সংবাদ

পুলিশপ্রধানের বক্তব্যে নিন্দা, উদ্বেগ ও আল্টিমেটাম


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম

পুলিশপ্রধানের বক্তব্যে নিন্দা, উদ্বেগ ও আল্টিমেটাম
ছবি: সংবাদ কোলাজ

  • আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্যকে বিপজ্জনক বার্তা বলল টিআইবি
  • সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্যের জেরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম
  • বিতর্কের মুখে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো হলো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা

সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে; পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটির মতে, এই বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা মোকাবিলার পরিবর্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা দেয়।

আইজিপির বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা গ্রহণ, প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়াসহ বক্তব্য প্রত্যাহার এবং তাঁর প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে টিআইবি। পাশাপাশি, জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বানও জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের ব্যর্থতার ঢাল হিসেবে পুলিশপ্রধান কি ঘৃণিত ক্রসফায়ারকে ব্যবহার করতে চাইছেন? সরকারের অনুমতির শর্ত জুড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার পথ খোঁজা কি একই সঙ্গে আইনসম্মতভাবে অপরাধ দমনে ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি নয়? পেশাদার তদন্ত, অপরাধী শনাক্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করার বিকল্প হিসেবে ক্রসফায়ারকে সামনে আনাকে তিনি পেশাগত দেউলিয়াত্বের এক চরম দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনো সরকারের অনুমতিই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধ করতে পারে না। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার কোনো নির্বাহী সিদ্ধান্তে বাতিল করা যায় না। অভিযোগ যতই গুরুতর হোক না কেন, বিচারপ্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে কাউকে হত্যার কোনো এখতিয়ার পুলিশের নেই।

কক্সবাজারে মেজর সিনহা হত্যা, টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হত্যা ও নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মতো অতীত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, অতীতের অপরাধ থেকে পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে, আজ তার উত্তর আইজিপিকেই দিতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, পুলিশপ্রধানের এমন বেপরোয়া ও অপরিণামদর্শী বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বেআইনি বলপ্রয়োগের এক ধরনের প্রচ্ছন্ন ছাড়পত্র হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে। যার মূল দায়িত্ব বাহিনীকে আইনের মধ্য থেকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা, তিনিই যদি ক্রসফায়ারকে বিকল্প হিসেবে সামনে আনেন, তবে তার দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা সম্পূর্ণ অনিবার্য। তার নেতৃত্বে সাধারণ নাগরিকের জীবন ও আইনি সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত হবে, জনগণ সেই আস্থা রাখবে কোথায়; এই অসংগতির ব্যাখ্যা এবং ঘোষিত অবস্থান বাস্তবায়নে তার জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সরকারকে তা স্পষ্টভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে বলে জানিয়েছে টিআইবি।

এর আগে সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিকের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এ্যালাউ করে, আমরা সেটাই করব। কে আসবে, কবে আসবে, কী হবে; সেটা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয় নয়। আমাদের মূল দায়িত্ব, আইন ও সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেটাই আমরা করব।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি লাঠিপেটা করি, বলবে আমরা ফ্যাসিস্ট পুলিশ, আর যদি নীরবে থাকি তাহলে বলবে দুর্বল পুলিশ। আমাকে তো কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে, এমপাওয়ার করতে হবে।

মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকেরা লিখছেন পুলিশ অকার্যকর; এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন। এটা স্বীকার করে নিয়ে আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী আমাকে দায়িত্ব পালন করতে দিন। এ সময় তিনি জনগণকে পুলিশের বিরুদ্ধে ছড়ানো কোনো ধরনের গুজব বা মিথ্যা অভিযোগে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান।

এদিকে চকবাজারের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব)।

ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিয়ে এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। মাদক কারবার, অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। আইজিপির মতো এত দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। কোনো পুলিশ সদস্যের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে, কিন্তু ঢালাও নেতিবাচক মন্তব্য করে সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাওয়া হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে ডিআরইউ।

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য এবং সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠলে সন্ধ্যার পর গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়, আইজিপি মূলত আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতেই ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্যে তিনি এই শব্দ ব্যবহার করেননি। এছাড়া সাংবাদিকদের চাঁদাবাজি নিয়ে যে মন্তব্য এসেছে, সেটি প্রকৃত অর্থে তিনি ঢালাওভাবে বলতে চাননি, বরং তা অসাবধানতাবশত হয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে চার পুলিশ সদস্য নিহত ও ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

দেশের প্রচলিত আইনে পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকারের বিধান রয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


পুলিশপ্রধানের বক্তব্যে নিন্দা, উদ্বেগ ও আল্টিমেটাম

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

  • আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্যকে বিপজ্জনক বার্তা বলল টিআইবি
  • সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্যের জেরে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম
  • বিতর্কের মুখে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে পাঠানো হলো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা

সরকারের অনুমতি পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করবে; পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটির মতে, এই বক্তব্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা মোকাবিলার পরিবর্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য হাতিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠার একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা দেয়।

আইজিপির বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা গ্রহণ, প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়াসহ বক্তব্য প্রত্যাহার এবং তাঁর প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছে টিআইবি। পাশাপাশি, জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের আহ্বানও জানিয়েছে দুর্নীতিবিরোধী এই আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিজেদের ব্যর্থতার ঢাল হিসেবে পুলিশপ্রধান কি ঘৃণিত ক্রসফায়ারকে ব্যবহার করতে চাইছেন? সরকারের অনুমতির শর্ত জুড়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেওয়ার পথ খোঁজা কি একই সঙ্গে আইনসম্মতভাবে অপরাধ দমনে ব্যর্থতার স্বীকারোক্তি নয়? পেশাদার তদন্ত, অপরাধী শনাক্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করার বিকল্প হিসেবে ক্রসফায়ারকে সামনে আনাকে তিনি পেশাগত দেউলিয়াত্বের এক চরম দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন।

তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কোনো সরকারের অনুমতিই বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধ করতে পারে না। সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে সুরক্ষিত আইনের আশ্রয়লাভ এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার কোনো নির্বাহী সিদ্ধান্তে বাতিল করা যায় না। অভিযোগ যতই গুরুতর হোক না কেন, বিচারপ্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে কাউকে হত্যার কোনো এখতিয়ার পুলিশের নেই।

কক্সবাজারে মেজর সিনহা হত্যা, টেকনাফের কাউন্সিলর একরামুল হত্যা ও নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মতো অতীত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, অতীতের অপরাধ থেকে পুলিশ কী শিক্ষা নিয়েছে, আজ তার উত্তর আইজিপিকেই দিতে হবে।

ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, পুলিশপ্রধানের এমন বেপরোয়া ও অপরিণামদর্শী বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বেআইনি বলপ্রয়োগের এক ধরনের প্রচ্ছন্ন ছাড়পত্র হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে। যার মূল দায়িত্ব বাহিনীকে আইনের মধ্য থেকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা, তিনিই যদি ক্রসফায়ারকে বিকল্প হিসেবে সামনে আনেন, তবে তার দায়িত্ববোধ ও নেতৃত্বের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা সম্পূর্ণ অনিবার্য। তার নেতৃত্বে সাধারণ নাগরিকের জীবন ও আইনি সুরক্ষা কীভাবে নিশ্চিত হবে, জনগণ সেই আস্থা রাখবে কোথায়; এই অসংগতির ব্যাখ্যা এবং ঘোষিত অবস্থান বাস্তবায়নে তার জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সরকারকে তা স্পষ্টভাবে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে বলে জানিয়েছে টিআইবি।

এর আগে সোমবার দুপুরে পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিকের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি এ্যালাউ করে, আমরা সেটাই করব। কে আসবে, কবে আসবে, কী হবে; সেটা আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেখার বিষয় নয়। আমাদের মূল দায়িত্ব, আইন ও সংবিধান অনুযায়ী যখন যেখানে যা প্রয়োগ করা দরকার, সেটাই আমরা করব।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি লাঠিপেটা করি, বলবে আমরা ফ্যাসিস্ট পুলিশ, আর যদি নীরবে থাকি তাহলে বলবে দুর্বল পুলিশ। আমাকে তো কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে, এমপাওয়ার করতে হবে।

মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকেরা লিখছেন পুলিশ অকার্যকর; এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত পুলিশের প্রয়োজন। এটা স্বীকার করে নিয়ে আইন এবং সংবিধান অনুযায়ী আমাকে দায়িত্ব পালন করতে দিন। এ সময় তিনি জনগণকে পুলিশের বিরুদ্ধে ছড়ানো কোনো ধরনের গুজব বা মিথ্যা অভিযোগে বিশ্বাস না করার আহ্বান জানান।

এদিকে চকবাজারের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব)।

ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিয়ে এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। মাদক কারবার, অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ। আইজিপির মতো এত দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের মন্তব্য করা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। কোনো পুলিশ সদস্যের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে, কিন্তু ঢালাও নেতিবাচক মন্তব্য করে সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাওয়া হলে স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে ডিআরইউ।

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য এবং সাংবাদিকদের নিয়ে করা মন্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠলে সন্ধ্যার পর গণমাধ্যমে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স।

সদরদপ্তর থেকে জানানো হয়, আইজিপি মূলত আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতেই ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্যে তিনি এই শব্দ ব্যবহার করেননি। এছাড়া সাংবাদিকদের চাঁদাবাজি নিয়ে যে মন্তব্য এসেছে, সেটি প্রকৃত অর্থে তিনি ঢালাওভাবে বলতে চাননি, বরং তা অসাবধানতাবশত হয়েছে।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যাতে চার পুলিশ সদস্য নিহত ও ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

দেশের প্রচলিত আইনে পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকারের বিধান রয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত