সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় এক তরুণীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং উত্তরার বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরা এলাকার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। ওই দিন সন্ধ্যায় তারা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসেও যান। এছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাহসিফের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করেছিলেন ওই তরুণী। পরবর্তী সময়ে নিহতের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে দিশার একাধিকবার কথা বলার চাঞ্চল্যকর তথ্যও পাওয়া গেছে। এর আগে এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে এই তরুণীর বক্তব্য নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
পুলিশের জোরালো দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তরুণীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ মিলছে।
তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের সপক্ষে পুলিশ মোট ছয়টি জোরালো কারণ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে তাহসিফ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের সঠিক স্থান নির্ধারণ করা।
এছাড়া অভিযুক্ত তরুণী ও পূর্বে গ্রেফতার হওয়া দীপের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই এবং তরুণীর দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তরুণী জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে গিয়ে মামলার তদন্ত কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাত দুইটার দিকে রাজধানীর কাফরুলের নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই তরুণীকে নিয়ে এ মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়ল। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর এই মামলার অপর আসামি ও নিহত তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর সাবেক বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এর পরের দিন ২৮ অক্টোবর টঙ্গীর কাছে তুরাগ নদ থেকে তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পুরো হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় এক তরুণীর চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানিয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং উত্তরার বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরা এলাকার নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে গিয়েছিলেন ওই তরুণী। ওই দিন সন্ধ্যায় তারা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসেও যান। এছাড়া একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাহসিফের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেলে ঘোরাঘুরি করেছিলেন ওই তরুণী। পরবর্তী সময়ে নিহতের মুঠোফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে দিশার একাধিকবার কথা বলার চাঞ্চল্যকর তথ্যও পাওয়া গেছে। এর আগে এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সঙ্গে এই তরুণীর বক্তব্য নিখুঁতভাবে মিলিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন।
পুলিশের জোরালো দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তরুণীর সরাসরি সংশ্লিষ্টতার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ মিলছে।
তরুণীকে জিজ্ঞাসাবাদের সপক্ষে পুলিশ মোট ছয়টি জোরালো কারণ তুলে ধরেছে। এর মধ্যে রয়েছে তাহসিফ হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা, অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের সঠিক স্থান নির্ধারণ করা।
এছাড়া অভিযুক্ত তরুণী ও পূর্বে গ্রেফতার হওয়া দীপের বক্তব্যের মধ্যে মিল-অমিল যাচাই এবং তরুণীর দেওয়া বক্তব্যের সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করার কথাও বলা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, তরুণী জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে গিয়ে মামলার তদন্ত কার্যক্রমে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার রাত দুইটার দিকে রাজধানীর কাফরুলের নিজ বাসা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই তরুণীকে নিয়ে এ মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা বাড়ল। এর আগে গত ৩১ অক্টোবর এই মামলার অপর আসামি ও নিহত তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর সাবেক বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এর পরের দিন ২৮ অক্টোবর টঙ্গীর কাছে তুরাগ নদ থেকে তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পুরো হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন