সংবাদ

বাংলাদেশিদের প্রতি ৫ জনের ১ জনের জিনে পরিবর্তন


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

বাংলাদেশিদের প্রতি ৫ জনের ১ জনের জিনে পরিবর্তন

বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সন্দেহভাজন তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি জনের মধ্যে জনের শরীরে বিশেষ ধরনের জিনগত পরিবর্তন বিদ্যমান।

চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হলে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশের তরুণদের ডায়াবেটিস নিয়ে নতুন গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিএমইউ-এর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল হাসানাত জানান, তরুণ বাংলাদেশীদের মধ্যে ডায়াবেটিসের এই জিনগত পরিবর্তনগুলো প্রধানত কিছু কম পরিচিত জিনে পাওয়া গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, "গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সন্দেহভাজন তরুণ রোগীদের প্রায় প্রতি জনের জনের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত জিনের পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, এই জিনগত পরিবর্তনগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।"

তিনি আরও জানান, যাদের শরীরে এই পরিবর্তন আছে এবং যাদের নেইতাদেরকে বাহ্যিক বা ক্লিনিক্যাল লক্ষণে আলাদা করা অত্যন্ত কঠিন। তবে এই ফলাফল এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করার আগে আরও নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয় যে, বাংলাদেশে বর্তমানে তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগটি প্রচলিত ডায়াবেটিসের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলছে না। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের জিনগত ধরন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে বর্তমানে প্রচলিত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের জনসংখ্যার জন্য কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। এই সংকট মোকাবিলায় দেশভিত্তিক নিজস্ব গবেষণা স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসান। বিএমইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গবেষণার এই বৈশ্বিক গুরুত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক . মো. সলিমুল্লাহ। এছাড়া সেমিনারে চিকিৎসক, শিক্ষার্থী গবেষকরা অংশ নেন, যাদের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশে আধুনিক রোগী সেবা উচ্চতর গবেষণাকে উৎসাহিত করা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


বাংলাদেশিদের প্রতি ৫ জনের ১ জনের জিনে পরিবর্তন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের সন্দেহভাজন তরুণ ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতি জনের মধ্যে জনের শরীরে বিশেষ ধরনের জিনগত পরিবর্তন বিদ্যমান।

চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগ আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হলে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়, যেখানে দেশের তরুণদের ডায়াবেটিস নিয়ে নতুন গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়েছে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিএমইউ-এর এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল হাসানাত জানান, তরুণ বাংলাদেশীদের মধ্যে ডায়াবেটিসের এই জিনগত পরিবর্তনগুলো প্রধানত কিছু কম পরিচিত জিনে পাওয়া গেছে।

তিনি উল্লেখ করেন, "গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সন্দেহভাজন তরুণ রোগীদের প্রায় প্রতি জনের জনের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত জিনের পরিবর্তন দেখা গেছে। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো, এই জিনগত পরিবর্তনগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।"

তিনি আরও জানান, যাদের শরীরে এই পরিবর্তন আছে এবং যাদের নেইতাদেরকে বাহ্যিক বা ক্লিনিক্যাল লক্ষণে আলাদা করা অত্যন্ত কঠিন। তবে এই ফলাফল এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করার আগে আরও নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মত দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয় যে, বাংলাদেশে বর্তমানে তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এই রোগটি প্রচলিত ডায়াবেটিসের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলছে না। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসের জিনগত ধরন বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফলে বর্তমানে প্রচলিত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি চিকিৎসা ব্যবস্থা আমাদের জনসংখ্যার জন্য কতটা কার্যকর, তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। এই সংকট মোকাবিলায় দেশভিত্তিক নিজস্ব গবেষণা স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন গবেষক ডা. মাশফিকুল হাসান। বিএমইউ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে গবেষণার এই বৈশ্বিক গুরুত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া আমাদের জন্য বড় অর্জন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক . মো. সলিমুল্লাহ। এছাড়া সেমিনারে চিকিৎসক, শিক্ষার্থী গবেষকরা অংশ নেন, যাদের মূল লক্ষ্য ছিল তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বাংলাদেশে আধুনিক রোগী সেবা উচ্চতর গবেষণাকে উৎসাহিত করা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত