প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের বাসায় জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেন না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসায় এখন গ্রিড বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় না, সব সৌরবিদ্যুতে চলে।
রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকায় বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইডকলের যৌথ আয়োজনে ”বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬” উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়। আগামী ৩ এবং ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই এক্সপো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলার প্রতিপাদ্য হচ্ছে, “প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই”।
প্রধানমন্ত্রীর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমদু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা আমরা পজিটিভভাবে নিয়েছি। আমরা চাই জনগণও সোলার ব্যবহার করুক।”
তিনি বলেন, “গত ৮ মাস ধরে আমরা সোলারের জন্য কাজ করছি। দেশের মানুষকে উৎসাহিত করছি। সে জন্যই এ এক্সপো করছি। সরকারিভাবে এ ধরনের আয়োজন এটাই প্রথম, প্রধানমন্ত্রী নিজে থাকবেন। উনি নিজেও অফ গ্রিড হয়ে গেছেন। তিনি নিজের বাসায় আর গ্রিড বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না।”
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “এনার্জির দাম বাড়তে বাড়তে ৩২ ডলারে চলে গেছে। সে জন্য সোলারে যেতে হবে, এখান থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধের পরে অনেক বড় দেশ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। আগের সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছে কিন্তু জ্বালানি নিশ্চিত করেনি। একটি কূপও খনন করেনি। উন্নয়নের অনেক জোয়ার দেখেছি, উন্নয়ন উন্নয়ন করে গণতন্ত্র বন্ধ করা হয়। তার ফল আমরা পাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করছি। আগামী বছর থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আনতে পারবো। ডিমান্ড সাপ্লাই ঠিক থাকলেও স্থানীয় সমস্যার কারনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। আগামী সামারে লোডশেডিং কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।”
কবে নাগাদ লোডশেডিং বন্ধ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “চাহিদা সরবরাহের গ্যাপ কমিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই গ্রিষ্মে বিদ্যুতের যে কষ্ট হয়ে সেটি কমিয়ে আনা। এবারের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সহনীয় মাত্রায় আনা জন্য কাজ করছি।”
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, “সৌর থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ব বিদ্যুৎ ব্যাটারি বেকাপে রাখার কথা বলা হয়েছে। এমনকি কয়লা, গ্যাসের বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে স্টোরেজ করা যায় কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। যাতে পিক আওয়ারে ব্যবহার করা যায়।”
এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, “ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দাম স্টোরেজসহ ১০.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন থেকে চার টাকা পড়ে ব্যাটারি ছাড়া। ব্যাটারি যোগ করলেও ৮ টাকার নিচে থাকবে।”
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের প্যানেলসহ অন্যান্য উপকরণের ডিউটি ফ্রি করা হলেও সেই অনুপাতে দাম কমেনি।
এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিপি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে সৌরবিদ্যুৎ থেকে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ি, জাতীয় গ্রিড ২৫ থেকে ২৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনে সক্ষম। সৌর থেকে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট নেওয়া সম্ভব। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগ, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের বাসায় জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেন না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসায় এখন গ্রিড বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় না, সব সৌরবিদ্যুতে চলে।
রবিবার (১ নভেম্বর) ঢাকায় বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও ইডকলের যৌথ আয়োজনে ”বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬” উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করা হয়। আগামী ৩ এবং ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই এক্সপো দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলার প্রতিপাদ্য হচ্ছে, “প্রতি ইঞ্চি ছাদ কাজে লাগাই, সৌরবিদ্যুতে আয় বাড়াই”।
প্রধানমন্ত্রীর সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার প্রসঙ্গে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমদু সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা আমরা পজিটিভভাবে নিয়েছি। আমরা চাই জনগণও সোলার ব্যবহার করুক।”
তিনি বলেন, “গত ৮ মাস ধরে আমরা সোলারের জন্য কাজ করছি। দেশের মানুষকে উৎসাহিত করছি। সে জন্যই এ এক্সপো করছি। সরকারিভাবে এ ধরনের আয়োজন এটাই প্রথম, প্রধানমন্ত্রী নিজে থাকবেন। উনি নিজেও অফ গ্রিড হয়ে গেছেন। তিনি নিজের বাসায় আর গ্রিড বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন না।”
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, “এনার্জির দাম বাড়তে বাড়তে ৩২ ডলারে চলে গেছে। সে জন্য সোলারে যেতে হবে, এখান থেকে পরিত্রাণ পেতে হবে।”
এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন, “যুদ্ধের পরে অনেক বড় দেশ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। আগের সরকার বিদ্যুৎ কেন্দ্র করেছে কিন্তু জ্বালানি নিশ্চিত করেনি। একটি কূপও খনন করেনি। উন্নয়নের অনেক জোয়ার দেখেছি, উন্নয়ন উন্নয়ন করে গণতন্ত্র বন্ধ করা হয়। তার ফল আমরা পাচ্ছি।”
তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করছি। আগামী বছর থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি আনতে পারবো। ডিমান্ড সাপ্লাই ঠিক থাকলেও স্থানীয় সমস্যার কারনে বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। আগামী সামারে লোডশেডিং কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে।”
কবে নাগাদ লোডশেডিং বন্ধ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “চাহিদা সরবরাহের গ্যাপ কমিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই গ্রিষ্মে বিদ্যুতের যে কষ্ট হয়ে সেটি কমিয়ে আনা। এবারের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সহনীয় মাত্রায় আনা জন্য কাজ করছি।”
বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ বলেন, “সৌর থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ব বিদ্যুৎ ব্যাটারি বেকাপে রাখার কথা বলা হয়েছে। এমনকি কয়লা, গ্যাসের বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে স্টোরেজ করা যায় কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে। যাতে পিক আওয়ারে ব্যবহার করা যায়।”
এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, “ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের দাম স্টোরেজসহ ১০.৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন থেকে চার টাকা পড়ে ব্যাটারি ছাড়া। ব্যাটারি যোগ করলেও ৮ টাকার নিচে থাকবে।”
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের প্যানেলসহ অন্যান্য উপকরণের ডিউটি ফ্রি করা হলেও সেই অনুপাতে দাম কমেনি।
এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিপি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে তিন থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে সৌরবিদ্যুৎ থেকে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ি, জাতীয় গ্রিড ২৫ থেকে ২৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সঞ্চালনে সক্ষম। সৌর থেকে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট নেওয়া সম্ভব। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ বিভাগ, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন