সংবাদ

শীতের আগে গিজার কিনছেন? জেনে নিন ধারণক্ষমতা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

শীতের আগে গিজার কিনছেন? জেনে নিন ধারণক্ষমতা

শীতের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই বাড়িতে গিজার কেনার কথা ভাবছেন। তবে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, গোসলের ধরন ও ব্যবহারের সময়ের ওপর নির্ভর করে গিজারের উপযুক্ত ধারণক্ষমতা। বিশেষ করে পাঁচজনের পরিবারের জন্য ১৫ লিটার নাকি ২৫ লিটারের গিজার কেনা ভালো, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকে।

সঠিক ধারণক্ষমতার গিজার বেছে নিলে গরম পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় খরচও এড়ানো সম্ভব। তাই কেনার আগে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করা জরুরি।

কখন ১৫ লিটারের গিজার যথেষ্ট হতে পারে?

পরিবারের সদস্যরা যদি আলাদা আলাদা সময়ে বালতি ও মগ দিয়ে স্নান করেন, তাহলে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে একসঙ্গে অনেক পানি গরম করে রাখার প্রয়োজন কম হতে পারে।

স্টোরেজ গিজারে ট্যাঙ্কের পানি গরম করে রাখা হয়। পরে গরম পানির সঙ্গে ঠান্ডা পানি মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। ফলে ট্যাঙ্কে যত লিটার পানি থাকে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ব্যবহারযোগ্য পানি পাওয়া সম্ভব। তবে প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করে পানির তাপমাত্রা, বাইরের ঠান্ডা এবং ব্যবহারের পরিমাণের ওপর।

১৫ লিটারের গিজারের প্রাথমিক দাম তুলনামূলক কম হতে পারে। একই পরিস্থিতিতে কম পানি গরম করতে সাধারণত কম সময়ও লাগে। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি শুধু গিজারের ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না।

কখন ২৫ লিটারের গিজার বেছে নেবেন?

পরিবারের পাঁচজন সদস্য যদি সকালে অফিস বা স্কুলে যাওয়ার আগে কাছাকাছি সময়ে স্নান করেন, তাহলে ২৫ লিটারের গিজার বেশি সুবিধা দিতে পারে। এতে একবারে তুলনামূলক বেশি গরম পানি মজুত থাকে। ফলে পানি শেষ হয়ে গেলে পুনরায় গরম হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমতে পারে।

বাড়িতে শাওয়ার ব্যবহার করা হলে গরম পানির চাহিদা আরও বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় শাওয়ার চালিয়ে স্নান করার অভ্যাস থাকলে ২৫ লিটারের গিজারও যথেষ্ট নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩৫ লিটার বা তার বেশি ধারণক্ষমতার মডেল বিবেচনা করা যায়। কেনার আগে নির্মাতার নির্দেশিকা অনুযায়ী গিজারের সরবরাহক্ষমতা যাচাই করা ভালো।

বিদ্যুৎ খরচ কমাতে যা দেখবেন

গিজার কেনার সময় শুধু দাম বা ধারণক্ষমতা নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা এবং তাপ ধরে রাখার ক্ষমতাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

·         শক্তি সাশ্রয়ের রেটিং: স্বীকৃত শক্তি সাশ্রয়ী রেটিংযুক্ত মডেল পাওয়া গেলে সেটি বিবেচনা করুন। বাংলাদেশে কেনার সময় প্রযোজ্য স্থানীয় মান ও পণ্যের বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য যাচাই করুন।

·         ইনসুলেশন: ট্যাঙ্কের ইনসুলেশন ভালো হলে পানি দীর্ঘক্ষণ গরম থাকতে পারে। এতে তাপমাত্রা ধরে রাখতে হিটার বারবার চালু হওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।

·         ব্যবহারের সময়: প্রয়োজন অনুযায়ী পানি গরম করুন। অকারণে দীর্ঘ সময় গিজার চালিয়ে রাখা এড়িয়ে চলুন।

·         রান্নাঘরের ব্যবহার: শুধু বাসন ধোয়ার জন্য গরম পানি প্রয়োজন হলে ৩ বা ৫ লিটারের ইনস্ট্যান্ট গিজার বিবেচনা করা যায়। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ ও ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করতে হবে।

কেনার আগে নিরাপত্তার বিষয়গুলোও দেখুন

গিজারের ধারণক্ষমতা ও দাম ছাড়াও ট্যাঙ্কের ধরন, ওয়ারেন্টি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা জরুরি। পানিতে খনিজের পরিমাণ বেশি হলে ট্যাঙ্ক ও হিটিং এলিমেন্টে আস্তরণ জমতে পারে। এ ধরনের এলাকায় গ্লাস-লাইন্ড ট্যাঙ্কযুক্ত মডেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

পাশাপাশি থার্মাল কাট-অফ, অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য আছে কি না, তা দেখে নিন।

শেষ পর্যন্ত কোনটি কিনবেন?

পাঁচজনের পরিবারের সদস্যরা যদি আলাদা সময়ে বালতি ও মগ দিয়ে স্নান করেন, তাহলে ১৫ লিটারের গিজারেই চাহিদা পূরণ হতে পারে। অন্যদিকে, সবাইকে কাছাকাছি সময়ে স্নান করতে হলে ২৫ লিটারের গিজার বেশি সুবিধা দিতে পারে।

তাই কেনার আগে পরিবারের সদস্যদের দৈনিক গরম পানির চাহিদা, স্নানের ধরন এবং ব্যবহারের সময় বিবেচনা করুন। পাশাপাশি গিজারের নির্দেশিত ব্যবহার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬


শীতের আগে গিজার কিনছেন? জেনে নিন ধারণক্ষমতা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শীতের প্রস্তুতি হিসেবে অনেকেই বাড়িতে গিজার কেনার কথা ভাবছেন। তবে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, গোসলের ধরন ও ব্যবহারের সময়ের ওপর নির্ভর করে গিজারের উপযুক্ত ধারণক্ষমতা। বিশেষ করে পাঁচজনের পরিবারের জন্য ১৫ লিটার নাকি ২৫ লিটারের গিজার কেনা ভালো, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকে।

সঠিক ধারণক্ষমতার গিজার বেছে নিলে গরম পানির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় খরচও এড়ানো সম্ভব। তাই কেনার আগে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করা জরুরি।

কখন ১৫ লিটারের গিজার যথেষ্ট হতে পারে?

পরিবারের সদস্যরা যদি আলাদা আলাদা সময়ে বালতি ও মগ দিয়ে স্নান করেন, তাহলে ১৫ লিটারের স্টোরেজ গিজার বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে একসঙ্গে অনেক পানি গরম করে রাখার প্রয়োজন কম হতে পারে।

স্টোরেজ গিজারে ট্যাঙ্কের পানি গরম করে রাখা হয়। পরে গরম পানির সঙ্গে ঠান্ডা পানি মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। ফলে ট্যাঙ্কে যত লিটার পানি থাকে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ব্যবহারযোগ্য পানি পাওয়া সম্ভব। তবে প্রকৃত পরিমাণ নির্ভর করে পানির তাপমাত্রা, বাইরের ঠান্ডা এবং ব্যবহারের পরিমাণের ওপর।

১৫ লিটারের গিজারের প্রাথমিক দাম তুলনামূলক কম হতে পারে। একই পরিস্থিতিতে কম পানি গরম করতে সাধারণত কম সময়ও লাগে। তবে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি শুধু গিজারের ধারণক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না।

কখন ২৫ লিটারের গিজার বেছে নেবেন?

পরিবারের পাঁচজন সদস্য যদি সকালে অফিস বা স্কুলে যাওয়ার আগে কাছাকাছি সময়ে স্নান করেন, তাহলে ২৫ লিটারের গিজার বেশি সুবিধা দিতে পারে। এতে একবারে তুলনামূলক বেশি গরম পানি মজুত থাকে। ফলে পানি শেষ হয়ে গেলে পুনরায় গরম হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন কমতে পারে।

বাড়িতে শাওয়ার ব্যবহার করা হলে গরম পানির চাহিদা আরও বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় শাওয়ার চালিয়ে স্নান করার অভ্যাস থাকলে ২৫ লিটারের গিজারও যথেষ্ট নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ৩৫ লিটার বা তার বেশি ধারণক্ষমতার মডেল বিবেচনা করা যায়। কেনার আগে নির্মাতার নির্দেশিকা অনুযায়ী গিজারের সরবরাহক্ষমতা যাচাই করা ভালো।

বিদ্যুৎ খরচ কমাতে যা দেখবেন

গিজার কেনার সময় শুধু দাম বা ধারণক্ষমতা নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা এবং তাপ ধরে রাখার ক্ষমতাও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

·         শক্তি সাশ্রয়ের রেটিং: স্বীকৃত শক্তি সাশ্রয়ী রেটিংযুক্ত মডেল পাওয়া গেলে সেটি বিবেচনা করুন। বাংলাদেশে কেনার সময় প্রযোজ্য স্থানীয় মান ও পণ্যের বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য যাচাই করুন।

·         ইনসুলেশন: ট্যাঙ্কের ইনসুলেশন ভালো হলে পানি দীর্ঘক্ষণ গরম থাকতে পারে। এতে তাপমাত্রা ধরে রাখতে হিটার বারবার চালু হওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে।

·         ব্যবহারের সময়: প্রয়োজন অনুযায়ী পানি গরম করুন। অকারণে দীর্ঘ সময় গিজার চালিয়ে রাখা এড়িয়ে চলুন।

·         রান্নাঘরের ব্যবহার: শুধু বাসন ধোয়ার জন্য গরম পানি প্রয়োজন হলে ৩ বা ৫ লিটারের ইনস্ট্যান্ট গিজার বিবেচনা করা যায়। তবে বিদ্যুৎ সংযোগ ও ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই করতে হবে।

কেনার আগে নিরাপত্তার বিষয়গুলোও দেখুন

গিজারের ধারণক্ষমতা ও দাম ছাড়াও ট্যাঙ্কের ধরন, ওয়ারেন্টি এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করা জরুরি। পানিতে খনিজের পরিমাণ বেশি হলে ট্যাঙ্ক ও হিটিং এলিমেন্টে আস্তরণ জমতে পারে। এ ধরনের এলাকায় গ্লাস-লাইন্ড ট্যাঙ্কযুক্ত মডেল বিবেচনা করা যেতে পারে।

পাশাপাশি থার্মাল কাট-অফ, অতিরিক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এবং অন্যান্য নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য আছে কি না, তা দেখে নিন।

শেষ পর্যন্ত কোনটি কিনবেন?

পাঁচজনের পরিবারের সদস্যরা যদি আলাদা সময়ে বালতি ও মগ দিয়ে স্নান করেন, তাহলে ১৫ লিটারের গিজারেই চাহিদা পূরণ হতে পারে। অন্যদিকে, সবাইকে কাছাকাছি সময়ে স্নান করতে হলে ২৫ লিটারের গিজার বেশি সুবিধা দিতে পারে।

তাই কেনার আগে পরিবারের সদস্যদের দৈনিক গরম পানির চাহিদা, স্নানের ধরন এবং ব্যবহারের সময় বিবেচনা করুন। পাশাপাশি গিজারের নির্দেশিত ব্যবহার ও নিরাপত্তাব্যবস্থা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত