শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ ও সরবরাহের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ব্যবসায়ী নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠন করেছে সরকার।
শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনা করে কোন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা যেতে পারে, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে এই কমিটি। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।
দেশে গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। দেশীয় খনির গ্যাস ও আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প উৎপাদনেও নেমে আসছে স্থবিরতা।
শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট এখন কেবল উৎপাদন ব্যয়ের সমস্যা নয়; নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্প সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসনির্ভর শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ না থাকলে উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও পেট্রোবাংলায় নতুন গ্যাস সংযোগ এবং বিদ্যমান সংযোগের লোড বৃদ্ধির জন্য প্রায় দুই হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আবেদন জমা পড়ে আছে।
কিন্তু চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় এসব আবেদন নিষ্পত্তি এবং কোন প্রতিষ্ঠানকে আগে সংযোগ বা বাড়তি গ্যাস দেওয়া হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে অগ্রাধিকার নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
গত ১৩ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জারি করা এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। এর আগে ৮ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় গ্যাস সরবরাহসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন: বিকেএমইএ-এর একজন পরিচালক, বিজিএমইএ-এর একজন পরিচালক, বিটিএমইএ-এর প্রতিনিধিবিটিএলএমইএ-এর সভাপতি, বিটিএমএ-এর সভাপতি, সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব হায়দার, সব গ্যাস বিতরণ ও বিপণন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ, জিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এছাড়া পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে: বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে পাওয়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে আগামী সাত দিনের মধ্যে সরবরাহের সুপারিশ দিতে হবে। প্রয়োজনে কমিটি উপযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট এক বা একাধিক সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে।
অর্থাৎ, গ্যাস সংযোগের আবেদনগুলো বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মতামত ও সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে চূড়ান্তভাবে কোন প্রতিষ্ঠান গ্যাস পাবে, কী পরিমাণ গ্যাস পাবে এবং কখন সরবরাহ শুরু হবে; এসব বিষয়ে বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্ত ও সরবরাহ সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাসের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে সরকারের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সংযোগ দেওয়া এবং বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে; অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মাধ্যমে পাওয়া সরবরাহ দিয়ে সব খাতের চাহিদা একসঙ্গে পূরণ করা কঠিন।
এ অবস্থায় কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে আগে সংযোগ দেওয়া হবে, কোন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে গ্যাস সরবরাহের প্রভাব বেশি, কোন আবেদন কত দিন ধরে ঝুলে আছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাস্তবে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা কতটুকু, এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তার মতে, শুধু আবেদন জমা দেওয়ার ক্রমানুসারে সিদ্ধান্ত নিলে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অবদানের পার্থক্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। আবার সুস্পষ্ট মানদণ্ড ছাড়া অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হলে বৈষম্য, প্রভাব খাটানো কিংবা সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সে কারণে কমিটির সুপারিশে যাচাইযোগ্য তথ্য, অভিন্ন মানদণ্ড এবং সিদ্ধান্তের যুক্তি প্রকাশের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা।
তবে শিল্পের চাহিদা ও গ্যাসের সীমিত সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং নতুন বিনিয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ অক্টোবর ২০২৬
শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ ও সরবরাহের অগ্রাধিকার নির্ধারণে ব্যবসায়ী নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠন করেছে সরকার।
শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া গ্যাস সংযোগ সংক্রান্ত আবেদন পর্যালোচনা করে কোন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ করা যেতে পারে, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে এই কমিটি। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।
দেশে গ্যাস সংকট দীর্ঘদিনের। দেশীয় খনির গ্যাস ও আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) দিয়ে চাহিদার দুই-তৃতীয়াংশ মেটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প উৎপাদনেও নেমে আসছে স্থবিরতা।
শিল্প খাতে গ্যাসের সংকট এখন কেবল উৎপাদন ব্যয়ের সমস্যা নয়; নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও শিল্প সম্প্রসারণের ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্যাসনির্ভর শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ না থাকলে উৎপাদন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি ও পেট্রোবাংলায় নতুন গ্যাস সংযোগ এবং বিদ্যমান সংযোগের লোড বৃদ্ধির জন্য প্রায় দুই হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আবেদন জমা পড়ে আছে।
কিন্তু চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় এসব আবেদন নিষ্পত্তি এবং কোন প্রতিষ্ঠানকে আগে সংযোগ বা বাড়তি গ্যাস দেওয়া হবে, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে অগ্রাধিকার নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
গত ১৩ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জারি করা এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। এর আগে ৮ অক্টোবর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় গ্যাস সরবরাহসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত হয়।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানকে। এতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন: বিকেএমইএ-এর একজন পরিচালক, বিজিএমইএ-এর একজন পরিচালক, বিটিএমইএ-এর প্রতিনিধিবিটিএলএমইএ-এর সভাপতি, বিটিএমএ-এর সভাপতি, সাবেক পরিচালক প্রকৌশলী রাজীব হায়দার, সব গ্যাস বিতরণ ও বিপণন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকগণ, জিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এছাড়া পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে: বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে গ্যাস সংযোগের বিষয়ে পাওয়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে আগামী সাত দিনের মধ্যে সরবরাহের সুপারিশ দিতে হবে। প্রয়োজনে কমিটি উপযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট এক বা একাধিক সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে।
অর্থাৎ, গ্যাস সংযোগের আবেদনগুলো বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের মতামত ও সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে চূড়ান্তভাবে কোন প্রতিষ্ঠান গ্যাস পাবে, কী পরিমাণ গ্যাস পাবে এবং কখন সরবরাহ শুরু হবে; এসব বিষয়ে বাস্তবায়নযোগ্য সিদ্ধান্ত ও সরবরাহ সক্ষমতা নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।
পেট্রোবাংলার সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা সংবাদকে বলেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের গ্যাসের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে সরকারের সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একদিকে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সংযোগ দেওয়া এবং বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের প্রয়োজন রয়েছে; অন্যদিকে, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) মাধ্যমে পাওয়া সরবরাহ দিয়ে সব খাতের চাহিদা একসঙ্গে পূরণ করা কঠিন।
এ অবস্থায় কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে আগে সংযোগ দেওয়া হবে, কোন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে গ্যাস সরবরাহের প্রভাব বেশি, কোন আবেদন কত দিন ধরে ঝুলে আছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাস্তবে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা কতটুকু, এসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তার মতে, শুধু আবেদন জমা দেওয়ার ক্রমানুসারে সিদ্ধান্ত নিলে উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অবদানের পার্থক্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত নাও হতে পারে। আবার সুস্পষ্ট মানদণ্ড ছাড়া অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হলে বৈষম্য, প্রভাব খাটানো কিংবা সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সে কারণে কমিটির সুপারিশে যাচাইযোগ্য তথ্য, অভিন্ন মানদণ্ড এবং সিদ্ধান্তের যুক্তি প্রকাশের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন কমিটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা আবেদনগুলোর নিষ্পত্তিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন শিল্প খাত সংশ্লিষ্টরা।
তবে শিল্পের চাহিদা ও গ্যাসের সীমিত সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং নতুন বিনিয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আপনার মতামত লিখুন