সংবাদ

‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে’

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং সাধারণ জনগণের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করার হীন উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল নিরীহ শ্রমিকদের জোরপূর্বক রাস্তায় নামিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, গত তিন দিন ধরে সরকার পক্ষ শ্রমিক ভাইদের পাশাপাশি শ্রমিক নেতা এবং কারখানা মালিকদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে একাধিকবার ফলপ্রসূ বৈঠক করেছে। যেহেতু শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন ছিল, তাই আগেই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে রবিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মজুরি বোর্ড ঘোষণা করা হবে। এর পরেও দেখা গেছে যে আজ সকাল থেকেই সমস্ত রাজপথে শ্রমিকদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।

শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং মজুরি বোর্ড ঘোষণার মাধ্যমেই সেই দাবি পূরণের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর শ্রমিক ভাইয়েরা সমস্ত আন্দোলন ও রাস্তাঘাট ছেড়ে দ্রুত নিজেদের কর্মস্থল অর্থাৎ কলকারখানায় সসম্মানে যোগদান করবেন। একই সঙ্গে মজুরি বোর্ডের সম্মানিত সদস্যদের প্রতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত মজুরি ঘোষণা করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে মন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি স্বাধীন বোর্ড, যেখানে নির্দিষ্ট করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যায় না। বোর্ড মিটিংয়ে শ্রমিক প্রতিনিধি ও মালিক প্রতিনিধিরা উভয়পক্ষ বসে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে শ্রমমন্ত্রী আরও বলেন, সমস্ত গার্মেন্টস ফেডারেশনের শীর্ষ নেতারা সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসে সংবাদমাধ্যমের সামনে আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন শ্রমিকরা শান্ত থেকে নিজ নিজ কারখানায় অবস্থান করেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে দেখা গেল, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারখানায় বিনা কারণে অহেতুক ছুটি ঘোষণা করা হলো। এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতেই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং সাধারণ জনগণ ও শ্রমিকরা এখন বিষয়টি পরিষ্কার বুঝতে পারছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, এই আন্দোলনে সম্প্রতি নিষিদ্ধঘোষিত একটি ছাত্র সংগঠনের এক সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রমিক সেজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার ছবিসহ প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে।

ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভেতরে অন্য কোনো গ্রুপ তাদের নিজস্ব ফায়দা হাসিল করার জন্য এসব অপতৎপরতা চালাচ্ছে যা দেশবাসীর কাছে আজ উন্মোচিত।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে’

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলা এবং সাধারণ জনগণের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করার হীন উদ্দেশ্যে একটি কুচক্রী মহল নিরীহ শ্রমিকদের জোরপূর্বক রাস্তায় নামিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রাজধানীর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, গত তিন দিন ধরে সরকার পক্ষ শ্রমিক ভাইদের পাশাপাশি শ্রমিক নেতা এবং কারখানা মালিকদের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে একাধিকবার ফলপ্রসূ বৈঠক করেছে। যেহেতু শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন ছিল, তাই আগেই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে রবিবারই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মজুরি বোর্ড ঘোষণা করা হবে। এর পরেও দেখা গেছে যে আজ সকাল থেকেই সমস্ত রাজপথে শ্রমিকদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে।

শ্রমিকদের আশ্বস্ত করে মন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং মজুরি বোর্ড ঘোষণার মাধ্যমেই সেই দাবি পূরণের ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আজকের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর শ্রমিক ভাইয়েরা সমস্ত আন্দোলন ও রাস্তাঘাট ছেড়ে দ্রুত নিজেদের কর্মস্থল অর্থাৎ কলকারখানায় সসম্মানে যোগদান করবেন। একই সঙ্গে মজুরি বোর্ডের সম্মানিত সদস্যদের প্রতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত মজুরি ঘোষণা করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে স্পষ্ট করে মন্ত্রী বলেন, এটি সম্পূর্ণ একটি স্বাধীন বোর্ড, যেখানে নির্দিষ্ট করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া যায় না। বোর্ড মিটিংয়ে শ্রমিক প্রতিনিধি ও মালিক প্রতিনিধিরা উভয়পক্ষ বসে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরে শ্রমমন্ত্রী আরও বলেন, সমস্ত গার্মেন্টস ফেডারেশনের শীর্ষ নেতারা সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসে সংবাদমাধ্যমের সামনে আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন শ্রমিকরা শান্ত থেকে নিজ নিজ কারখানায় অবস্থান করেন। কিন্তু অদ্ভুতভাবে দেখা গেল, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি কারখানায় বিনা কারণে অহেতুক ছুটি ঘোষণা করা হলো। এটি অত্যন্ত পরিষ্কার যে কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতেই এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে এবং সাধারণ জনগণ ও শ্রমিকরা এখন বিষয়টি পরিষ্কার বুঝতে পারছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলেন, এই আন্দোলনে সম্প্রতি নিষিদ্ধঘোষিত একটি ছাত্র সংগঠনের এক সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রমিক সেজে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার ছবিসহ প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে গেছে।

ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভেতরে অন্য কোনো গ্রুপ তাদের নিজস্ব ফায়দা হাসিল করার জন্য এসব অপতৎপরতা চালাচ্ছে যা দেশবাসীর কাছে আজ উন্মোচিত।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত