এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পেছাতে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অংশীদার দেশ (গ্লোবাল পার্টনার) বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশ গুলোর কাছে ব্যাংক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আদায়, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে সময়বদ্ধ (টাইম বাউন্ড) এবং সুনির্দিষ্ট সংস্কার বাস্তবায়নের রোডম্যাপ দিতে হয়েছে।
জাতিসংঘ সহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বছর বছর তা পর্যবেক্ষণ (মনিটরিং) করবে। কারণ বাংলাদেশের সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়নের নিয়ে তাদের সংশয় রয়েছে।
অর্থমন্ত্রনালয় এর একজন কর্মকর্তা বলেন, ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী এ বানিজ্য মন্ত্রী কোর গ্রুপের সভায় মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের ’কঠোরভাবে সতর্ক’ করে দিয়েছেন।প্রথম পর্যায়ে ৫টি মন্ত্রনালয় বা বিভাগ কি পদক্ষেপ নিচ্ছে তা প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে ’মসৃণ, টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণ’ নিশ্চিত করতে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদি একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে একটি প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনমুখী এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ’দৃঢ় অবস্থানে’ উন্নীত করা। এর অংশ হিসেবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উত্তরণ প্রক্রিয়া সফল করতে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জিডপি বা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালের ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ ভিত্তিমান থেকে বাড়িয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। আর, মূল্যস্ফীতি বর্তমান ৯.১৬% থেকে আগামী তিন বছরে ট শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুদ আমদানির ৪ মাসের সমপরিমাণ মুদ্রা থেকে বাড়িয়ে ৬ মাসের আমদানির সমতুল্য করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এখন বাংলাদেশের কর-জিডিপি অবাংলাদ শতাংশের নিচে। তা বাড়িয়ে কমপক্ষে ১০% এবং বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ২৭.৯৩% থেকে বাড়িয়ে ৩২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং আর্থিক খাতের ঝুঁকি কমাতে রোডম্যাপে কঠোর সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত ৩০% খেলাপি ঋণ (এনপিএল) কমিয়ে ২০২৯ সালের মধ্যেএনপ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন কাঠামো প্রণয়ন, নিয়মিত ব্যাংক স্ট্রেস টেস্ট পরিচালনা এবং সম্পদের গুণগত মান যাচাইয়ে সার্বিক রিভিউ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কঠোরভাবে শনাক্ত ও শাস্তি প্রদান এবং একক ঋণ গ্রহীতা সীমার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
দেশের ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান বাড়ানো এবং তৈরি পোশাকের (আরএমজি) বাইরে অন্য পন্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ২০২৬,২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯ সালে কি কি করা হবে তার কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে রোডম্যাপে।
এতে বলা হয়েছে জাতীয় টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণ সংস্কারের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন পর্পরজবেক্ষ হবে। ইন্টিগ্রেটেড ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (OSS) চালু করা এবং ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নিশ্চিত করা হবে ।অপ্রয়োজনীয় লাইসেন্স বাতিল করা এবং 'ইনভেস্টমেন্ট আফটারকেয়ার মেকানিজম' চালু করা হবে ।
নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় দলিল ও সার্টিফিকেটের সংখ্যা কমানো এবং অনলাইন কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু রাখা হবে ।
দ্রুত মুনাফা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত নিয়ম প্রণয়ন করা, লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়িয়ে ৫ বছর করা এবং সব ধরনের অনুমোদন ও নবায়নের জন্য একটি ডিজিটাল কমন অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম প্রবর্তন করা হবে ।
কাস্টমস, বন্দর, বন্ডেড ওয়্যারহাউস, ব্যাংক এবং বাণিজ্য সংস্থাকে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমের সাথে পুরোপুরি একীভূত করা এবং ৩৯টি মন্ত্রণালয়/বিভাগকে এর আওতায় আনা।
এগুলো সবই করা হবে চলতি অর্থবছরে জুনের মধ্যে।
২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণ ও লজিস্টিকস সাপোর্ট উন্নত করতে ইন্টিগ্রেটেড শিল্প-লজিস্টিকস করিডোর করা হবে। ডব্লিউটিও (WTO) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং ন্যাশনাল লজিস্টিকস পলিসি ২০২৫ কার্যকর করা হবে।
বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি, বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক এবং আইপি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সুনির্দিষ্ট (ডেডিকেটেড) বাণিজ্যিক আদালত ও আইপি কোর্ট এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
শিল্পে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তি আধুনিকায়ন তহবিল, অটোমেশন প্রণোদনা এবং এসএমই উৎপাদনশীলতা কর্মসূচী চালু করা হবে। এ জন্য ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি মাস্টারপ্ল্যান (২০২১-২০৩০) আপডেইট বা যুগোপযোগী ও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে, যার আওতায় নারী নেতৃত্বাধীন উদ্যোগসহ অন্যান্য অপ্রধান উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও উৎপাদশীলতা বৃদ্ধিতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
রপ্তানি বহুমুখীকহয় শুধু তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস, আইসিটি, চামড়া, পাট, হালকা প্রকৌশল, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো উচ্চ-সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিশেষ নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দেয়া হবে।
শিল্পের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রপ্তানিমুখী কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক বাস্তবায়ন এবং ২০২৯ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ১৬ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
এছাড়া বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়ন, কনটেইনার ডেমারেজ (জরিমানা) বা ডুয়েল টাইম (থাকার সময়) ৯.৪৪ দিন থেকে কমিয়ে ৩-৪ দিনে নামিয়ে আনা এবং বন্দর ও পরিবহন সংযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন করা হবে।
এ সব পদক্ষেপের ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪.৯৮% থেকে বেড়ে ১০ শতাংশের বেশি উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজস্ব আদায়ে বছর ভিত্তিক তিন বছরের পরিকল্পনা দেয়া হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ অটোমেশন, ১৬ ক্যাটাগরির নতুন করদাতা শনাক্তকরণ ও করজালের পরিধি বৃদ্ধি করা, বিচক্ষণ বা ঝুঁকিভিত্তিক কর নিরীক্ষা এবং অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা পোস্ট-ক্লিয়ারেন্স অডিট বাস্তবায়ন করা, যাতে স্বেচ্ছাচারমূলক অডিট নির্বাচন দূর হয়। ভ্যাট কমপ্লায়েন্স জোরদার করা এবং ’অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি যৌক্তিক পর্যায়ে’ নামিয়ে আনা।
অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর যৌথ সমন্বয়ে এই সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হবে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পেছাতে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অংশীদার দেশ (গ্লোবাল পার্টনার) বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভুক্ত দেশ গুলোর কাছে ব্যাংক খাতের সংস্কার, রাজস্ব আদায়, ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করতে সময়বদ্ধ (টাইম বাউন্ড) এবং সুনির্দিষ্ট সংস্কার বাস্তবায়নের রোডম্যাপ দিতে হয়েছে।
জাতিসংঘ সহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বছর বছর তা পর্যবেক্ষণ (মনিটরিং) করবে। কারণ বাংলাদেশের সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়নের নিয়ে তাদের সংশয় রয়েছে।
অর্থমন্ত্রনালয় এর একজন কর্মকর্তা বলেন, ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী এ বানিজ্য মন্ত্রী কোর গ্রুপের সভায় মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তাদের ’কঠোরভাবে সতর্ক’ করে দিয়েছেন।প্রথম পর্যায়ে ৫টি মন্ত্রনালয় বা বিভাগ কি পদক্ষেপ নিচ্ছে তা প্রতি মাসে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে ’মসৃণ, টেকসই ও স্থায়ী উত্তরণ’ নিশ্চিত করতে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদি একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই রোডম্যাপের মূল লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে একটি প্রতিযোগিতামূলক, উৎপাদনমুখী এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ’দৃঢ় অবস্থানে’ উন্নীত করা। এর অংশ হিসেবে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উত্তরণ প্রক্রিয়া সফল করতে সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে জিডপি বা অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২০২৬ সালের ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ ভিত্তিমান থেকে বাড়িয়ে ২০২৯ সালের মধ্যে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে। আর, মূল্যস্ফীতি বর্তমান ৯.১৬% থেকে আগামী তিন বছরে ট শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুদ আমদানির ৪ মাসের সমপরিমাণ মুদ্রা থেকে বাড়িয়ে ৬ মাসের আমদানির সমতুল্য করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এখন বাংলাদেশের কর-জিডিপি অবাংলাদ শতাংশের নিচে। তা বাড়িয়ে কমপক্ষে ১০% এবং বিনিয়োগ-জিডিপি অনুপাত ২৭.৯৩% থেকে বাড়িয়ে ৩২ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং আর্থিক খাতের ঝুঁকি কমাতে রোডম্যাপে কঠোর সংস্কারমূলক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত ৩০% খেলাপি ঋণ (এনপিএল) কমিয়ে ২০২৯ সালের মধ্যেএনপ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। দুর্দশাগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নতুন কাঠামো প্রণয়ন, নিয়মিত ব্যাংক স্ট্রেস টেস্ট পরিচালনা এবং সম্পদের গুণগত মান যাচাইয়ে সার্বিক রিভিউ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কঠোরভাবে শনাক্ত ও শাস্তি প্রদান এবং একক ঋণ গ্রহীতা সীমার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
দেশের ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, অর্থনীতিতে শিল্পের অবদান বাড়ানো এবং তৈরি পোশাকের (আরএমজি) বাইরে অন্য পন্যের রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য ২০২৬,২০২৭, ২০২৮ ও ২০২৯ সালে কি কি করা হবে তার কর্মপরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে রোডম্যাপে।
এতে বলা হয়েছে জাতীয় টাস্কফোর্সের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণ সংস্কারের রোডম্যাপ বাস্তবায়ন পর্পরজবেক্ষ হবে। ইন্টিগ্রেটেড ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (OSS) চালু করা এবং ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসা শুরুর প্রয়োজনীয় লাইসেন্স নিশ্চিত করা হবে ।অপ্রয়োজনীয় লাইসেন্স বাতিল করা এবং 'ইনভেস্টমেন্ট আফটারকেয়ার মেকানিজম' চালু করা হবে ।
নতুন উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় দলিল ও সার্টিফিকেটের সংখ্যা কমানো এবং অনলাইন কোম্পানি নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু রাখা হবে ।
দ্রুত মুনাফা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত নিয়ম প্রণয়ন করা, লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়িয়ে ৫ বছর করা এবং সব ধরনের অনুমোদন ও নবায়নের জন্য একটি ডিজিটাল কমন অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম প্রবর্তন করা হবে ।
কাস্টমস, বন্দর, বন্ডেড ওয়্যারহাউস, ব্যাংক এবং বাণিজ্য সংস্থাকে ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমের সাথে পুরোপুরি একীভূত করা এবং ৩৯টি মন্ত্রণালয়/বিভাগকে এর আওতায় আনা।
এগুলো সবই করা হবে চলতি অর্থবছরে জুনের মধ্যে।
২০২৮ সালের জুন মাসের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণ ও লজিস্টিকস সাপোর্ট উন্নত করতে ইন্টিগ্রেটেড শিল্প-লজিস্টিকস করিডোর করা হবে। ডব্লিউটিও (WTO) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তি বাস্তবায়ন এবং ন্যাশনাল লজিস্টিকস পলিসি ২০২৫ কার্যকর করা হবে।
বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও বিরোধ নিষ্পত্তি, বিনিয়োগ, বাণিজ্যিক এবং আইপি সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সুনির্দিষ্ট (ডেডিকেটেড) বাণিজ্যিক আদালত ও আইপি কোর্ট এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
শিল্পে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রযুক্তি আধুনিকায়ন তহবিল, অটোমেশন প্রণোদনা এবং এসএমই উৎপাদনশীলতা কর্মসূচী চালু করা হবে। এ জন্য ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি মাস্টারপ্ল্যান (২০২১-২০৩০) আপডেইট বা যুগোপযোগী ও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে, যার আওতায় নারী নেতৃত্বাধীন উদ্যোগসহ অন্যান্য অপ্রধান উদ্যোক্তাদের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও উৎপাদশীলতা বৃদ্ধিতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
রপ্তানি বহুমুখীকহয় শুধু তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্মাসিউটিক্যালস, আইসিটি, চামড়া, পাট, হালকা প্রকৌশল, জাহাজ নির্মাণ এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো উচ্চ-সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে বিশেষ নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দেয়া হবে।
শিল্পের জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রপ্তানিমুখী কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সময়ভিত্তিক বাস্তবায়ন এবং ২০২৯ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার ১৬ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
এছাড়া বন্দর ও লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়ন, কনটেইনার ডেমারেজ (জরিমানা) বা ডুয়েল টাইম (থাকার সময়) ৯.৪৪ দিন থেকে কমিয়ে ৩-৪ দিনে নামিয়ে আনা এবং বন্দর ও পরিবহন সংযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন করা হবে।
এ সব পদক্ষেপের ফলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪.৯৮% থেকে বেড়ে ১০ শতাংশের বেশি উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজস্ব আদায়ে বছর ভিত্তিক তিন বছরের পরিকল্পনা দেয়া হয়েছে।এর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ অটোমেশন, ১৬ ক্যাটাগরির নতুন করদাতা শনাক্তকরণ ও করজালের পরিধি বৃদ্ধি করা, বিচক্ষণ বা ঝুঁকিভিত্তিক কর নিরীক্ষা এবং অটোমেটেড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা পোস্ট-ক্লিয়ারেন্স অডিট বাস্তবায়ন করা, যাতে স্বেচ্ছাচারমূলক অডিট নির্বাচন দূর হয়। ভ্যাট কমপ্লায়েন্স জোরদার করা এবং ’অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি যৌক্তিক পর্যায়ে’ নামিয়ে আনা।
অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর যৌথ সমন্বয়ে এই সংস্কার কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়িত হবে।

আপনার মতামত লিখুন