সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় গিয়েও ঘুম আসতে চায় না অনেকের। কারও আবার মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমের এমন সমস্যায় দৈনন্দিন অভ্যাসের পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কিছু ফলে থাকা পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ঘুমের চক্র বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
কলা, আঙুর, কিউই কিংবা টক চেরির মতো ফল ঘুমের জন্য সম্ভাব্য উপকারী খাবারের তালিকায় রয়েছে। তবে এগুলো খেলে যে অনিদ্রা দূর হবেই, এমন নিশ্চয়তা নেই।
কলা: এতে রয়েছে ট্রিপটোফ্যান, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে এবং পেশি শিথিল হতে সহায়তা করতে পারে। ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে কলা খাওয়া যেতে পারে।
আঙুর: এই ফলে থাকা মেলাটোনিন শরীরের ঘুম ও জেগে থাকার স্বাভাবিক ছন্দ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। আঙুরে থাকা রেসভেরাট্রল একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ, যা কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।
কিউই: ঘুমের মান ভালো রাখার সম্ভাব্য সহায়ক ফলগুলোর একটি কিউই। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে দুটি কিউই খাওয়ার সঙ্গে ঘুমের সময় ও কার্যকারিতা বাড়া এবং রাতে ঘুম ভাঙার প্রবণতা কমার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
আনারকলি: আনারকলি ফল এবং এর গাছের পাতা বা ফুল দিয়ে তৈরি চা প্রাকৃতিক প্রশান্তিদায়ক হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পেশি শিথিল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঘুমের ওপর এর প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন।
আনারস: আনারসে প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিন থাকে। এই হরমোন শরীরের ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আনারস খেলেই ঘুমের মান উন্নত হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
টক চেরি: বিশেষ করে মন্টমোরেন্সি জাতের টক চেরিতে মেলাটোনিন রয়েছে। এতে থাকা ট্রিপটোফ্যানও শরীরের ঘুম-সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। ঘুমের ওপর এ ফলের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তরমুজ: এতে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকায় শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। পাশাপাশি তরমুজে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও লাইকোপিন। তবে রাতে বেশি তরমুজ খেলে প্রস্রাবের কারণে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
ঘুমের আগে ফল খেতে চাইলে সময় ও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে অল্প পরিমাণে ফল খাওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ফল মিশিয়ে সালাদও তৈরি করা যায়।
তবে রাতে বারবার প্রস্রাবের কারণে ঘুম ভেঙে গেলে শোয়ার আগে তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলুন। ডায়াবেটিস থাকলে দৈনিক খাদ্যতালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি।
ঘুমের সমস্যা সমাধানে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মুঠোফোন ও কম্পিউটারের পর্দা ব্যবহারের সময় কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখতে হবে, কোনো একটি ফল অনিদ্রার নিশ্চিত চিকিৎসা নয়। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভালো ঘুমের জন্য সুষম খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও প্রয়োজন।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় গিয়েও ঘুম আসতে চায় না অনেকের। কারও আবার মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। ঘুমের এমন সমস্যায় দৈনন্দিন অভ্যাসের পাশাপাশি খাবারের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কিছু ফলে থাকা পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ঘুমের চক্র বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।
কলা, আঙুর, কিউই কিংবা টক চেরির মতো ফল ঘুমের জন্য সম্ভাব্য উপকারী খাবারের তালিকায় রয়েছে। তবে এগুলো খেলে যে অনিদ্রা দূর হবেই, এমন নিশ্চয়তা নেই।
কলা: এতে রয়েছে ট্রিপটোফ্যান, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে এবং পেশি শিথিল হতে সহায়তা করতে পারে। ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে কলা খাওয়া যেতে পারে।
আঙুর: এই ফলে থাকা মেলাটোনিন শরীরের ঘুম ও জেগে থাকার স্বাভাবিক ছন্দ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। আঙুরে থাকা রেসভেরাট্রল একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ, যা কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।
কিউই: ঘুমের মান ভালো রাখার সম্ভাব্য সহায়ক ফলগুলোর একটি কিউই। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে দুটি কিউই খাওয়ার সঙ্গে ঘুমের সময় ও কার্যকারিতা বাড়া এবং রাতে ঘুম ভাঙার প্রবণতা কমার সম্পর্ক রয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
আনারকলি: আনারকলি ফল এবং এর গাছের পাতা বা ফুল দিয়ে তৈরি চা প্রাকৃতিক প্রশান্তিদায়ক হিসেবে পরিচিত। এতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও পেশি শিথিল রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঘুমের ওপর এর প্রভাব নিশ্চিত করতে আরও প্রমাণ প্রয়োজন।
আনারস: আনারসে প্রাকৃতিকভাবে মেলাটোনিন থাকে। এই হরমোন শরীরের ঘুমের চক্র নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আনারস খেলেই ঘুমের মান উন্নত হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
টক চেরি: বিশেষ করে মন্টমোরেন্সি জাতের টক চেরিতে মেলাটোনিন রয়েছে। এতে থাকা ট্রিপটোফ্যানও শরীরের ঘুম-সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। ঘুমের ওপর এ ফলের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
তরমুজ: এতে প্রায় ৯২ শতাংশ পানি থাকায় শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। পাশাপাশি তরমুজে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম ও লাইকোপিন। তবে রাতে বেশি তরমুজ খেলে প্রস্রাবের কারণে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
ঘুমের আগে ফল খেতে চাইলে সময় ও পরিমাণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। ঘুমানোর এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে অল্প পরিমাণে ফল খাওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ফল মিশিয়ে সালাদও তৈরি করা যায়।
তবে রাতে বারবার প্রস্রাবের কারণে ঘুম ভেঙে গেলে শোয়ার আগে তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফল বেশি খাওয়া এড়িয়ে চলুন। ডায়াবেটিস থাকলে দৈনিক খাদ্যতালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফলের পরিমাণ নির্ধারণ করা জরুরি।
ঘুমের সমস্যা সমাধানে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মুঠোফোন ও কম্পিউটারের পর্দা ব্যবহারের সময় কমানোও গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখতে হবে, কোনো একটি ফল অনিদ্রার নিশ্চিত চিকিৎসা নয়। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ভালো ঘুমের জন্য সুষম খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন