মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তার ঠেকাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও গুরুত্বের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।
আঞ্চলিক চলমান উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো, আলোচনার নতুন পথ উন্মুক্ত করা এবং দীর্ঘমেহাদি সংকটের অবসান ঘটিয়ে পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য বলে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এক বিবৃতিতে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে, অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে আবার বেড়ে যাওয়া যেকোনো মূল্যে ঠেকাতে আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে রিয়াদ। একই সঙ্গে বর্তমান সংকটের দ্রুত অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ তৈরি করাও অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে এই ত্রিমুখী জোটের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে অত্যন্ত দূরদর্শী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
চলমান এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। তেহরানে তাদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখোমুখি বসেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই চার দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই গোপন ও নীতিনির্ধারক বৈঠক আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
এর আগে গত আগস্ট মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব মিলে অত্যন্ত কৌশলগতভাবে একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর যদি কোনো সশস্ত্র হামলা চালানো হয়, তবে সেটি পুরো জোটের সব সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা গত মাসে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করার পর এই প্রথম তিন দেশের এই সামরিক ও কৌশলগত জোটের সব সদস্যের সঙ্গে ইরানের সরাসরি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বড় ধরনের সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো সামরিক উত্তেজনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো উপায়ে প্রতিহত করা এবং বর্তমান সংকটের একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা। তবে তেহরানের এই গোপন বৈঠক থেকে শেষ পর্যন্ত ঠিক কী ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতা বা ফলাফল আসতে পারে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তার ঠেকাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও গুরুত্বের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শুরু হয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন।
আঞ্চলিক চলমান উত্তেজনা উল্লেখযোগ্য হারে কমানো, আলোচনার নতুন পথ উন্মুক্ত করা এবং দীর্ঘমেহাদি সংকটের অবসান ঘটিয়ে পুরো অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাই এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য বলে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের এক বিবৃতিতে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছে যে, অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা নতুন করে আবার বেড়ে যাওয়া যেকোনো মূল্যে ঠেকাতে আলোচনার পথ উন্মুক্ত রাখার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে রিয়াদ। একই সঙ্গে বর্তমান সংকটের দ্রুত অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ তৈরি করাও অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে এই ত্রিমুখী জোটের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে অত্যন্ত দূরদর্শী ও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
চলমান এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সৌদি আরবের পক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান আল সৌদ, পাকিস্তানের প্রভাবশালী সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন সরাসরি অংশ নিচ্ছেন। তেহরানে তাদের সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখোমুখি বসেছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই চার দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই গোপন ও নীতিনির্ধারক বৈঠক আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
এর আগে গত আগস্ট মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব মিলে অত্যন্ত কৌশলগতভাবে একটি ঐতিহাসিক যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর যদি কোনো সশস্ত্র হামলা চালানো হয়, তবে সেটি পুরো জোটের সব সদস্য রাষ্ট্রের ওপর হামলা হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। ইয়েমেনের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিরা গত মাসে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করার পর এই প্রথম তিন দেশের এই সামরিক ও কৌশলগত জোটের সব সদস্যের সঙ্গে ইরানের সরাসরি এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে বর্তমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং বড় ধরনের সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো সামরিক উত্তেজনা নতুন করে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো উপায়ে প্রতিহত করা এবং বর্তমান সংকটের একটি স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করা। তবে তেহরানের এই গোপন বৈঠক থেকে শেষ পর্যন্ত ঠিক কী ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতা বা ফলাফল আসতে পারে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত বিবৃতিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন