প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যখন নতুন প্রজন্মের চোখ আটকে আছে মোবাইল আর কম্পিউটারের পর্দায়, ঠিক তখনই বইমুখী সৃজনশীল ও মননশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন’।
‘জ্ঞান হোক সবার, পাঠাগার হোক প্রতিটি জনপদে’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ও প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, শুধু পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না; ঘরে ঘরে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করে তাদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় নিজেদের এগিয়ে রাখতে পারে।
এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানচর্চার সুযোগ সম্প্রসারণ করা।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বাংলাদেশের পাঠকসমাজের বই পড়ার আগ্রহের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, হুমায়ূন আহমেদের ‘নন্দিত নরকে’ ও ‘জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প’, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘হিমু’ ও ‘মিসির আলি’ সিরিজ এবং বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মতো বইগুলো আজও পাঠকদের মনে দারুণভাবে দাগ কেটেছে। এসব বইয়ের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে, বইয়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এখনো হারিয়ে যায়নি।
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাঠাগারে শুধু বই সংগ্রহ করে সাজিয়ে রাখাই যথেষ্ট নয়; বই পড়া এবং জ্ঞানচর্চায় মানুষকে সম্পৃক্ত করাই হলো মূল চ্যালেঞ্জ। পাঠাগারকে কেবল একটি ভবন বা বই রাখার জায়গা হিসেবে নয়, বরং একটি জীবন্ত জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সম্মেলনে অন্য বক্তারা বলেন, বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মনন বিকাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্ম যেন ডিজিটাল আসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে বইয়ের জগতে ডুবে থাকতে পারে, সেজন্য বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পাঠাগারকে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। পাঠকের বয়স, শ্রেণি ও পেশা অনুযায়ী বই নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী কী পড়তে ভালোবাসবে, একজন কৃষক বা শ্রমিক কী পড়ে উপকৃত হবেন—সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখে পাঠাগার সাজাতে হবে। পাশাপাশি পাঠাগারকেন্দ্রিক নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে সংগঠকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বই পড়ার অভ্যাস একজন মানুষের কল্পনাশক্তি, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে তোলে। যে শিশু বা তরুণ বেশি বই পড়ে, তার ভাষাগত দক্ষতা, চিন্তার গভীরতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর প্রযুক্তির প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে টিকে থাকতে হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীলতা ও মননশীলতার কোনো বিকল্প নেই। আর এই সৃজনশীলতা গড়ে তোলার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো বই পড়া।
‘বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন’ সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে চায়। ঘরে ঘরে পাঠাগার গড়ে তোলার মাধ্যমে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করিয়ে দেওয়া হবে, যাতে করে তারা মোবাইল বা ইন্টারনেটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা পায় এবং নিজেদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসতে পারে।
যারা এই আন্দোলনে
সম্মেলনে দেশের প্রতিটি জনপদে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, বই পড়ার পরিবেশ তৈরি এবং নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন নিতায় দাশ, আবু ইউসূফ, অধ্যাপক ডা. তাহমিনা ছড়া, ডা. আফসানা করিম সাথি, শংকর সাহা, অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম রিপন, সিদ্ধান্ত এবং অধ্যাপক এম এম আকাশ।
এ ছাড়া তরুণ উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ড. বিজন সাহা (রাশিয়া), জাকির হোসেন বাচ্চু, ডা. গোলাম সারওয়ার পলাশ (অস্ট্রেলিয়া) ও নাদেরা সুলতানা নদী।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই গড়ে উঠবে বই পড়ার উষ্ণ পরিবেশ এবং পাঠাগারগুলো হয়ে উঠবে জ্ঞান ও মনন বিকাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র।
‘পাঠাগার আন্দোলন’ শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে, যা ঘরে ঘরে বইয়ের আলো ছড়িয়ে দেবে এবং একটি আলোকিত, সৃজনশীল ও মননশীল জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যখন নতুন প্রজন্মের চোখ আটকে আছে মোবাইল আর কম্পিউটারের পর্দায়, ঠিক তখনই বইমুখী সৃজনশীল ও মননশীল প্রজন্ম গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করল ‘বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন’।
‘জ্ঞান হোক সবার, পাঠাগার হোক প্রতিটি জনপদে’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ও প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, শুধু পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করলেই হবে না; ঘরে ঘরে বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বইমুখী করে তাদের সৃজনশীলতা ও মননশীলতা বাড়াতে হবে, যাতে তারা বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় নিজেদের এগিয়ে রাখতে পারে।
এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানচর্চার সুযোগ সম্প্রসারণ করা।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এম এম আকাশ। তিনি বাংলাদেশের পাঠকসমাজের বই পড়ার আগ্রহের নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, হুমায়ূন আহমেদের ‘নন্দিত নরকে’ ও ‘জ্যোৎস্না ও জননীর গল্প’, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘হিমু’ ও ‘মিসির আলি’ সিরিজ এবং বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র মতো বইগুলো আজও পাঠকদের মনে দারুণভাবে দাগ কেটেছে। এসব বইয়ের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে, বইয়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এখনো হারিয়ে যায়নি।
অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাঠাগারে শুধু বই সংগ্রহ করে সাজিয়ে রাখাই যথেষ্ট নয়; বই পড়া এবং জ্ঞানচর্চায় মানুষকে সম্পৃক্ত করাই হলো মূল চ্যালেঞ্জ। পাঠাগারকে কেবল একটি ভবন বা বই রাখার জায়গা হিসেবে নয়, বরং একটি জীবন্ত জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
সম্মেলনে অন্য বক্তারা বলেন, বই মানুষের জ্ঞান, চিন্তা ও মনন বিকাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে নতুন প্রজন্ম যেন ডিজিটাল আসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে বইয়ের জগতে ডুবে থাকতে পারে, সেজন্য বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং পাঠাগারকে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। পাঠকের বয়স, শ্রেণি ও পেশা অনুযায়ী বই নির্বাচনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী কী পড়তে ভালোবাসবে, একজন কৃষক বা শ্রমিক কী পড়ে উপকৃত হবেন—সেই বিষয়গুলো মাথায় রেখে পাঠাগার সাজাতে হবে। পাশাপাশি পাঠাগারকেন্দ্রিক নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে বই পড়ায় উদ্বুদ্ধ করতে সংগঠকদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বই পড়ার অভ্যাস একজন মানুষের কল্পনাশক্তি, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতাকে বাড়িয়ে তোলে। যে শিশু বা তরুণ বেশি বই পড়ে, তার ভাষাগত দক্ষতা, চিন্তার গভীরতা এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি হয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর প্রযুক্তির প্রতিযোগিতামূলক এই বিশ্বে টিকে থাকতে হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সৃজনশীলতা ও মননশীলতার কোনো বিকল্প নেই। আর এই সৃজনশীলতা গড়ে তোলার সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায় হলো বই পড়া।
‘বাংলাদেশ পাঠাগার আন্দোলন’ সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে চায়। ঘরে ঘরে পাঠাগার গড়ে তোলার মাধ্যমে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করিয়ে দেওয়া হবে, যাতে করে তারা মোবাইল বা ইন্টারনেটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা পায় এবং নিজেদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে এগিয়ে আসতে পারে।
যারা এই আন্দোলনে
সম্মেলনে দেশের প্রতিটি জনপদে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, বই পড়ার পরিবেশ তৈরি এবং নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন নিতায় দাশ, আবু ইউসূফ, অধ্যাপক ডা. তাহমিনা ছড়া, ডা. আফসানা করিম সাথি, শংকর সাহা, অধ্যাপক ড. মনিরুল ইসলাম রিপন, সিদ্ধান্ত এবং অধ্যাপক এম এম আকাশ।
এ ছাড়া তরুণ উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ড. বিজন সাহা (রাশিয়া), জাকির হোসেন বাচ্চু, ডা. গোলাম সারওয়ার পলাশ (অস্ট্রেলিয়া) ও নাদেরা সুলতানা নদী।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রাম—সবখানেই গড়ে উঠবে বই পড়ার উষ্ণ পরিবেশ এবং পাঠাগারগুলো হয়ে উঠবে জ্ঞান ও মনন বিকাশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কেন্দ্র।
‘পাঠাগার আন্দোলন’ শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে, যা ঘরে ঘরে বইয়ের আলো ছড়িয়ে দেবে এবং একটি আলোকিত, সৃজনশীল ও মননশীল জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন