আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সাম্প্রতিক তেলবাজার প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে ডিজেলের তীব্র সরবরাহ সংকট আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি উৎপাদন গভীরভাবে ব্যাহত হওয়া এবং ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোয় এ ধরনের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংস্থাটি বুধবার প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, "জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং পরিশোধন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ডিজেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
এর সরাসরি প্রভাবে গত সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত তেলের তুলনায় ডিজেল পরিশোধনের মুনাফার ব্যবধান ব্যারেলপ্রতি রেকর্ড প্রায় ৯৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
ডিজেলের এই অভাবনীয় মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, "পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনের খরচ বাড়ায় বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়ছে। এতে মানুষের প্রকৃত আয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মূল্যস্ফীতির ওপর তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে।"
চলতি বছরের শেষের দিকে তেল শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও মধ্যম ঘনত্বের জ্বালানির বাজারে সৃষ্ট বড় ধরনের ঘাটতি কেবল উৎপাদন বাড়িয়ে মেটানো সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতিতে ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইইএর সদস্যদেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়ার সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি দৈনিক সম্মিলিতভাবে ১৩ লাখ ব্যারেল কমেছে। শরৎকালীন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আসন্ন শীতকালে চাহিদা বাড়ার আগে যেখানে মজুত বৃদ্ধির কথা, সেখানে উল্টো দ্রুত মজুত কমে যাওয়া বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বের মোট তেলের চাহিদা দৈনিক ২৬ লাখ ব্যারেল কমতে পারে, যার প্রায় এক-চতুর্থাংশই কমবে ডিজেল থেকে।
অন্যদিকে, এ বছর বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ দৈনিক ৫৮ লাখ ব্যারেল কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ২০২৭ সালে সরবরাহ পুনরায় দৈনিক ৭৭ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮০ ডলারে স্থির রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সাম্প্রতিক তেলবাজার প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, বিশ্বজুড়ে ডিজেলের তীব্র সরবরাহ সংকট আগামী ২০২৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি উৎপাদন গভীরভাবে ব্যাহত হওয়া এবং ডিজেলের দাম রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছানোয় এ ধরনের উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংস্থাটি বুধবার প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, "জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং পরিশোধন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ডিজেল উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।"
এর সরাসরি প্রভাবে গত সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত তেলের তুলনায় ডিজেল পরিশোধনের মুনাফার ব্যবধান ব্যারেলপ্রতি রেকর্ড প্রায় ৯৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
ডিজেলের এই অভাবনীয় মূল্যবৃদ্ধি ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, "পণ্য উৎপাদন ও পরিবহনের খরচ বাড়ায় বিভিন্ন পণ্যের দামও বাড়ছে। এতে মানুষের প্রকৃত আয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মূল্যস্ফীতির ওপর তীব্র চাপ তৈরি হচ্ছে।"
চলতি বছরের শেষের দিকে তেল শোধনাগারগুলোর কার্যক্রম কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও মধ্যম ঘনত্বের জ্বালানির বাজারে সৃষ্ট বড় ধরনের ঘাটতি কেবল উৎপাদন বাড়িয়ে মেটানো সম্ভব হবে না। এই পরিস্থিতিতে ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইইএর সদস্যদেশগুলো তাদের জরুরি মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল ছাড়ার সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে ডিজেল রপ্তানি দৈনিক সম্মিলিতভাবে ১৩ লাখ ব্যারেল কমেছে। শরৎকালীন নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আসন্ন শীতকালে চাহিদা বাড়ার আগে যেখানে মজুত বৃদ্ধির কথা, সেখানে উল্টো দ্রুত মজুত কমে যাওয়া বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বের মোট তেলের চাহিদা দৈনিক ২৬ লাখ ব্যারেল কমতে পারে, যার প্রায় এক-চতুর্থাংশই কমবে ডিজেল থেকে।
অন্যদিকে, এ বছর বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ দৈনিক ৫৮ লাখ ব্যারেল কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ২০২৭ সালে সরবরাহ পুনরায় দৈনিক ৭৭ লাখ ব্যারেল বৃদ্ধি পেলে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৮০ ডলারে স্থির রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন