সংবাদ

পর্যটনে নিরাপত্তা: আগুন লাগে, দায় নেয় না কেউ


মামুন হাসান
মামুন হাসান
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ এএম

পর্যটনে নিরাপত্তা: আগুন লাগে, দায় নেয় না কেউ
গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে

কক্সবাজারের ইনানীতে আগুনে দশজন পর্যটকের মৃত্যু আমাদের পর্যটনশিল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। হাসপাতালে বসে এক স্বামী বলছিলেন, আর দশ মিনিট সময় পেলে তার স্ত্রীও নিচে নেমে আসতে পারতেন। এই কথায় দুর্ঘটনার গভীর বেদনা ফুটে ওঠে। মানুষগুলো শুধু আগুনে প্রাণ হারাননি, হারিয়েছেন সময়মতো উদ্ধার ও নিরাপদে বেরিয়ে আসার সুযোগও। পর্যটককে স্বাগত জানাতে আমরা যতটা আগ্রহী, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ততটাই পিছিয়ে।

গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। কাঠ ও বাঁশে তৈরি তিনতলা ভবনটিতে নিচে ছিল রেস্তোরাঁ। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ওপরের তলা ধসে যায়। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও পাঁচ বছরের একটি শিশুও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাতের সন্দেহ করা হয়েছে। তবে আগুনের কারণ তদন্তে নিশ্চিত হবে। তার চেয়েও জরুরি প্রশ্ন হলো, সামান্য আগুনে এত মানুষের মৃত্যু কীভাবে সম্ভব হলো?

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না। জুন মাসেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অথচ অতিথি রাখা বন্ধ হয়নি। ভবনে জরুরি বহির্গমন পথও ছিল না। একমাত্র কাঠের সিঁড়িটি ছিল রান্নাঘর ও জেনারেটর কক্ষের মাঝখানে। নিকটতম ফায়ার স্টেশনও ছিল প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। অর্থাৎ বিপদের আশঙ্কা জানা থাকলেও প্রতিরোধ ও উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রথম কয়েক মিনিটের যথাযথ প্রস্তুতি হয়তো অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারত।

এই ব্যর্থতা কোনো একক ভুলের ফল নয়। অনিরাপদ ভবন, দাহ্য নির্মাণসামগ্রী, পালানোর পথের অভাব, দুর্বল তদারকি এবং দমকলের দূরত্ব—সব মিলিয়ে বিপর্যয় ঘটেছে। কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এর অনেকগুলো বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন ছাড়াই চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে দশটি উপজেলার জন্য জনবল মাত্র আটজন। এই সীমাবদ্ধতা তদারকির দুর্বলতা বোঝায়। তবে জনবলসংকটকে দায় এড়ানোর অজুহাত করা যাবে না।

এখানে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার পর ব্যবস্থা নেওয়ার দায় কার, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। এক সংস্থা সতর্ক করবে, অন্য সংস্থা ব্যবস্থা নেবে—এমন অস্পষ্টতার সুযোগে বিপজ্জনক প্রতিষ্ঠান চালু থাকলে শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির দায় কেউ স্বীকার করবে না। তাই শুধু তদন্ত কমিটি গঠন নয়, দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

পর্যটন মূলত আস্থার ওপর নির্ভরশীল। একজন পর্যটক সুন্দর দৃশ্যের পাশাপাশি নিরাপদ আবাসনও চান। বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন ও নদী পর্যটনের বড় সম্পদ। কিন্তু পর্যটনকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে শিশু ও নারীসহ মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়ালে সেই সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়। এ বছরের আগস্টে কলকাতার একটি হোটেলে আগুনে নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনই ছিলেন বাংলাদেশি। এ ধরনের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা পুরো অঞ্চলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত সব হোটেল ও রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা যাচাই। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে সংস্কারের সময় দিতে হবে; গুরুতর ঝুঁকি থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। নিরীক্ষার ফল প্রবেশপথে দৃশ্যমানভাবে প্রকাশ এবং অনলাইন বুকিংয়ের সময় তা জানানো যেতে পারে। এতে পর্যটকেরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে সরকারি পর্যটন পোর্টাল ও বুকিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা দরকার।

দ্বিতীয়ত, ইনানী, মেরিন ড্রাইভ ও টেকনাফের মতো দূরবর্তী এলাকায় দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা গড়তে হবে। ছোট অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র, পর্যাপ্ত পানির উৎস, বহনযোগ্য সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দল তৈরি করা যেতে পারে। প্রতিটি আবাসনে বিকল্প নির্গমন পথ, ধোঁয়া শনাক্তকরণ যন্ত্র ও কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। রান্নাঘর ও জেনারেটর কক্ষ আবাসন থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে। কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়াও জরুরি।

পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয় এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা তদারকির জন্য একক সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষ গঠন করা যেতে পারে। দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কারের অগ্রগতিও নিয়মিত জানাতে হবে। শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়; দৃশ্যমান পরিবর্তন দরকার।

ইনানীর দশটি প্রাণ আমাদের সামনে কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে। এই শোক কি কয়েক দিনের আলোচনা ও তদন্ত প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নিরাপদ পর্যটনব্যবস্থা গড়ার সূচনা হবে? আতিথেয়তার অর্থ শুধু অতিথিকে স্বাগত জানানো নয়, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও। আর দশ মিনিট সময় পেলে যাঁরা বেঁচে যেতে পারতেন, তাদের সেই সময় ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতের কোনো পর্যটককে যেন একই পরিণতির মুখে পড়তে না হয়, সেই দায়িত্ব এখনই নিতে হবে।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


পর্যটনে নিরাপত্তা: আগুন লাগে, দায় নেয় না কেউ

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের ইনানীতে আগুনে দশজন পর্যটকের মৃত্যু আমাদের পর্যটনশিল্পের নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। হাসপাতালে বসে এক স্বামী বলছিলেন, আর দশ মিনিট সময় পেলে তার স্ত্রীও নিচে নেমে আসতে পারতেন। এই কথায় দুর্ঘটনার গভীর বেদনা ফুটে ওঠে। মানুষগুলো শুধু আগুনে প্রাণ হারাননি, হারিয়েছেন সময়মতো উদ্ধার ও নিরাপদে বেরিয়ে আসার সুযোগও। পর্যটককে স্বাগত জানাতে আমরা যতটা আগ্রহী, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ততটাই পিছিয়ে।

গত ১৭ অক্টোবর উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। কাঠ ও বাঁশে তৈরি তিনতলা ভবনটিতে নিচে ছিল রেস্তোরাঁ। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ওপরের তলা ধসে যায়। নিহতদের মধ্যে একজন নারী ও পাঁচ বছরের একটি শিশুও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাতের সন্দেহ করা হয়েছে। তবে আগুনের কারণ তদন্তে নিশ্চিত হবে। তার চেয়েও জরুরি প্রশ্ন হলো, সামান্য আগুনে এত মানুষের মৃত্যু কীভাবে সম্ভব হলো?

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির অগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না। জুন মাসেই ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অথচ অতিথি রাখা বন্ধ হয়নি। ভবনে জরুরি বহির্গমন পথও ছিল না। একমাত্র কাঠের সিঁড়িটি ছিল রান্নাঘর ও জেনারেটর কক্ষের মাঝখানে। নিকটতম ফায়ার স্টেশনও ছিল প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। অর্থাৎ বিপদের আশঙ্কা জানা থাকলেও প্রতিরোধ ও উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়নি। প্রথম কয়েক মিনিটের যথাযথ প্রস্তুতি হয়তো অনেক প্রাণ বাঁচাতে পারত।

এই ব্যর্থতা কোনো একক ভুলের ফল নয়। অনিরাপদ ভবন, দাহ্য নির্মাণসামগ্রী, পালানোর পথের অভাব, দুর্বল তদারকি এবং দমকলের দূরত্ব—সব মিলিয়ে বিপর্যয় ঘটেছে। কক্সবাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। এর অনেকগুলো বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তার অনুমোদন ছাড়াই চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ে দশটি উপজেলার জন্য জনবল মাত্র আটজন। এই সীমাবদ্ধতা তদারকির দুর্বলতা বোঝায়। তবে জনবলসংকটকে দায় এড়ানোর অজুহাত করা যাবে না।

এখানে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার পর ব্যবস্থা নেওয়ার দায় কার, তা স্পষ্ট হওয়া দরকার। এক সংস্থা সতর্ক করবে, অন্য সংস্থা ব্যবস্থা নেবে—এমন অস্পষ্টতার সুযোগে বিপজ্জনক প্রতিষ্ঠান চালু থাকলে শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির দায় কেউ স্বীকার করবে না। তাই শুধু তদন্ত কমিটি গঠন নয়, দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

পর্যটন মূলত আস্থার ওপর নির্ভরশীল। একজন পর্যটক সুন্দর দৃশ্যের পাশাপাশি নিরাপদ আবাসনও চান। বাংলাদেশের সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বন ও নদী পর্যটনের বড় সম্পদ। কিন্তু পর্যটনকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে শিশু ও নারীসহ মানুষের মৃত্যুর খবর ছড়ালে সেই সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়। এ বছরের আগস্টে কলকাতার একটি হোটেলে আগুনে নিহত নয়জনের মধ্যে আটজনই ছিলেন বাংলাদেশি। এ ধরনের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা পুরো অঞ্চলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত সব হোটেল ও রিসোর্টের অগ্নিনিরাপত্তা যাচাই। ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে সংস্কারের সময় দিতে হবে; গুরুতর ঝুঁকি থাকলে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। নিরীক্ষার ফল প্রবেশপথে দৃশ্যমানভাবে প্রকাশ এবং অনলাইন বুকিংয়ের সময় তা জানানো যেতে পারে। এতে পর্যটকেরা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে সরকারি পর্যটন পোর্টাল ও বুকিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা দরকার।

দ্বিতীয়ত, ইনানী, মেরিন ড্রাইভ ও টেকনাফের মতো দূরবর্তী এলাকায় দ্রুত অগ্নিনির্বাপণের ব্যবস্থা গড়তে হবে। ছোট অগ্নিনির্বাপণ কেন্দ্র, পর্যাপ্ত পানির উৎস, বহনযোগ্য সরঞ্জাম এবং প্রশিক্ষিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী দল তৈরি করা যেতে পারে। প্রতিটি আবাসনে বিকল্প নির্গমন পথ, ধোঁয়া শনাক্তকরণ যন্ত্র ও কার্যকর অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম থাকা বাধ্যতামূলক করতে হবে। রান্নাঘর ও জেনারেটর কক্ষ আবাসন থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখতে হবে। কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও অগ্নিনির্বাপণ মহড়াও জরুরি।

পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কাজের সমন্বয় এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা তদারকির জন্য একক সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষ গঠন করা যেতে পারে। দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। সংস্কারের অগ্রগতিও নিয়মিত জানাতে হবে। শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে আস্থা ফেরানো সম্ভব নয়; দৃশ্যমান পরিবর্তন দরকার।

ইনানীর দশটি প্রাণ আমাদের সামনে কঠিন প্রশ্ন রেখে গেছে। এই শোক কি কয়েক দিনের আলোচনা ও তদন্ত প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি নিরাপদ পর্যটনব্যবস্থা গড়ার সূচনা হবে? আতিথেয়তার অর্থ শুধু অতিথিকে স্বাগত জানানো নয়, তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও। আর দশ মিনিট সময় পেলে যাঁরা বেঁচে যেতে পারতেন, তাদের সেই সময় ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতের কোনো পর্যটককে যেন একই পরিণতির মুখে পড়তে না হয়, সেই দায়িত্ব এখনই নিতে হবে।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত