সংবাদ

হামে শিশু মৃত্যুর মিছিলে ফিকে হচ্ছে ঈদের আনন্দ


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম

হামে শিশু মৃত্যুর মিছিলে ফিকে হচ্ছে ঈদের আনন্দ
ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহার আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে। কোরবানি পশু কেনা আর প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। শপিংমল বা দোকানগুলোতে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ। বাহারি পোশাক আর সুস্বাদু খাবারের রেসিপিও তৈরি হচ্ছে। শিশুদের হাতে হাতে নতুন জামা, চোখেমুখে উচ্ছ্বাস।

তবে এই আলোকিত ছবি অনেকটাই ঢেকে গেছে বিষণ্ণতার ছায়ায়। প্রত্যন্ত গ্রাম, চরাঞ্চল আর পাহাড়ি এলাকাই শুধু নয়, এমনকি খোদ রাজধানীর হাজারো পরিবারে ঈদের আনন্দে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের প্রাণ হারানোর মিছিল থামছেই না। ফলে প্রতিদিন প্রাণপ্রিয় সন্তানদের হারিয়ে ফেলা পরিবারগুলোতে শোকের মাতম থামছেই না। যেসব পরিবারে ঈদের আনন্দ একেবারে ফিকে হয়ে গেছে। স্বস্তির ছুটিও কেড়ে নিয়ে হাসপাতাল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ৭২ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৫৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যুর মিছিল থামেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেছে আরও ১০ শিশুর। যেখানে নতুন জামা পরার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধু স্মৃতি আর শূন্য কোল। ঈদের আনন্দ- যা হওয়ার কথা ছিল সবার- তা যেন অসংখ্য পরিবারের জন্য স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরের রাশেদা বেগমের কোল শূন্য। তার ২ বছর বয়সী ছেলে রাকিব গত সপ্তাহেই হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ঈদের নতুন জামা কিনে রেখেছিলেন ছেলের জন্য। সেই জামা পরানোর সুযোগ আর এলো না। রাশেদা বলেন, ‘ছেলের জন্য নীল রঙের পাঞ্জাবি কিনেছিলাম। ওই পাঞ্জাবিটা এখনও পড়ে আছে। কখনো পড়াতে পারলাম না।’

এমন বিষণ্ণ গল্প শুধু রাশেদার একার নয়, দেশের অনেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুদের সব বাবা-মা আর স্বজনদের। শিশুদের কেউ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, কেউবা তীব্র ডায়রিয়ায়। পুষ্টিহীনতা ও চিকিৎসার অভাবে জটিলতা বাড়ছে। ঈদের ছুটির কদিন আগেও এসব শিশুর পরিবার ভেবেছিল উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করবে। এখন তারা ভাবছে মৃত্যুর কালো ছায়া কাটিয়ে কীভাবে বাঁচানো যায় সন্তানকে।

হামের রোগীদের চিকিৎসাসেবায় দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে আগেই। রোগীর স্বজনদের পাশাপাশি ঈদের আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিতদেরও।

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে যখন সবাই রাজধানী ছাড়ছেন, তখন হাসপাতালে দেখা যাচ্ছে ভিন্নচিত্র।  নামাজের পর যখন সবাই আলিঙ্গনে মেতে উঠবেন, তখন দেশের কোথাও না কোথাও কোনো মা হয়তো তার সন্তানের নিথর দেহ জড়িয়ে কাঁদবেন। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬


হামে শিশু মৃত্যুর মিছিলে ফিকে হচ্ছে ঈদের আনন্দ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মে ২০২৬

featured Image

ঈদুল আজহার আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে ঘরে ঘরে। কোরবানি পশু কেনা আর প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। শপিংমল বা দোকানগুলোতে ভিড় করছেন হাজারো মানুষ। বাহারি পোশাক আর সুস্বাদু খাবারের রেসিপিও তৈরি হচ্ছে। শিশুদের হাতে হাতে নতুন জামা, চোখেমুখে উচ্ছ্বাস।

তবে এই আলোকিত ছবি অনেকটাই ঢেকে গেছে বিষণ্ণতার ছায়ায়। প্রত্যন্ত গ্রাম, চরাঞ্চল আর পাহাড়ি এলাকাই শুধু নয়, এমনকি খোদ রাজধানীর হাজারো পরিবারে ঈদের আনন্দে নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে শিশুদের প্রাণ হারানোর মিছিল থামছেই না। ফলে প্রতিদিন প্রাণপ্রিয় সন্তানদের হারিয়ে ফেলা পরিবারগুলোতে শোকের মাতম থামছেই না। যেসব পরিবারে ঈদের আনন্দ একেবারে ফিকে হয়ে গেছে। স্বস্তির ছুটিও কেড়ে নিয়ে হাসপাতাল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ৭২ দিনে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৫৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যুর মিছিল থামেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাণ গেছে আরও ১০ শিশুর। যেখানে নতুন জামা পরার কথা ছিল, সেখানে এখন শুধু স্মৃতি আর শূন্য কোল। ঈদের আনন্দ- যা হওয়ার কথা ছিল সবার- তা যেন অসংখ্য পরিবারের জন্য স্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরের রাশেদা বেগমের কোল শূন্য। তার ২ বছর বয়সী ছেলে রাকিব গত সপ্তাহেই হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ঈদের নতুন জামা কিনে রেখেছিলেন ছেলের জন্য। সেই জামা পরানোর সুযোগ আর এলো না। রাশেদা বলেন, ‘ছেলের জন্য নীল রঙের পাঞ্জাবি কিনেছিলাম। ওই পাঞ্জাবিটা এখনও পড়ে আছে। কখনো পড়াতে পারলাম না।’

এমন বিষণ্ণ গল্প শুধু রাশেদার একার নয়, দেশের অনেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি শিশুদের সব বাবা-মা আর স্বজনদের। শিশুদের কেউ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত, কেউবা তীব্র ডায়রিয়ায়। পুষ্টিহীনতা ও চিকিৎসার অভাবে জটিলতা বাড়ছে। ঈদের ছুটির কদিন আগেও এসব শিশুর পরিবার ভেবেছিল উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করবে। এখন তারা ভাবছে মৃত্যুর কালো ছায়া কাটিয়ে কীভাবে বাঁচানো যায় সন্তানকে।

হামের রোগীদের চিকিৎসাসেবায় দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে আগেই। রোগীর স্বজনদের পাশাপাশি ঈদের আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে জরুরি স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিতদেরও।

প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে যখন সবাই রাজধানী ছাড়ছেন, তখন হাসপাতালে দেখা যাচ্ছে ভিন্নচিত্র।  নামাজের পর যখন সবাই আলিঙ্গনে মেতে উঠবেন, তখন দেশের কোথাও না কোথাও কোনো মা হয়তো তার সন্তানের নিথর দেহ জড়িয়ে কাঁদবেন। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত