সংবাদ

ডাকঘরে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, কারাগারে ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী


প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

ডাকঘরে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, কারাগারে ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী
ছবি : সংবাদ

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে (পোস্ট অফিস) ১০৪ জন গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় জেলাটির প্রধান ডাকঘরের সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই মামলার অপর ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, সাবেক পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, এস এম নুরুজ্জামান, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম ও নুরুল মাসুদ।

তবে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের শতকোটি টাকা আত্মসাতের মূল হোতা বা মূল অভিযুক্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতারণার শিকার গ্রাহকেরা।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আত্মসাৎ হওয়া টাকা ফেরত পাওয়া এবং অভিযুক্ত মূল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

মানববন্ধনে আত্মসাৎ করা অন্তত ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দ্রুত ফেরতের জোর দাবি জানান গ্রাহকেরা। গত ৩০ জুলাই ভুক্তভোগীদের পক্ষে নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে তৎকালীন পোস্টমাস্টারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, কষ্টার্জিত দীর্ঘদিনের জমানো টাকা তারা রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয় হিসেবে গচ্ছিত রেখেছিলেন। তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র ও লেটার রাইটার শিহাব মৃধাসহ অন্যদের যোগসাজশে পাসবইয়ে ভুয়া সিল এবং কৌশলে সাদা স্লিপের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম লাভলু বলেন, “মামলার মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে ৭ জন আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং অনুপস্থিত বাকি ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে ওয়াারেন্ট জারি করেন।”

আইনগত তথ্যমতে, ২ আগস্ট কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র ও লেটার রাইটার শিহাব মৃধাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা জমাদানকারী ১০৪ জন গ্রাহক এই অভিনব প্রতারণার শিকার হন। পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র ও শিহাব মৃধা সাদা স্লিপে সিল দিয়ে টাকা রাখলেও সরকারি কোষাগারে তা জমা করেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্তরা আত্মগোপন করেন।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের বর্তমান পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, “জুলাইয়ে আমি এখানে যোগদানের পর জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পরিদর্শক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ পর্যন্ত ১০৪ জন গ্রাহকের মোট ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।”

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


ডাকঘরে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ, কারাগারে ৭ কর্মকর্তা-কর্মচারী

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে (পোস্ট অফিস) ১০৪ জন গ্রাহকের প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় জেলাটির প্রধান ডাকঘরের সাত কর্মকর্তা-কর্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই মামলার অপর ছয় আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হায়দার আলী এ আদেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন লেটার রাইটার মাহবুবুর রহমান, পোস্টাল অপারেটর আসমা আক্তার, সাবেক পোস্টাল অপারেটর নাজমুল হাসান, এস এম নুরুজ্জামান, প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার বিউটি রানী দাস, এমএলএসএস মো. রেজাউল আলম ও নুরুল মাসুদ।

তবে রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের শতকোটি টাকা আত্মসাতের মূল হোতা বা মূল অভিযুক্তরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রতারণার শিকার গ্রাহকেরা।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আত্মসাৎ হওয়া টাকা ফেরত পাওয়া এবং অভিযুক্ত মূল আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা।

মানববন্ধনে আত্মসাৎ করা অন্তত ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দ্রুত ফেরতের জোর দাবি জানান গ্রাহকেরা। গত ৩০ জুলাই ভুক্তভোগীদের পক্ষে নাসরিন আক্তার বাদী হয়ে তৎকালীন পোস্টমাস্টারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

গ্রাহকদের অভিযোগ, কষ্টার্জিত দীর্ঘদিনের জমানো টাকা তারা রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয় হিসেবে গচ্ছিত রেখেছিলেন। তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র ও লেটার রাইটার শিহাব মৃধাসহ অন্যদের যোগসাজশে পাসবইয়ে ভুয়া সিল এবং কৌশলে সাদা স্লিপের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম লাভলু বলেন, “মামলার মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে ৭ জন আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। বিচারক শুনানি শেষে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং অনুপস্থিত বাকি ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে ওয়াারেন্ট জারি করেন।”

আইনগত তথ্যমতে, ২ আগস্ট কুষ্টিয়া ডাক বিভাগের পোস্ট অফিস পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে তৎকালীন পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র ও লেটার রাইটার শিহাব মৃধাসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে রাজবাড়ীর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরে সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা জমাদানকারী ১০৪ জন গ্রাহক এই অভিনব প্রতারণার শিকার হন। পোস্টমাস্টার বিকাশ চন্দ্র ও শিহাব মৃধা সাদা স্লিপে সিল দিয়ে টাকা রাখলেও সরকারি কোষাগারে তা জমা করেননি। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্তরা আত্মগোপন করেন।

রাজবাড়ী প্রধান ডাকঘরের বর্তমান পোস্টমাস্টার শামীম আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, “জুলাইয়ে আমি এখানে যোগদানের পর জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ডাক বিভাগের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া আঞ্চলিক পরিদর্শক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। এ পর্যন্ত ১০৪ জন গ্রাহকের মোট ১ কোটি ৪৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।”


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত