সংবাদ

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এমডি নিয়োগে চাই স্বচ্ছতা


রেজাউল করিম খোকন
রেজাউল করিম খোকন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৭ এএম

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এমডি নিয়োগে চাই স্বচ্ছতা

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকট মোকাবিলা, খেলাপি ঋণ আদায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দক্ষ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। অথচ এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক চলছে। গত সেপ্টেম্বরে অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংকের এমডিদের চুক্তি বাতিল করে সরকার। নতুন এমডি নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না—এমন আলোচনার মধ্যে নিয়োগনীতির পরিবর্তনও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞ, সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা এখন জরুরি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগের জন্য ২০২৬ সালের নতুন নীতিমালা জারি করেছে। এতে এমডি বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত রাখা হয়েছে। প্রার্থীকে বর্তমানে বা আগে কোনো ব্যাংকের এমডি পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে, অথবা অব্যবহিত আগের পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সুনামসম্পন্ন প্রার্থীর ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল করা যাবে। এ ছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা, সততা, কর্মজীবনের সুনাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ বিষয়ে জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে নমনীয়তা রাখা অযৌক্তিক নয়। কিন্তু সেই সুযোগ যেন নির্দিষ্ট কাউকে নিয়োগ দেওয়ার পথ তৈরি না করে। এক বছরে বারবার নিয়োগনীতি পরিবর্তন কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। প্রচলিত নিয়মে যোগ্যতা অর্জন করেও অনেকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করে নতুন প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। নীতিমালা পরিবর্তনের কারণ, অনুমোদনপ্রক্রিয়া এবং তার ভিত্তিতে নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হলে স্বচ্ছতা বাড়বে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন কাজ করা অনেক কর্মকর্তার শাখা ব্যবস্থাপনা, ঋণ প্রশাসন, বৈদেশিক বাণিজ্য, নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতাও অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন করা দরকার। পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক যোগাযোগ বা ব্যক্তিগত প্রভাব নয়, সততা, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংক থেকে যোগ্য প্রার্থী নেওয়ার সুযোগ থাকলে তাঁদেরও একই মানদণ্ডে যাচাই করতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নেতৃত্বের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সোনালী ব্যাংক ছাড়া অন্য সরকারি ব্যাংকগুলোর লোকসান, খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি ও প্রভিশনসংকট উদ্বেগজনক। দীর্ঘদিন ঋণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল তদারকির কারণে ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় তারল্য সহায়তা দিয়েও সব সমস্যার সমাধান করা যায়নি। কারণ, খেলাপি ঋণই একমাত্র সমস্যা নয়। দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং জবাবদিহির অভাবও ব্যাংকগুলোর সংকট বাড়িয়েছে।

এ অবস্থায় এমডি নিয়োগের জন্য শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির মেয়াদ বিবেচনা করলেই চলবে না। প্রার্থীর ঋণ ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম শনাক্তকরণ, খেলাপি ঋণ আদায়, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা যাচাই করতে হবে। অতীতে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা ও সুশাসনের রেকর্ডও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বাছাই কমিটির সুপারিশ, গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। নিয়োগের প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।

একই সঙ্গে নিয়োগনীতি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল হওয়া দরকার। প্রয়োজন ছাড়া বারবার শর্ত পরিবর্তন করলে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়বে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপর আস্থা কমবে। নীতিমালা সংশোধন করতে হলে তার যৌক্তিকতা প্রকাশ করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে কতজন কর্মকর্তা এমডি পদে নিয়োগের যোগ্যতা পূরণ করছেন, তাঁদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না কেন—এসব তথ্য প্রকাশ করা উচিত। এতে অযথা বিতর্ক কমবে এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে।

ব্যাংক খাতের সংকট কাটাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া ঋণ আদায়, সম্পদের মান যাচাই, মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করাও জরুরি। এসব কাজে এমডিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তাই তাঁদের নিয়োগে পেশাগত সততার পাশাপাশি কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও যাচাই করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পদ কেবল একটি চাকরি নয়। এর সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ, সরকারি সম্পদ এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা জড়িত। তাই এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের পছন্দ বা প্রভাবের পরিবর্তে যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। স্বচ্ছ নিয়োগনীতি, নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সংকট থেকে উত্তরণের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এমডি নিয়োগে চাই স্বচ্ছতা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকট মোকাবিলা, খেলাপি ঋণ আদায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দক্ষ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। অথচ এসব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক চলছে। গত সেপ্টেম্বরে অগ্রণী ব্যাংক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংকের এমডিদের চুক্তি বাতিল করে সরকার। নতুন এমডি নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না—এমন আলোচনার মধ্যে নিয়োগনীতির পরিবর্তনও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শীর্ষ পদে অভিজ্ঞ, সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করা এখন জরুরি।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে নিয়োগের জন্য ২০২৬ সালের নতুন নীতিমালা জারি করেছে। এতে এমডি বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগের জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অন্তত ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার শর্ত রাখা হয়েছে। প্রার্থীকে বর্তমানে বা আগে কোনো ব্যাংকের এমডি পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে, অথবা অব্যবহিত আগের পদে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তবে বিশেষ দক্ষতা, পেশাগত যোগ্যতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সুনামসম্পন্ন প্রার্থীর ক্ষেত্রে এ শর্ত শিথিল করা যাবে। এ ছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতা, সততা, কর্মজীবনের সুনাম এবং তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা ও অর্থ পাচার প্রতিরোধ বিষয়ে জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে নমনীয়তা রাখা অযৌক্তিক নয়। কিন্তু সেই সুযোগ যেন নির্দিষ্ট কাউকে নিয়োগ দেওয়ার পথ তৈরি না করে। এক বছরে বারবার নিয়োগনীতি পরিবর্তন কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। প্রচলিত নিয়মে যোগ্যতা অর্জন করেও অনেকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, অভিজ্ঞতার শর্ত শিথিল করে নতুন প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। নীতিমালা পরিবর্তনের কারণ, অনুমোদনপ্রক্রিয়া এবং তার ভিত্তিতে নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হলে স্বচ্ছতা বাড়বে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে দীর্ঘদিন কাজ করা অনেক কর্মকর্তার শাখা ব্যবস্থাপনা, ঋণ প্রশাসন, বৈদেশিক বাণিজ্য, নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁদের কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতাও অর্জন করেছেন। তাঁদের মধ্যে যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়ন করা দরকার। পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক যোগাযোগ বা ব্যক্তিগত প্রভাব নয়, সততা, অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও কর্মদক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বেসরকারি ব্যাংক থেকে যোগ্য প্রার্থী নেওয়ার সুযোগ থাকলে তাঁদেরও একই মানদণ্ডে যাচাই করতে হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি নেতৃত্বের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সোনালী ব্যাংক ছাড়া অন্য সরকারি ব্যাংকগুলোর লোকসান, খেলাপি ঋণ, মূলধন ঘাটতি ও প্রভিশনসংকট উদ্বেগজনক। দীর্ঘদিন ঋণ অনিয়ম, দুর্নীতি ও দুর্বল তদারকির কারণে ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় তারল্য সহায়তা দিয়েও সব সমস্যার সমাধান করা যায়নি। কারণ, খেলাপি ঋণই একমাত্র সমস্যা নয়। দুর্বল করপোরেট সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ঘাটতি এবং জবাবদিহির অভাবও ব্যাংকগুলোর সংকট বাড়িয়েছে।

এ অবস্থায় এমডি নিয়োগের জন্য শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা ও চাকরির মেয়াদ বিবেচনা করলেই চলবে না। প্রার্থীর ঋণ ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম শনাক্তকরণ, খেলাপি ঋণ আদায়, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা যাচাই করতে হবে। অতীতে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা ও সুশাসনের রেকর্ডও পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। বাছাই কমিটির সুপারিশ, গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। নিয়োগের প্রতিটি ধাপে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।

একই সঙ্গে নিয়োগনীতি দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল হওয়া দরকার। প্রয়োজন ছাড়া বারবার শর্ত পরিবর্তন করলে কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়বে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার ওপর আস্থা কমবে। নীতিমালা সংশোধন করতে হলে তার যৌক্তিকতা প্রকাশ করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে কতজন কর্মকর্তা এমডি পদে নিয়োগের যোগ্যতা পূরণ করছেন, তাঁদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না কেন—এসব তথ্য প্রকাশ করা উচিত। এতে অযথা বিতর্ক কমবে এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হবে।

ব্যাংক খাতের সংকট কাটাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। অনিয়মের মাধ্যমে দেওয়া ঋণ আদায়, সম্পদের মান যাচাই, মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করাও জরুরি। এসব কাজে এমডিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তাই তাঁদের নিয়োগে পেশাগত সততার পাশাপাশি কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও যাচাই করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পদ কেবল একটি চাকরি নয়। এর সঙ্গে আমানতকারীদের অর্থ, সরকারি সম্পদ এবং দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা জড়িত। তাই এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের পছন্দ বা প্রভাবের পরিবর্তে যোগ্যতা, সততা, অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। স্বচ্ছ নিয়োগনীতি, নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ও কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে সংকট থেকে উত্তরণের পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংকার]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত