সংবাদ

হামে ঝরলো আরও ১০ প্রাণ, মৃত্যু বেড়ে ৫৫৫


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

হামে ঝরলো আরও ১০ প্রাণ, মৃত্যু বেড়ে ৫৫৫
ছবি: সংগৃহীত

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে গত ৭২ দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল আটটা পর্যন্ত এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন প্রাণ হারানো ১০ শিশুর মধ্যে ৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। বাকি এক শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৬৭ জন এবং হাম শনাক্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৮৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত ১০ শিশুর মধ্যে পাঁচজনই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন এবং রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় এ সংক্রান্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

শিশুদের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৮৩ জনের হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৪৫ শিশু। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ১ হাজার ১৮১ জন।

মোট ৭২ দিনের হিসাবে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৬ হাজার ২৩ জনের। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫২ হাজার ৫৩০ জন। আর হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ৪৮ হাজার ৮০০ জন। এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৭২ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি—৩৬৬ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ভর্তি হয়েছে ১৯৩ শিশু। বরিশাল বিভাগে ভর্তি হয়েছে ১৫৭ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন।

খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগেও হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম মূলত একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা টিকার মাধ্যমেই সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। দেশের চলমান সংকট ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চাপের কারণে শিশুদের টিকাকারণ ব্যাহত হওয়াই এই প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ।

গত কয়েক মাসে অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্বা সামলে উঠতে না উঠতেই হামের এই প্রাদুর্ভাব মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিলে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। কিন্তু অনেকে সচেতন না হওয়ায় দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। যা জটিলতা বাড়াচ্ছে এবং মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


হামে ঝরলো আরও ১০ প্রাণ, মৃত্যু বেড়ে ৫৫৫

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে গত ৭২ দিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল আটটা পর্যন্ত এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নতুন প্রাণ হারানো ১০ শিশুর মধ্যে ৯ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। বাকি এক শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৪৬৭ জন এবং হাম শনাক্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৮৮ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত ১০ শিশুর মধ্যে পাঁচজনই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন এবং রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় এ সংক্রান্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

শিশুদের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৮৩ জনের হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ সময়ে হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৪৫ শিশু। হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ১ হাজার ১৮১ জন।

মোট ৭২ দিনের হিসাবে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৬ হাজার ২৩ জনের। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫২ হাজার ৫৩০ জন। আর হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে ৪৮ হাজার ৮০০ জন। এখন পর্যন্ত হাম শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৭২ জনের।

গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি—৩৬৬ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ভর্তি হয়েছে ১৯৩ শিশু। বরিশাল বিভাগে ভর্তি হয়েছে ১৫৭ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন।

খুলনা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগেও হাম উপসর্গ নিয়ে শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম মূলত একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ যা টিকার মাধ্যমেই সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। দেশের চলমান সংকট ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চাপের কারণে শিশুদের টিকাকারণ ব্যাহত হওয়াই এই প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ।

গত কয়েক মাসে অনেক শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসেনি। বিশেষ করে করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্বা সামলে উঠতে না উঠতেই হামের এই প্রাদুর্ভাব মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নিলে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। কিন্তু অনেকে সচেতন না হওয়ায় দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। যা জটিলতা বাড়াচ্ছে এবং মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দিচ্ছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত