল সার ব্যবহার করলে ফসল কাঙ্ক্ষিত পুষ্টি না-ও পেতে পারে। ভেজাল বা অনুপযুক্ত কীটনাশকের ব্যবহার ফসল, মাটি ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়লেও প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যায় না।
কৃষি মন্ত্রণালয় ভেজাল সার ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও সৈয়দপুরে নিয়মিত তদারকির ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ অভিযান চালানোর আশ্বাস দিয়েছে।
আমরা বলতে চাই, ভেজাল সার ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সন্দেহজনক পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে মান ও বৈধতা যাচাই করতে হবে। উৎপাদন কারখানা, গুদাম ও সরবরাহব্যবস্থায় অভিযান চালিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বাজারে নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে। অনুমোদিত সার ও কীটনাশক চেনার বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করতে হবে। কৃষির স্বার্থে ভেজাল সার ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
সারের সংকট ও কৃষকের চাহিদাকে পুঁজি করে নীলফামারীর সৈয়দপুরে জৈব সারের নামে ভেজাল সার ও কীটনাশক উৎপাদন ও বাজারজাতের অভিযোগ উঠেছে। আকর্ষণীয় মোড়কে এসব পণ্য বাজারের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষক প্রতারিত হচ্ছেন, একই সঙ্গে ফসলের উৎপাদন ও জমির উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জানা গেছে, বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক পণ্যের মোড়কে উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, ব্যাচ নম্বর ও নিবন্ধন নম্বর নেই। কোনো কোনো পণ্যে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানাও উল্লেখ করা হয়নি। নামি কোম্পানির পণ্যের আদলে মোড়ক তৈরি করায় আসল ও নকল পণ্য চেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাধারণ কৃষকের পক্ষে শুধু মোড়ক দেখে পণ্যের মান যাচাই করা সম্ভব নয়। এর সুযোগ নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
জৈব সারের নামে বালু, মাটি, ছাই ও বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে পণ্য তৈরির অভিযোগও রয়েছে। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে মানসম্মত সার ও কীটনাশকের বিকল্প নেই। প্রকৃত জৈব সার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জৈব উপাদান পচিয়ে তৈরি করতে হয়। মানহীন বা ভেজাল সার ব্যবহার করলে ফসল কাঙ্ক্ষিত পুষ্টি না-ও পেতে পারে। ভেজাল বা অনুপযুক্ত কীটনাশকের ব্যবহার ফসল, মাটি ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এতে কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়লেও প্রত্যাশিত ফলন পাওয়া যায় না।
কৃষি মন্ত্রণালয় ভেজাল সার ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলেও সৈয়দপুরে নিয়মিত তদারকির ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ অভিযান চালানোর আশ্বাস দিয়েছে।
আমরা বলতে চাই, ভেজাল সার ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সন্দেহজনক পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করে মান ও বৈধতা যাচাই করতে হবে। উৎপাদন কারখানা, গুদাম ও সরবরাহব্যবস্থায় অভিযান চালিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বাজারে নিয়মিত নজরদারি চালাতে হবে। অনুমোদিত সার ও কীটনাশক চেনার বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করতে হবে। কৃষির স্বার্থে ভেজাল সার ও কীটনাশকের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প নেই।

আপনার মতামত লিখুন