সংবাদ

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের আহ্বান


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের আহ্বান

​প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে রোগীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসায় অবহেলার নিরপেক্ষ তদন্তব্যবস্থা গঠন এবং দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সুস্পষ্ট করার জোর দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।

আজ র‌বিবার (১১ অক্টোবর) সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ), পাবলিক হেলথ ল ইয়ার্স নেটওয়ার্ক এবং সিটিজেন নেটওয়ার্ক-সিনেট যৌথভাবে "স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন: নাগরিক প্রত্যাশা" শীর্ষক এক অনলাইন ওয়েবিনারের আয়োজন করে। ওয়েবিনারে দেশের বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ স্বাস্থ্য আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

​ওয়েবিনারে মূল আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে রোগীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবা প্রদানকারী এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। প্রতিটি রোগীর মানসম্মত ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার, রোগের অবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার অধিকার, চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্মতি প্রদান, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং সম্মানজনক আচরণ পাওয়ার বিষয়গুলো আইনে অন্তর্ভুক্ত থাকা জরুরি। একই সঙ্গে চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা কিংবা রোগীর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত, মূল্যায়ন ও নিষ্পত্তির জন্য স্বচ্ছ ও সহজলভ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ, জনবলসংকট ও সীমিত অবকাঠামোর মধ্যে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শারীরিক নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা এবং সহিংসতা ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিধান যেন চিকিৎসায় অবহেলার নিরপেক্ষ তদন্তে বাধা সৃষ্টি না করে এবং রোগীর অধিকার রক্ষার নামে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন হয়রানি না ঘটে, তা আইনি প্রক্রিয়ায় সুনিশ্চিত করার তাগিদ দেন তারা।

​আলোচনায় যুক্ত হয়ে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন বলেন, "মানুষের বাড়ির কাছেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক সংস্কার নিশ্চিত করা না গেলে রোগীর অধিকার সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে না।"

​স্বাস্থ্য অধিকারকে আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোতে দেখার তাগিদ দিয়ে পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, "বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্বাস্থ্যকে জীবনের অধিকারের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। তাই স্বাস্থ্য অধিকারকে রাষ্ট্রীয় নীতি ও কার্যক্রমে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা যায়।"

​চিকিৎসা খাতের সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মমতাজ মৌ বলেন, "স্বাস্থ্য আইনে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা প্রশমনমূলক সেবা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।"

​প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব বলেন, "প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"

​সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্য আন্দোলনের আহ্বায়ক ও সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, "‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) পদ্ধতির আলোকে সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।"

​মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে আইনি রূপ দেওয়ার তাগিদ দিয়ে অ্যাডভোকেট শাহনেওয়াজ পাটোয়ারী বলেন, "স্বাস্থ্য আইনে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।"

​সিএলপিএর সিনিয়র পলিসি এনালিস্ট কামরুনন্নিছা মুন্নার সঞ্চালনায় এবং সিএলপিএর সভাপতি এ কে এম মাকসুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন ডা. আমিনুল হাসান, ডা. মাহবুব মুনতানবী এবং নাটাবের প্রকল্প পরিচালক ফিরোজ আহমেদসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রোগীর অধিকার সনদ, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নিষ্পত্তির নিরপেক্ষ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিতের মাধ্যমেই একটি যুগোপযোগী স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়নের আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে রোগীর মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসায় অবহেলার নিরপেক্ষ তদন্তব্যবস্থা গঠন এবং দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা সুস্পষ্ট করার জোর দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।

আজ র‌বিবার (১১ অক্টোবর) সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ), পাবলিক হেলথ ল ইয়ার্স নেটওয়ার্ক এবং সিটিজেন নেটওয়ার্ক-সিনেট যৌথভাবে "স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন: নাগরিক প্রত্যাশা" শীর্ষক এক অনলাইন ওয়েবিনারের আয়োজন করে। ওয়েবিনারে দেশের বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ স্বাস্থ্য আইনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

​ওয়েবিনারে মূল আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে রোগীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেবা প্রদানকারী এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। প্রতিটি রোগীর মানসম্মত ও বৈষম্যহীন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার, রোগের অবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানার অধিকার, চিকিৎসার ক্ষেত্রে সম্মতি প্রদান, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং সম্মানজনক আচরণ পাওয়ার বিষয়গুলো আইনে অন্তর্ভুক্ত থাকা জরুরি। একই সঙ্গে চিকিৎসায় অবহেলা, ভুল চিকিৎসা কিংবা রোগীর অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ গ্রহণ, নিরপেক্ষ তদন্ত, মূল্যায়ন ও নিষ্পত্তির জন্য স্বচ্ছ ও সহজলভ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, অতিরিক্ত রোগীর চাপ, জনবলসংকট ও সীমিত অবকাঠামোর মধ্যে দায়িত্ব পালন করা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের শারীরিক নিরাপত্তা, পেশাগত মর্যাদা এবং সহিংসতা ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিধান যেন চিকিৎসায় অবহেলার নিরপেক্ষ তদন্তে বাধা সৃষ্টি না করে এবং রোগীর অধিকার রক্ষার নামে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন হয়রানি না ঘটে, তা আইনি প্রক্রিয়ায় সুনিশ্চিত করার তাগিদ দেন তারা।

​আলোচনায় যুক্ত হয়ে বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন বলেন, "মানুষের বাড়ির কাছেই প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক সংস্কার নিশ্চিত করা না গেলে রোগীর অধিকার সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে না।"

​স্বাস্থ্য অধিকারকে আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোতে দেখার তাগিদ দিয়ে পাবলিক হেলথ লইয়ার্স নেটওয়ার্কের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার নিশাত মাহমুদ বলেন, "বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্বাস্থ্যকে জীবনের অধিকারের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। তাই স্বাস্থ্য অধিকারকে রাষ্ট্রীয় নীতি ও কার্যক্রমে যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করা যায়।"

​চিকিৎসা খাতের সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যবস্থার সংস্কার দাবি করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মমতাজ মৌ বলেন, "স্বাস্থ্য আইনে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা প্রশমনমূলক সেবা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।"

​প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বি-স্ক্যানের নির্বাহী পরিচালক সালমা মাহবুব বলেন, "প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"

​সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে স্বাস্থ্য আন্দোলনের আহ্বায়ক ও সাবেক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, "‘ওয়ান হেলথ’ (One Health) পদ্ধতির আলোকে সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।"

​মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে আইনি রূপ দেওয়ার তাগিদ দিয়ে অ্যাডভোকেট শাহনেওয়াজ পাটোয়ারী বলেন, "স্বাস্থ্য আইনে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।"

​সিএলপিএর সিনিয়র পলিসি এনালিস্ট কামরুনন্নিছা মুন্নার সঞ্চালনায় এবং সিএলপিএর সভাপতি এ কে এম মাকসুদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন ডা. আমিনুল হাসান, ডা. মাহবুব মুনতানবী এবং নাটাবের প্রকল্প পরিচালক ফিরোজ আহমেদসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, রোগীর অধিকার সনদ, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নিষ্পত্তির নিরপেক্ষ ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশের ভারসাম্য নিশ্চিতের মাধ্যমেই একটি যুগোপযোগী স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন প্রণয়ন সম্ভব হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত