দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বিশাল এক প্রতিবাদ সমাবেশে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ ও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার এক গভীর শিকার বলে জোরালো অভিযোগ করে মমতা ব্যানার্জী বলেছেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলা লুট করছে। তবে তাদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে, কোনো অবস্থাতেই বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। রামলীলা ময়দানে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা আরও বলেন, আমরা যেকোনো মূল্যে দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করবো এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরায় ফিরিয়ে আনবো। এই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক লড়াই সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমেই তার দল ও জোট অব্যাহত রাখবে বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দেন। সমাবেশে যোগ দেওয়া বিরোধী জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ বর্তমান স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে। এদিকে সমাবেশে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি ও অত্যন্ত তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, সুপরিকল্পিতভাবে ভোট চুরির মাধ্যমে এদেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিস্ফোরক দাবি করে রাহুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যদি নির্দিষ্ট পদে না থাকতেন, তবে নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ কখনো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। রাহুল গান্ধী আরও বলেন, এটি কোনো সাধারণ দোকান থেকে চুরির মতো অপরাধ নয়। দোকান থেকে কেউ কিছু চুরি করলে তাকে সাধারণত সাধারণ চুরি বলা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত সুকৌশলে চুরি করা হচ্ছে। আইনের দৃষ্টিতে একে বিরলতম অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এটি সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। দেশের সংবিধান আজ চরম সংকটের মুখে পড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সমাবেশে উপস্থিত জোটের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাহুল বলেন, আপনারা নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে যে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছে গেছে। এটি কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বর নয়, এটি দেশের তরুণ সমাজ, কৃষক এবং খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জোরালো কণ্ঠস্বর। তারা আজ একসুরে বলছেন, এই দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। তিনি ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে আরও বলেন, আপনারা নিজেদের অনেক বড় বা ক্ষমতাধর ভাবতে পারেন, আপনাদের প্রচুর অর্থ ও সম্পদ থাকতে পারে, কিন্তু মনে রাখবেন আপনারা দেশের পবিত্র সংবিধানের চেয়ে কোনোভাবেই বড় নন। সংবিধানই এই দেশের সকলের ঊর্ধ্বে স্থান পাবে।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র বিশাল এক প্রতিবাদ সমাবেশে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভ ও তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান ও পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গকে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার এক গভীর শিকার বলে জোরালো অভিযোগ করে মমতা ব্যানার্জী বলেছেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলা লুট করছে। তবে তাদের এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে, কোনো অবস্থাতেই বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। রামলীলা ময়দানে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা আরও বলেন, আমরা যেকোনো মূল্যে দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করবো এবং হারানো গণতন্ত্র পুনরায় ফিরিয়ে আনবো। এই রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক লড়াই সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমেই তার দল ও জোট অব্যাহত রাখবে বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা দেন। সমাবেশে যোগ দেওয়া বিরোধী জোটের শীর্ষ স্থানীয় নেতা এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের মানুষ বর্তমান স্বৈরাচারী মনোভাবের বিরুদ্ধে এককাট্টা হয়েছে। এদিকে সমাবেশে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সরাসরি ও অত্যন্ত তীব্র আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, সুপরিকল্পিতভাবে ভোট চুরির মাধ্যমে এদেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। বিস্ফোরক দাবি করে রাহুল বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যদি নির্দিষ্ট পদে না থাকতেন, তবে নরেন্দ্র মোদী ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ কখনো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। রাহুল গান্ধী আরও বলেন, এটি কোনো সাধারণ দোকান থেকে চুরির মতো অপরাধ নয়। দোকান থেকে কেউ কিছু চুরি করলে তাকে সাধারণত সাধারণ চুরি বলা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর অত্যন্ত সুকৌশলে চুরি করা হচ্ছে। আইনের দৃষ্টিতে একে বিরলতম অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এটি সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। দেশের সংবিধান আজ চরম সংকটের মুখে পড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। সমাবেশে উপস্থিত জোটের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাহুল বলেন, আপনারা নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহকে যে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, তা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ঠিক জায়গায় পৌঁছে গেছে। এটি কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বর নয়, এটি দেশের তরুণ সমাজ, কৃষক এবং খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জোরালো কণ্ঠস্বর। তারা আজ একসুরে বলছেন, এই দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হতে দেওয়া হবে না। তিনি ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশে আরও বলেন, আপনারা নিজেদের অনেক বড় বা ক্ষমতাধর ভাবতে পারেন, আপনাদের প্রচুর অর্থ ও সম্পদ থাকতে পারে, কিন্তু মনে রাখবেন আপনারা দেশের পবিত্র সংবিধানের চেয়ে কোনোভাবেই বড় নন। সংবিধানই এই দেশের সকলের ঊর্ধ্বে স্থান পাবে।

আপনার মতামত লিখুন