সংবাদ

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামলীলায় শক্তি প্রদর্শন!


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামলীলায় শক্তি প্রদর্শন!
ছবি : সংগৃহীত

দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সংঘাত তুঙ্গে! অনুমতি নিয়ে জটিলতা, খার্গের বাড়িতে বিকল্প কর্মসূচি—১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানেই বড় চ্যালেঞ্জ বিরোধীদের। দিল্লির রাজনীতিতে এবার নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে নতুন সংঘাত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে সরব কংগ্রেস-সহ বিরোধী INDIA জোট।

আগামী ৩০ অক্টোবর তাকে কেন্দ্র করে প্রতীকী ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ বা গণ-অভিশংসন কর্মসূচি এবং ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে বড় জনসমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা।

প্রথমে ৩০ অক্টোবর দিল্লির অশোক হোটেলে বিরোধী সাংসদদের নিয়ে একটি মক পার্লামেন্ট বা প্রতীকী সংসদীয় অধিবেশন আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। পরে রামলীলা ময়দানেও কর্মসূচি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অনুমতি পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গের ১০, রাজাজি মার্গের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠানটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে।

এই কর্মসূচিতে প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমারের সভাপতিত্ব করার কথা। খার্গে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সমাপনী বক্তব্য রাখবেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে। বিরোধী সাংসদদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এ ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা ব্যক্তিদেরও বক্তব্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ সংসদের আনুষ্ঠানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া নয়। এটি বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি প্রতীকী কর্মসূচি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আলাদা এবং তার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংসদীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে INDIA জোট। কংগ্রেসের দাবি, ওই সমাবেশে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, কথিত ভোট কারচুপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে বিরোধীরা।

রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য বিরোধী নেতারা এই কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। একইভাবে এই আন্দোলনের জেরে জ্ঞানেশ কুমারের পদ থেকে অপসারণও নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো কোনও চূড়ান্ত তথ্য এখনও নেই।

সব মিলিয়ে ৩০ অক্টোবরের প্রতীকী অধিবেশন এবং ১ নভেম্বরের জনসমাবেশ—এই দুই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এখন দেখার, বিরোধীদের এই আন্দোলন কতটা বড় আকার নেয় এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা বিতর্কে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রামলীলায় শক্তি প্রদর্শন!

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে সংঘাত তুঙ্গে! অনুমতি নিয়ে জটিলতা, খার্গের বাড়িতে বিকল্প কর্মসূচি—১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানেই বড় চ্যালেঞ্জ বিরোধীদের। দিল্লির রাজনীতিতে এবার নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে নতুন সংঘাত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে সরব কংগ্রেস-সহ বিরোধী INDIA জোট।

আগামী ৩০ অক্টোবর তাকে কেন্দ্র করে প্রতীকী ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ বা গণ-অভিশংসন কর্মসূচি এবং ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে বড় জনসমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধীরা।

প্রথমে ৩০ অক্টোবর দিল্লির অশোক হোটেলে বিরোধী সাংসদদের নিয়ে একটি মক পার্লামেন্ট বা প্রতীকী সংসদীয় অধিবেশন আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। পরে রামলীলা ময়দানেও কর্মসূচি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে অনুমতি পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গের ১০, রাজাজি মার্গের সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠানটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কংগ্রেস সূত্রে জানানো হয়েছে।

এই কর্মসূচিতে প্রাক্তন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমারের সভাপতিত্ব করার কথা। খার্গে প্রস্তাব উত্থাপন করবেন এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সমাপনী বক্তব্য রাখবেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে। বিরোধী সাংসদদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এ ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা ব্যক্তিদেরও বক্তব্য রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এই ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ সংসদের আনুষ্ঠানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া নয়। এটি বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রতিবাদের একটি প্রতীকী কর্মসূচি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আলাদা এবং তার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সংসদীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অন্যদিকে, আগামী ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে INDIA জোট। কংগ্রেসের দাবি, ওই সমাবেশে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন, কথিত ভোট কারচুপি এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই কর্মসূচির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে চাইছে বিরোধীরা।

রাহুল গান্ধী ও অন্যান্য বিরোধী নেতারা এই কর্মসূচিকে বড় রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে তুলে ধরছেন। তবে ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না। একইভাবে এই আন্দোলনের জেরে জ্ঞানেশ কুমারের পদ থেকে অপসারণও নিশ্চিত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর মতো কোনও চূড়ান্ত তথ্য এখনও নেই।

সব মিলিয়ে ৩০ অক্টোবরের প্রতীকী অধিবেশন এবং ১ নভেম্বরের জনসমাবেশ—এই দুই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। এখন দেখার, বিরোধীদের এই আন্দোলন কতটা বড় আকার নেয় এবং নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে চলা বিতর্কে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত