সংবাদ

স্থায়িত্বের দাবি ঘিরে প্রশ্ন, আইফোন ডুওতে পর্দার ত্রুটি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

স্থায়িত্বের দাবি ঘিরে প্রশ্ন, আইফোন ডুওতে পর্দার ত্রুটি

অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার পরপরই এর ভেতরের পর্দায় ফাটল ধরার অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন ব্যবহারকারীর দাবি, ফোন হাতে পাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পর্দায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ আবার প্রাথমিক সেটআপ শেষ করার আগেই একই সমস্যায় পড়েছেন।

ব্যবহারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটি ভাঁজ খুলতে গেলে মচমচ শব্দ হয়। এরপর পর্দার ভাঁজের মাঝখানে অথবা ডান পাশে ফাটল দেখা দেয়। সমস্যার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করেছে মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান আইফিক্সিট। তাদের বিশ্লেষণে ফোনটির কবজার আশপাশের কাঠামো ও ভেতরের বিভিন্ন স্তরের বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আইফিক্সিট ফাটল ধরা ফোনের ছবি, ত্রিমাত্রিক নকশা ও সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করে ধারণা দিয়েছে, কবজার কাছাকাছি কাঠামোগত অংশগুলো একটির ওপর আরেকটি এসে পড়লে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া কবজার কোনো অংশ আটকে যাওয়া, স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে না পারা কিংবা ভেতরের পাতলা স্তরগুলোর ঘর্ষণ ও ভুল বিন্যাস থেকেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে অ্যাপল বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ব্লুমবার্গের মার্ক গারম্যানকে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আইফোন ডুওর অল্পসংখ্যক ইউনিটের ভেতরের পর্দায় ত্রুটি দেখা দেওয়ার বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে।

উৎপাদনগত ত্রুটির আশঙ্কা

মার্ক গারম্যানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপলের ধারণা, সমস্যায় পড়া ফোনগুলো ব্যবহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; বরং উৎপাদনের সময় থেকেই সেগুলোতে ত্রুটি থাকতে পারে। আইফোন ডুও বাজারে আসার আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও উৎপাদন নিয়ে বিভিন্ন জটিলতার কথা উঠে এসেছিল। এর মধ্যে ছিল যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে কম ত্রুটিমুক্ত পণ্য পাওয়া, নকশায় পরিবর্তন এবং সরবরাহে বিলম্ব।

ভাঁজযোগ্য ফোনের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা অবশ্য আগেও ঘটেছে। প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ড বাজারে আসার পর দুই দিনের মধ্যেই কয়েকজন পর্যালোচক পর্দায় বড় ধরনের ত্রুটি দেখতে পান। তাঁদের কেউ কেউ পর্দার ওপরের সুরক্ষাস্তর খুলে ফেলেছিলেন। তখন অনেকেই জানতেন না, স্তরটি খোলার জন্য তৈরি নয়।

আইফোন ডুওর ক্ষেত্রে ন্যানো-টেক্সচার সুরক্ষাস্তর খুলে ফেলা বা বদলে ফেলার সুযোগ রয়েছে। তবে অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই স্তর ছাড়া ফোনটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

প্রথম প্রজন্মের গুগল পিক্সেল ফোল্ডেও একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ উঠেছিল। ফোন কেনার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ভেতরের পর্দা নষ্ট হওয়ার কথা জানান কয়েকজন ব্যবহারকারী। কিছু ত্রুটিপূর্ণ ফোনের ভেতরে ময়লা বা ক্ষুদ্র কণা জমে থাকার বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ফোন বদলে দেয়।

স্থায়িত্ব নিয়ে অ্যাপলের দাবি কতটা কার্যকর

অ্যাপল আইফোন ডুওকে দীর্ঘস্থায়িত্বের কথা মাথায় রেখে তৈরি করার দাবি করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটির শক্তি বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম, ত্রিমাত্রিক মুদ্রণপ্রযুক্তিতে তৈরি কবজার আবরণ এবং শক্তিবর্ধক অভ্যন্তরীণ কাঠামো। শতাধিক যন্ত্রাংশ নিয়ে তৈরি কবজাটি পর্দার মাঝের অংশে যথাযথ সমর্থন দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে।

তবে পর্দা ফাটার অভিযোগের পর এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমস্যাটি কি অল্প কয়েকটি ফোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও ইউনিটে দেখা দেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অ্যাপল বিনা মূল্যে ফোন বদলে দেওয়ার সুযোগ দিলেও অ্যাপলকেয়ার+ না থাকা ব্যবহারকারীদের জন্য ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। ১ হাজার ৯৯৯ ডলারের ফোনে এ ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে তা ব্যবহারকারীর জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এদিকে আইফিক্সিট আইফোন ডুওর অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং পর্দা ফাটার সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরতে একটি ইন্টার‌অ্যাকটিভ সিটি স্ক্যান প্রকাশ করেছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


স্থায়িত্বের দাবি ঘিরে প্রশ্ন, আইফোন ডুওতে পর্দার ত্রুটি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য ফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার পরপরই এর ভেতরের পর্দায় ফাটল ধরার অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েকজন ব্যবহারকারীর দাবি, ফোন হাতে পাওয়ার ছয় ঘণ্টার মধ্যেই পর্দায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ আবার প্রাথমিক সেটআপ শেষ করার আগেই একই সমস্যায় পড়েছেন।

ব্যবহারকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটি ভাঁজ খুলতে গেলে মচমচ শব্দ হয়। এরপর পর্দার ভাঁজের মাঝখানে অথবা ডান পাশে ফাটল দেখা দেয়। সমস্যার সম্ভাব্য কারণ অনুসন্ধান করেছে মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান আইফিক্সিট। তাদের বিশ্লেষণে ফোনটির কবজার আশপাশের কাঠামো ও ভেতরের বিভিন্ন স্তরের বিন্যাস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আইফিক্সিট ফাটল ধরা ফোনের ছবি, ত্রিমাত্রিক নকশা ও সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করে ধারণা দিয়েছে, কবজার কাছাকাছি কাঠামোগত অংশগুলো একটির ওপর আরেকটি এসে পড়লে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া কবজার কোনো অংশ আটকে যাওয়া, স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে না পারা কিংবা ভেতরের পাতলা স্তরগুলোর ঘর্ষণ ও ভুল বিন্যাস থেকেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এ বিষয়ে অ্যাপল বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ব্লুমবার্গের মার্ক গারম্যানকে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আইফোন ডুওর অল্পসংখ্যক ইউনিটের ভেতরের পর্দায় ত্রুটি দেখা দেওয়ার বিষয়টি তাদের জানা রয়েছে।

উৎপাদনগত ত্রুটির আশঙ্কা

মার্ক গারম্যানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপলের ধারণা, সমস্যায় পড়া ফোনগুলো ব্যবহারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি; বরং উৎপাদনের সময় থেকেই সেগুলোতে ত্রুটি থাকতে পারে। আইফোন ডুও বাজারে আসার আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতেও উৎপাদন নিয়ে বিভিন্ন জটিলতার কথা উঠে এসেছিল। এর মধ্যে ছিল যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে কম ত্রুটিমুক্ত পণ্য পাওয়া, নকশায় পরিবর্তন এবং সরবরাহে বিলম্ব।

ভাঁজযোগ্য ফোনের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা অবশ্য আগেও ঘটেছে। প্রথম গ্যালাক্সি ফোল্ড বাজারে আসার পর দুই দিনের মধ্যেই কয়েকজন পর্যালোচক পর্দায় বড় ধরনের ত্রুটি দেখতে পান। তাঁদের কেউ কেউ পর্দার ওপরের সুরক্ষাস্তর খুলে ফেলেছিলেন। তখন অনেকেই জানতেন না, স্তরটি খোলার জন্য তৈরি নয়।

আইফোন ডুওর ক্ষেত্রে ন্যানো-টেক্সচার সুরক্ষাস্তর খুলে ফেলা বা বদলে ফেলার সুযোগ রয়েছে। তবে অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই স্তর ছাড়া ফোনটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

প্রথম প্রজন্মের গুগল পিক্সেল ফোল্ডেও একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ উঠেছিল। ফোন কেনার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ভেতরের পর্দা নষ্ট হওয়ার কথা জানান কয়েকজন ব্যবহারকারী। কিছু ত্রুটিপূর্ণ ফোনের ভেতরে ময়লা বা ক্ষুদ্র কণা জমে থাকার বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত ফোন বদলে দেয়।

স্থায়িত্ব নিয়ে অ্যাপলের দাবি কতটা কার্যকর

অ্যাপল আইফোন ডুওকে দীর্ঘস্থায়িত্বের কথা মাথায় রেখে তৈরি করার দাবি করেছিল। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটির শক্তি বাড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম, ত্রিমাত্রিক মুদ্রণপ্রযুক্তিতে তৈরি কবজার আবরণ এবং শক্তিবর্ধক অভ্যন্তরীণ কাঠামো। শতাধিক যন্ত্রাংশ নিয়ে তৈরি কবজাটি পর্দার মাঝের অংশে যথাযথ সমর্থন দেওয়ার জন্য নকশা করা হয়েছে।

তবে পর্দা ফাটার অভিযোগের পর এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সমস্যাটি কি অল্প কয়েকটি ফোনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি আরও ইউনিটে দেখা দেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অ্যাপল বিনা মূল্যে ফোন বদলে দেওয়ার সুযোগ দিলেও অ্যাপলকেয়ার+ না থাকা ব্যবহারকারীদের জন্য ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। ১ হাজার ৯৯৯ ডলারের ফোনে এ ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে তা ব্যবহারকারীর জন্য উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এদিকে আইফিক্সিট আইফোন ডুওর অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং পর্দা ফাটার সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরতে একটি ইন্টার‌অ্যাকটিভ সিটি স্ক্যান প্রকাশ করেছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত