সংবাদ

না জানিয়ে জরায়ু কাটা, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা


প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রতিনিধি, জামালপুর
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ পিএম

না জানিয়ে জরায়ু কাটা, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি : সংবাদ

জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় এক সরকারি কর্মকর্তার জীবন সংকটাপন্ন করার অভিযোগে বেসরকারি এম এ রশিদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর অনুমতি ছাড়াই জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অংশবিশেষ কেটে ফেলা এবং পরবর্তীতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে এই মামলা করা হয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভুক্তভোগী সাবেরী শারমিন বাদী হয়ে জামালপুর আমলী আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক হলেন এম এ রশিদ হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বরকত ও জেনারেল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদী সাবেরী শারমিন জামালপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। তিনি শহরের পূর্ব নয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ জানুয়ারি তলপেটে ব্যথা নিয়ে তিনি জামালপুরের এম এ রশিদ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষার পর তার ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়ের চারপাশে সংক্রমণ এবং ডান পাশের ডিম্বাশয়ে সিস্ট রয়েছে বলে জানানো হয়। পরে ২৯ জানুয়ারি ডা. সাবরিনা বরকত ও ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রোগীর বা স্বজনদের কোনো ধরনের অনুমতি না নিয়েই ওই সময় তার জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অংশবিশেষ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু তা সম্পূর্ণ অপসারণ না করায় ভেতরে অংশবিশেষ রয়ে যায়, যার ফলে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি হাসপাতাল পরিবর্তন করে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে সংক্রমিত তরল ও পুঁজ বের করা হয় এবং প্রথম অপারেশনের ত্রুটি ধরা পড়ে।

এরপরও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে নিতে হয়। সেখানে গত ২৩ মার্চ তৃতীয় ও ২০ জুন চতুর্থ দফায় তার আরও দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়।

ভুক্তভোগী সাবেরী শারমিন বলেন, 'একটি ভুল অপারেশনের কারণে আমাকে চারটি বড় অপারেশন সহ্য করতে হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। এম এ রশিদ হাসপাতালে অপারেশনের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নেওয়া হলেও সব মিলিয়ে আমার প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে।'

তার স্বামী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন বলেন, 'হাসপাতালের বাইরের চাকচিক্য দেখে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকদের এমন মারাত্মক ভুলের কারণে আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।'

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আরাফাত জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিভিল সার্জনকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এম এ রশিদ হাসপাতালের সিনিয়র অ্যাডমিন ম্যানেজার ছিব্বির আহম্মদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাইরে আছেন জানিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরদিন কল দেবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, '২৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আদালতের আদেশ আমরা হাতে পেয়েছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।'

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


না জানিয়ে জরায়ু কাটা, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় এক সরকারি কর্মকর্তার জীবন সংকটাপন্ন করার অভিযোগে বেসরকারি এম এ রশিদ হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর অনুমতি ছাড়াই জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অংশবিশেষ কেটে ফেলা এবং পরবর্তীতে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে এই মামলা করা হয়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভুক্তভোগী সাবেরী শারমিন বাদী হয়ে জামালপুর আমলী আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক হলেন এম এ রশিদ হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. সাবরিনা বরকত ও জেনারেল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জামালপুরের সিভিল সার্জনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদী সাবেরী শারমিন জামালপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। তিনি শহরের পূর্ব নয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০ জানুয়ারি তলপেটে ব্যথা নিয়ে তিনি জামালপুরের এম এ রশিদ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরীক্ষার পর তার ডিম্বনালি ও ডিম্বাশয়ের চারপাশে সংক্রমণ এবং ডান পাশের ডিম্বাশয়ে সিস্ট রয়েছে বলে জানানো হয়। পরে ২৯ জানুয়ারি ডা. সাবরিনা বরকত ও ডা. মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রোগীর বা স্বজনদের কোনো ধরনের অনুমতি না নিয়েই ওই সময় তার জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের অংশবিশেষ কেটে ফেলা হয়। কিন্তু তা সম্পূর্ণ অপসারণ না করায় ভেতরে অংশবিশেষ রয়ে যায়, যার ফলে মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি হাসপাতাল পরিবর্তন করে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে গত ৫ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করে সংক্রমিত তরল ও পুঁজ বের করা হয় এবং প্রথম অপারেশনের ত্রুটি ধরা পড়ে।

এরপরও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে নিতে হয়। সেখানে গত ২৩ মার্চ তৃতীয় ও ২০ জুন চতুর্থ দফায় তার আরও দুটি অস্ত্রোপচার করা হয়।

ভুক্তভোগী সাবেরী শারমিন বলেন, 'একটি ভুল অপারেশনের কারণে আমাকে চারটি বড় অপারেশন সহ্য করতে হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। এম এ রশিদ হাসপাতালে অপারেশনের জন্য ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা নেওয়া হলেও সব মিলিয়ে আমার প্রায় ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে।'

তার স্বামী সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন বলেন, 'হাসপাতালের বাইরের চাকচিক্য দেখে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু চিকিৎসকদের এমন মারাত্মক ভুলের কারণে আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।'

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আরাফাত জানান, আদালত মামলাটি গ্রহণ করে সিভিল সার্জনকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এম এ রশিদ হাসপাতালের সিনিয়র অ্যাডমিন ম্যানেজার ছিব্বির আহম্মদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাইরে আছেন জানিয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরদিন কল দেবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, '২৬ অক্টোবর সন্ধ্যার পর আদালতের আদেশ আমরা হাতে পেয়েছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে।'


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত