মাত্র ১৯ বছর বয়স। এসএসসি পরীক্ষায় পাসের আনন্দ যেন কাটতেই চায়নি। চোখে স্বপ্ন ছিল—ঢাকায় গিয়ে উচ্চশিক্ষা নেবেন, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে বাবার পালিয়ে যাওয়ার কারণে সেই স্বপ্ন হাতের মুঠোয় এসেও অধরা থেকে গেল।
কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ নিয়ে মায়ের সঙ্গে অভিমানে শেষ পর্যন্ত থেমে গেল তার জীবনেরই পথ। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন।
বাগেরহাটের শরণখোলায় ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনাটি এক মেয়ের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের পাশাপাশি উঠে এসেছে একটি অসহায় পরিবারের করুণ বাস্তবতার চিত্র।
শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম পিঞ্জুর মেয়ে লতিকা হেলেন পিংকি ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের বাতিঘর। মাত্র চার দিন আগেই তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
তবে সেই সাফল্যের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করা হলো না কারোই। না পরিবারের, না বাবার না পিংকির নিজের।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পাসের পর ঢাকায় পড়াশোনার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরেন পিংকি। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর থেকে তার বাবা এলাকায় না থাকায় পরিবারে দেখা দেয় চরম আর্থিক সংকট।
মা অনেক কষ্ট করে সংসার সামলাচ্ছেন। সে কারণে মেয়ের ঢাকায় গিয়ে পড়ার ইচ্ছা পূরণ করার সক্ষমতা ছিল না। মেয়েকে সে কথা জানিয়েও দেন। তবে তাতে দারুণ অভিমান হয় মেয়ের।
মায়ের সেই আপত্তি নিয়ে কোনো কথা না বলেই বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে নিজের রুমে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন পিংকি।
স্বজনরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাঈম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই পিংকির মৃত্যু হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে পাঠিয়েছে।
শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম জানান, এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং পারিবারিক অসহায়ত্ব কীভাবে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনকে থামিয়ে দিল, তা নিয়ে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এই ঘটনা সমাজকে এ কথাই মনে করিয়ে দেয়—একটি স্বপ্ন ভাঙার পেছনে কেবল অভিমান নয়, নিঃশব্দে কাজ করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যও।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
মাত্র ১৯ বছর বয়স। এসএসসি পরীক্ষায় পাসের আনন্দ যেন কাটতেই চায়নি। চোখে স্বপ্ন ছিল—ঢাকায় গিয়ে উচ্চশিক্ষা নেবেন, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে বাবার পালিয়ে যাওয়ার কারণে সেই স্বপ্ন হাতের মুঠোয় এসেও অধরা থেকে গেল।
কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ নিয়ে মায়ের সঙ্গে অভিমানে শেষ পর্যন্ত থেমে গেল তার জীবনেরই পথ। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন।
বাগেরহাটের শরণখোলায় ঘটে যাওয়া এ মর্মান্তিক ঘটনাটি এক মেয়ের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের পাশাপাশি উঠে এসেছে একটি অসহায় পরিবারের করুণ বাস্তবতার চিত্র।
শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম পিঞ্জুর মেয়ে লতিকা হেলেন পিংকি ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের বাতিঘর। মাত্র চার দিন আগেই তিনি এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
তবে সেই সাফল্যের আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করা হলো না কারোই। না পরিবারের, না বাবার না পিংকির নিজের।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এসএসসি পাসের পর ঢাকায় পড়াশোনার জন্য মায়ের কাছে বায়না ধরেন পিংকি। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর থেকে তার বাবা এলাকায় না থাকায় পরিবারে দেখা দেয় চরম আর্থিক সংকট।
মা অনেক কষ্ট করে সংসার সামলাচ্ছেন। সে কারণে মেয়ের ঢাকায় গিয়ে পড়ার ইচ্ছা পূরণ করার সক্ষমতা ছিল না। মেয়েকে সে কথা জানিয়েও দেন। তবে তাতে দারুণ অভিমান হয় মেয়ের।
মায়ের সেই আপত্তি নিয়ে কোনো কথা না বলেই বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে নিজের রুমে গিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন পিংকি।
স্বজনরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. নাঈম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই পিংকির মৃত্যু হয়ে গিয়েছিল। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে পাঠিয়েছে।
শরণখোলা থানার ওসি রোকেয়া খানম জানান, এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং পারিবারিক অসহায়ত্ব কীভাবে একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনকে থামিয়ে দিল, তা নিয়ে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এই ঘটনা সমাজকে এ কথাই মনে করিয়ে দেয়—একটি স্বপ্ন ভাঙার পেছনে কেবল অভিমান নয়, নিঃশব্দে কাজ করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যও।

আপনার মতামত লিখুন