‘আত্মউন্নয়ন নয়, বরং সুবিধাবঞ্চিত গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের মূল ব্রত। নিজেদের শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভা আয়োজিত সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি, চলমান প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সরকারের গতিশীল ও দেশপ্রেমিক দূরদর্শী কাজগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুসরণ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
হাইব্রিড অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মীর হেলাল বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই কোনো সুযোগসন্ধানী বা হাইব্রিড ব্যক্তিকে দলে ভেড়ানো যাবে না। এ ধরনের সুবিধাবাদীরা দলের মূল আদর্শ বিনষ্ট করে এবং অভ্যন্তরীণ চরম ক্ষতিসাধন করে। দেশ পুনর্গঠনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সবাইকে নিঃস্বার্থভাবে দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, দলের গঠিত কমিটি কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে। অসহায়, দুঃখী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।
নিজের জীবনবোধ ও সাংগঠনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে নিজেকে পরিবর্তন করুন, দেখবেন চারপাশের সবকিছু ইতিবাচকভাবে বদলে গেছে। আমাদের সংগঠন হতে হবে নিছক ক্ষমতার জন্য নয়—মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল শক্তি হিসেবে।’
জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই হাটহাজারীর সন্তান। হাটহাজারী ও বায়েজিদের সার্বিক উন্নয়ন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব ও ধর্ম। আমার মন ও প্রাণ সবসময় এই পরম প্রিয় মাটির টানে হাটহাজারীতেই পড়ে থাকে।’
হাটহাজারীবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি জানান, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই হাটহাজারীতে একটি ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ শুরু করার পাশাপাশি হাটহাজারীর প্রতিটি ইউনিয়নে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, বিগত মাত্র ৮ মাসে হাটহাজারীতে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা বিগত ১৭ বছরেও সম্ভব হয়নি।
তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমাজ থেকে মাদকের মূল উৎপাটনের ডাক দিয়ে তিনি সর্বস্তরের মানুষকে একসঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। প্রতিটি এলাকায় শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সমাজে যার কাজ করার সৎ আগ্রহ রয়েছে এবং সামাজিকভাবে যার স্বচ্ছ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাকেই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে।
হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাকের হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. অহিদুল আলমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় পৌরসভা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
‘আত্মউন্নয়ন নয়, বরং সুবিধাবঞ্চিত গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই আমাদের মূল ব্রত। নিজেদের শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসভা আয়োজিত সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি, চলমান প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক এক সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত ওই মতবিনিময় সভায় প্রতিমন্ত্রী তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে সরকারের গতিশীল ও দেশপ্রেমিক দূরদর্শী কাজগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুসরণ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
হাইব্রিড অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ও ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মীর হেলাল বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই কোনো সুযোগসন্ধানী বা হাইব্রিড ব্যক্তিকে দলে ভেড়ানো যাবে না। এ ধরনের সুবিধাবাদীরা দলের মূল আদর্শ বিনষ্ট করে এবং অভ্যন্তরীণ চরম ক্ষতিসাধন করে। দেশ পুনর্গঠনের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে সবাইকে নিঃস্বার্থভাবে দলীয় নীতি ও শৃঙ্খলা মেনে নিজেদের আত্মনিয়োগ করতে হবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, দলের গঠিত কমিটি কোনোভাবেই পরিবর্তন করা যাবে না। সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলতে হবে। অসহায়, দুঃখী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই ঐক্য বজায় রাখা জরুরি।
নিজের জীবনবোধ ও সাংগঠনিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে নিজেকে পরিবর্তন করুন, দেখবেন চারপাশের সবকিছু ইতিবাচকভাবে বদলে গেছে। আমাদের সংগঠন হতে হবে নিছক ক্ষমতার জন্য নয়—মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল শক্তি হিসেবে।’
জন্মভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই হাটহাজারীর সন্তান। হাটহাজারী ও বায়েজিদের সার্বিক উন্নয়ন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব ও ধর্ম। আমার মন ও প্রাণ সবসময় এই পরম প্রিয় মাটির টানে হাটহাজারীতেই পড়ে থাকে।’
হাটহাজারীবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি জানান, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই হাটহাজারীতে একটি ৬০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল অনুমোদনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কাজ শুরু করার পাশাপাশি হাটহাজারীর প্রতিটি ইউনিয়নে জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, বিগত মাত্র ৮ মাসে হাটহাজারীতে যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে, তা বিগত ১৭ বছরেও সম্ভব হয়নি।
তরুণ সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমাজ থেকে মাদকের মূল উৎপাটনের ডাক দিয়ে তিনি সর্বস্তরের মানুষকে একসঙ্গে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। প্রতিটি এলাকায় শক্তিশালী সামাজিক নিরাপত্তা কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সমাজে যার কাজ করার সৎ আগ্রহ রয়েছে এবং সামাজিকভাবে যার স্বচ্ছ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাকেই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দিতে হবে।
হাটহাজারী পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ জাকের হোসেনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. অহিদুল আলমের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় পৌরসভা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন