সংবাদ

রাতে দুধ-রুটি খাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

রাতে দুধ-রুটি খাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

রাতে ক্ষুধা লাগলে অনেকেই এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে রুটি খেতে পছন্দ করেন। শিশুদের খাবার নরম করে খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও পরিবারে এই পদ্ধতি প্রচলিত। তবে দুধ-রুটি নিয়ে রয়েছে নানা ধারণা। কারও মতে, এটি সহজপাচ্য খাবার, আবার কেউ মনে করেন, রাতে খেলে ওজন বাড়তে পারে কিংবা হজমে সমস্যা হতে পারে।

বাস্তবে দুধ ও রুটি থেকে শরীর প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি পায়। তবে খাবারটির উপকারিতা নির্ভর করে কতটা খাওয়া হচ্ছে, কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং যিনি খাচ্ছেন তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর।

একই খাবারে মিলতে পারে একাধিক পুষ্টি

আটার রুটি শরীরে কার্বোহাইড্রেট, খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের কিছু উপাদান সরবরাহ করে। দুধ থেকে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন বি১২। ভিটামিন ডি যুক্ত দুধ হলে তা এই ভিটামিনেরও উৎস হতে পারে।

তবে দুধ-রুটির পুষ্টিমান সব ক্ষেত্রে এক রকম নয়। রুটির আকার, দুধের পরিমাণ ও চর্বির মাত্রা এবং চিনি বা গুড় যোগ করা হচ্ছে কি না, তার ওপর খাবারটির মোট ক্যালরি ও পুষ্টিমান নির্ভর করে।

নরম খাবার হলেও সবার জন্য সমান উপযোগী নয়

গরম দুধে রুটি ভিজিয়ে রাখলে তা নরম হয়ে যায়। ফলে শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হয়, এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি খাওয়া সহজ হতে পারে। অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময়ও কেউ কেউ এ ধরনের খাবার বেছে নেন।

তবে খাবার নরম হলেই তা সবার হজমে সুবিধা দেবে, এমন নয়। ব্যক্তির হজমক্ষমতা ও শারীরিক অবস্থার কারণে একই খাবার কারও জন্য আরামদায়ক হলেও অন্য কারও অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

দুধ-রুটি খেলে পেটের অ্যাসিড কমে যায় বা পেট ঠান্ডা থাকে - এমন ধারণারও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাঁরা খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।

ঘুমের আগে খাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ও গুরুত্বপূর্ণ

দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে ঘুমের প্রসঙ্গে দুধের কথা বলা হয়। তবে শুধু রাতে দুধ-রুটি খেলেই ঘুমের মান ভালো হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

রাতে ক্ষুধা লাগলে পরিমিত পরিমাণে এই খাবার খাওয়া যেতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলে ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

যাঁদের খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া দরকার

দুধ ও গমের তৈরি রুটি সবার জন্য উপযোগী নয়। কিছু ক্ষেত্রে খাবারের উপকরণ বেছে নেওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

·         ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স: দুধ খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ল্যাকটোজমুক্ত দুধ বিকল্প হতে পারে।

·         দুধে অ্যালার্জি: সাধারণ দুধ এড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

·         গমে অ্যালার্জি বা সিলিয়াক রোগ: সাধারণ গমের রুটি খাওয়া উপযুক্ত নয়।

·         ডায়াবেটিস: রুটির পরিমাণ এবং দুধে যোগ করা চিনি বা গুড়ের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

দুধ-রুটি কি ওজন বাড়ায়?

শুধু দুধ-রুটি খাওয়ার কারণেই ওজন বাড়ে, এমন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন বাড়তে পারে। একাধিক বড় রুটি, বেশি চর্বিযুক্ত দুধ কিংবা অতিরিক্ত চিনি বা গুড় যোগ করলে খাবারটির ক্যালরি বেড়ে যায়।

তাই রাতে দুধ-রুটি খেতে চাইলে নিজের খাদ্যচাহিদা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক রাখা এবং বাড়তি চিনি এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে খেলে ভালো

আটার রুটি ও পরিমিত দুধ দিয়ে সহজেই দুধ-রুটি তৈরি করা যায়। অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত চিনি বা গুড় না দেওয়াই ভালো। দুধে অস্বস্তি হলে উপযুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী খাবারের ঘনত্ব ও উপকরণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

দুধ ও রুটি পুষ্টির উৎস হলেও সবার জন্য একই পরিমাণ বা একই সময়ে খাওয়া উপযোগী নয়। নিজের হজমক্ষমতা, শারীরিক অবস্থা ও দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় রেখেই খাবারটি বেছে নেওয়া উচিত।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


রাতে দুধ-রুটি খাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

রাতে ক্ষুধা লাগলে অনেকেই এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে রুটি খেতে পছন্দ করেন। শিশুদের খাবার নরম করে খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও পরিবারে এই পদ্ধতি প্রচলিত। তবে দুধ-রুটি নিয়ে রয়েছে নানা ধারণা। কারও মতে, এটি সহজপাচ্য খাবার, আবার কেউ মনে করেন, রাতে খেলে ওজন বাড়তে পারে কিংবা হজমে সমস্যা হতে পারে।

বাস্তবে দুধ ও রুটি থেকে শরীর প্রয়োজনীয় কিছু পুষ্টি পায়। তবে খাবারটির উপকারিতা নির্ভর করে কতটা খাওয়া হচ্ছে, কী ধরনের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে এবং যিনি খাচ্ছেন তাঁর শারীরিক অবস্থার ওপর।

একই খাবারে মিলতে পারে একাধিক পুষ্টি

আটার রুটি শরীরে কার্বোহাইড্রেট, খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও ভিটামিন বি-কমপ্লেক্সের কিছু উপাদান সরবরাহ করে। দুধ থেকে পাওয়া যায় ক্যালসিয়াম, প্রোটিন ও ভিটামিন বি১২। ভিটামিন ডি যুক্ত দুধ হলে তা এই ভিটামিনেরও উৎস হতে পারে।

তবে দুধ-রুটির পুষ্টিমান সব ক্ষেত্রে এক রকম নয়। রুটির আকার, দুধের পরিমাণ ও চর্বির মাত্রা এবং চিনি বা গুড় যোগ করা হচ্ছে কি না, তার ওপর খাবারটির মোট ক্যালরি ও পুষ্টিমান নির্ভর করে।

নরম খাবার হলেও সবার জন্য সমান উপযোগী নয়

গরম দুধে রুটি ভিজিয়ে রাখলে তা নরম হয়ে যায়। ফলে শক্ত খাবার চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হয়, এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি খাওয়া সহজ হতে পারে। অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার সময়ও কেউ কেউ এ ধরনের খাবার বেছে নেন।

তবে খাবার নরম হলেই তা সবার হজমে সুবিধা দেবে, এমন নয়। ব্যক্তির হজমক্ষমতা ও শারীরিক অবস্থার কারণে একই খাবার কারও জন্য আরামদায়ক হলেও অন্য কারও অস্বস্তির কারণ হতে পারে।

দুধ-রুটি খেলে পেটের অ্যাসিড কমে যায় বা পেট ঠান্ডা থাকে - এমন ধারণারও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বুকজ্বালার সমস্যা রয়েছে, তাঁরা খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়লে অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন।

ঘুমের আগে খাওয়ার ক্ষেত্রে সময়ও গুরুত্বপূর্ণ

দুধে থাকা ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরির প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ কারণে ঘুমের প্রসঙ্গে দুধের কথা বলা হয়। তবে শুধু রাতে দুধ-রুটি খেলেই ঘুমের মান ভালো হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

রাতে ক্ষুধা লাগলে পরিমিত পরিমাণে এই খাবার খাওয়া যেতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। বুকজ্বালা বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স থাকলে ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার শেষ করার চেষ্টা করা যেতে পারে।

যাঁদের খাওয়ার আগে সতর্ক হওয়া দরকার

দুধ ও গমের তৈরি রুটি সবার জন্য উপযোগী নয়। কিছু ক্ষেত্রে খাবারের উপকরণ বেছে নেওয়ার সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

·         ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স: দুধ খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, গ্যাস, পেটব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ল্যাকটোজমুক্ত দুধ বিকল্প হতে পারে।

·         দুধে অ্যালার্জি: সাধারণ দুধ এড়িয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

·         গমে অ্যালার্জি বা সিলিয়াক রোগ: সাধারণ গমের রুটি খাওয়া উপযুক্ত নয়।

·         ডায়াবেটিস: রুটির পরিমাণ এবং দুধে যোগ করা চিনি বা গুড়ের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি।

দুধ-রুটি কি ওজন বাড়ায়?

শুধু দুধ-রুটি খাওয়ার কারণেই ওজন বাড়ে, এমন নয়। দীর্ঘ সময় ধরে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন বাড়তে পারে। একাধিক বড় রুটি, বেশি চর্বিযুক্ত দুধ কিংবা অতিরিক্ত চিনি বা গুড় যোগ করলে খাবারটির ক্যালরি বেড়ে যায়।

তাই রাতে দুধ-রুটি খেতে চাইলে নিজের খাদ্যচাহিদা অনুযায়ী পরিমাণ ঠিক রাখা এবং বাড়তি চিনি এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।

কীভাবে খেলে ভালো

আটার রুটি ও পরিমিত দুধ দিয়ে সহজেই দুধ-রুটি তৈরি করা যায়। অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত চিনি বা গুড় না দেওয়াই ভালো। দুধে অস্বস্তি হলে উপযুক্ত বিকল্প বেছে নেওয়া যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী খাবারের ঘনত্ব ও উপকরণ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

দুধ ও রুটি পুষ্টির উৎস হলেও সবার জন্য একই পরিমাণ বা একই সময়ে খাওয়া উপযোগী নয়। নিজের হজমক্ষমতা, শারীরিক অবস্থা ও দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস বিবেচনায় রেখেই খাবারটি বেছে নেওয়া উচিত।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত