সংবাদ

অনন্য জয়যাত্রার গল্প

কানাডার ‘বিস্ময়কন্যা’ মৌলভীবাজারের ডলি বেগম


আনোয়ারুল ইসলাম জাবেদ, মৌলভীবাজার
আনোয়ারুল ইসলাম জাবেদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম

কানাডার ‘বিস্ময়কন্যা’ মৌলভীবাজারের ডলি বেগম
বাংলার মেঠোপথ থেকে কানাডা বিজয়ে ডলি বেগম। ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের বাজরাকোনা গ্রামের মেয়ে। স্কুলের শুরুর পাঠ প্রাইমারি স্কুলে। বারো বছর বয়সে পাড়ি জমান এক অচেনা দেশে। এরপর কখনো থেমে থাকেননি। তিনবার প্রাদেশিক সংসদে জয়, এবার ফেডারেল পার্লামেন্টে। কানাডার ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য। তার নাম ডলি বেগম। তার গল্প এক অসাধারণ অনুপ্রেরণার নাম।

মৌলভীবাজারের পথঘাট এখন অন্য রকম উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা। খবরটা রাতারাতি ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে- ‘আমাদের ডলি এখন কানাডার এমপি।’ যিনি একদিন গ্রামের কাঁচা রাস্তায় হেঁটে স্কুলে যেতেন, তিনিই আজ কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টের সদস্য।

গত ১৩ এপ্রিল টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ডলি বেগম। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি এই জয়ের ফলে কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ডলির হাত ধরেই সেটা সম্ভব হয়েছে।

তবে এই সাফল্য একদিনে আসেনি। এ যেন মেঠোপথ থেকে শুরু করে বিদেশের ব্যস্ত মহানগরী, প্রাদেশিক সংসদের জটিল করিডোর পেরিয়ে ফেডারেল পার্লামেন্টের উচ্চ আসনে পৌঁছানোর এক দীর্ঘ, কঠিন আর অবিশ্বাস্য এক অভিযান।

ডলি বেগমের জন্ম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাজরাকোনা গ্রামে। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে হাতেখড়ি। এরপর মনুমুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়েন। কিন্তু ভাগ্য নিয়ে খেলা করে। মাত্র ১২ বছর বয়সে ১৯৯৮ সালে বাবা রাজা মিয়া ও মা জবা বেগমের হাত ধরে কানাডায় পাড়ি জমান। বাবার চাকরির সুবাদে গোটা পরিবার চলে যায় টরন্টোতে।

অচেনা দেশ, অচেনা ভাষা, অচেনা মানুষ। ছোট্ট ডলিকে সবকিছু নতুন করে শিখতে হয়েছিল। কিন্তু হার মানেননি। পড়াশোনায় মন দিলেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরপর ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে। শুরুটা হয়েছিল নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) দিয়ে।

ডলি বেগম শুধু এমপি হয়েছেন তা নয়, তিনি ইতিহাস গড়েছেন। এর আগে তিনি কানাডার অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের নির্বাচনে টানা তিনবার জয়ী হয়েছিলেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘এমপিপি’ (প্রাদেশিক সংসদ সদস্য)।

২০২২ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনেও তিনি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হন। এ পর্যন্ত কানাডার তিন স্তরের সরকার পদ্ধতির কোনো আইন পরিষদে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।

চলতি বছরের শুরুতে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আমন্ত্রণে ডলি বেগম লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন। আর এই দল থেকেই তিনি উপনির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনেন।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি কানাডার সংসদে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য হিসেবে স্থান করে নেন।

ডলি বেগমের নানা মৌলভীবাজারের রাজনগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল গফ্ফার। নানা ছিলেন স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি। নাতনি এখন এক উন্নত রাষ্ট্রের জাতীয় সংসদ সদস্য। গর্বে বুক ভরে না উঠলেই নয় নানার বাড়ির আত্মীয়-স্বজনের।

রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু খান বলেন, “রাজনগর সদর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মরহুম আব্দুল গফ্ফারের নাতনি ডলি বেগম। তার এ বিজয়ে আমরা সবাই গর্বিত।”

শুধু আত্মীয়-স্বজন নন, পুরো মৌলভীবাজার জেলা যেন পেয়েছে গর্বের আরেকটি বড় কারণ।

ডলি বেগমের স্বামী ব্যারিস্টার রেজুয়ানুর রহমান রনি। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বড়তল্লা গ্রামের সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার মরহুম আজিজুর রহমানের ছেলে। স্বামীর উৎসাহেই মূলত ডলি বেগম রাজনীতিতে আসেন।

কিন্তু ২০২৪ সালে হঠাৎ করেই চলে যান স্বামী। ডলির পাশে নেই তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর এক সমর্থকের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রয়াত স্বামীর কথা বলে কেঁদে ফেলেন ডলি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “তুমি আমার সাথেই আছো।”

ডলি বেগমের এই সাফল্য কানাডার গণমাধ্যমেও প্রশংসিত হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর কানাডার বাংলা কমিউনিটির গণমাধ্যম প্রবাস টিভিতে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি নিজ কমিউনিটি ও কানাডার মূল জনগোষ্ঠী উভয়ের স্বার্থেই কাজ করবেন।

এদিকে, মৌলভীবাজারের জনপ্রতিনিধিরা ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে তাকে অভিনন্দনে ভাসাচ্ছেন।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ডলি বেগমের প্রতিবেশি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “ডলি বেগমের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো মৌলভীবাজারবাসী ও বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। প্রবাসে থেকেও তিনি নিষ্ঠা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।”

ডলি বেগম

মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও নিউইর্ক থেকে প্রকাশিত ঠিকানা পত্রিকার সম্পাদক এম এম শাহীন ফেসবুকে লিখেছেন, “কানাডার প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়ায় ডলি বেগমকে অভিনন্দন। মূলধারার রাজনীতিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গড়লেন নতুন ইতিহাস।”

বর্তমান সংসদ সদস্য নাসের রহমানও এক শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “ডলি বেগমকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন! তিনি মৌলভীবাজারের নাম বিশ্ব অঙ্গনের এক উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছেন।”

ডলি বেগমের গল্প কেবল একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি সেই সব তরুণ-তরুণীর জন্য এক জ্বলন্ত উদাহরণ, যারা স্বপ্ন দেখেন—পাড়ার স্কুলের বেঞ্চ থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর স্বপ্ন। যারা ভাবেন, হয়তো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

ডলি দেখিয়েছেন, সম্ভব। যত কঠিন পথই হোক না কেন। বারো বছর বয়সে অচেনা এক দেশে পা রেখে যিনি হাল ছাড়েননি, যিনি পড়াশোনা আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন, তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে।

গ্রামের কাঁচা রাস্তা থেকে কানাডার পার্লামেন্টের মখমল আসন- দূরত্বটা শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি মেধা, নিষ্ঠা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য জয়যাত্রা। ডলি বেগম আজ শুধু মৌলভীবাজারের নয়, গোটা বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


কানাডার ‘বিস্ময়কন্যা’ মৌলভীবাজারের ডলি বেগম

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মৌলভীবাজারের বাজরাকোনা গ্রামের মেয়ে। স্কুলের শুরুর পাঠ প্রাইমারি স্কুলে। বারো বছর বয়সে পাড়ি জমান এক অচেনা দেশে। এরপর কখনো থেমে থাকেননি। তিনবার প্রাদেশিক সংসদে জয়, এবার ফেডারেল পার্লামেন্টে। কানাডার ইতিহাসে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য। তার নাম ডলি বেগম। তার গল্প এক অসাধারণ অনুপ্রেরণার নাম।

মৌলভীবাজারের পথঘাট এখন অন্য রকম উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা। খবরটা রাতারাতি ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে- ‘আমাদের ডলি এখন কানাডার এমপি।’ যিনি একদিন গ্রামের কাঁচা রাস্তায় হেঁটে স্কুলে যেতেন, তিনিই আজ কানাডার ফেডারেল পার্লামেন্টের সদস্য।

গত ১৩ এপ্রিল টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের উপনির্বাচনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন ডলি বেগম। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি এই জয়ের ফলে কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। ডলির হাত ধরেই সেটা সম্ভব হয়েছে।

তবে এই সাফল্য একদিনে আসেনি। এ যেন মেঠোপথ থেকে শুরু করে বিদেশের ব্যস্ত মহানগরী, প্রাদেশিক সংসদের জটিল করিডোর পেরিয়ে ফেডারেল পার্লামেন্টের উচ্চ আসনে পৌঁছানোর এক দীর্ঘ, কঠিন আর অবিশ্বাস্য এক অভিযান।

ডলি বেগমের জন্ম মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাজরাকোনা গ্রামে। গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে হাতেখড়ি। এরপর মনুমুখ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়েন। কিন্তু ভাগ্য নিয়ে খেলা করে। মাত্র ১২ বছর বয়সে ১৯৯৮ সালে বাবা রাজা মিয়া ও মা জবা বেগমের হাত ধরে কানাডায় পাড়ি জমান। বাবার চাকরির সুবাদে গোটা পরিবার চলে যায় টরন্টোতে।

অচেনা দেশ, অচেনা ভাষা, অচেনা মানুষ। ছোট্ট ডলিকে সবকিছু নতুন করে শিখতে হয়েছিল। কিন্তু হার মানেননি। পড়াশোনায় মন দিলেন। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

এরপর ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন কানাডার মূলধারার রাজনীতিতে। শুরুটা হয়েছিল নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) দিয়ে।

ডলি বেগম শুধু এমপি হয়েছেন তা নয়, তিনি ইতিহাস গড়েছেন। এর আগে তিনি কানাডার অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের নির্বাচনে টানা তিনবার জয়ী হয়েছিলেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ‘এমপিপি’ (প্রাদেশিক সংসদ সদস্য)।

২০২২ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনেও তিনি ধারাবাহিকভাবে জয়ী হন। এ পর্যন্ত কানাডার তিন স্তরের সরকার পদ্ধতির কোনো আইন পরিষদে তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিক জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন।

চলতি বছরের শুরুতে স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি শূন্য হলে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আমন্ত্রণে ডলি বেগম লিবারেল পার্টিতে যোগ দেন। আর এই দল থেকেই তিনি উপনির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনেন।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি কানাডার সংসদে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য হিসেবে স্থান করে নেন।

ডলি বেগমের নানা মৌলভীবাজারের রাজনগর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল গফ্ফার। নানা ছিলেন স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি। নাতনি এখন এক উন্নত রাষ্ট্রের জাতীয় সংসদ সদস্য। গর্বে বুক ভরে না উঠলেই নয় নানার বাড়ির আত্মীয়-স্বজনের।

রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু খান বলেন, “রাজনগর সদর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার মরহুম আব্দুল গফ্ফারের নাতনি ডলি বেগম। তার এ বিজয়ে আমরা সবাই গর্বিত।”

শুধু আত্মীয়-স্বজন নন, পুরো মৌলভীবাজার জেলা যেন পেয়েছে গর্বের আরেকটি বড় কারণ।

ডলি বেগমের স্বামী ব্যারিস্টার রেজুয়ানুর রহমান রনি। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বড়তল্লা গ্রামের সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার মরহুম আজিজুর রহমানের ছেলে। স্বামীর উৎসাহেই মূলত ডলি বেগম রাজনীতিতে আসেন।

কিন্তু ২০২৪ সালে হঠাৎ করেই চলে যান স্বামী। ডলির পাশে নেই তিনি। নির্বাচিত হওয়ার পর এক সমর্থকের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রয়াত স্বামীর কথা বলে কেঁদে ফেলেন ডলি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “তুমি আমার সাথেই আছো।”

ডলি বেগমের এই সাফল্য কানাডার গণমাধ্যমেও প্রশংসিত হয়েছে। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর কানাডার বাংলা কমিউনিটির গণমাধ্যম প্রবাস টিভিতে এক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি নিজ কমিউনিটি ও কানাডার মূল জনগোষ্ঠী উভয়ের স্বার্থেই কাজ করবেন।

এদিকে, মৌলভীবাজারের জনপ্রতিনিধিরা ফেসবুক ও অন্যান্য মাধ্যমে তাকে অভিনন্দনে ভাসাচ্ছেন।

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক ও ডলি বেগমের প্রতিবেশি মিজানুর রহমান মিজান বলেন, “ডলি বেগমের এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো মৌলভীবাজারবাসী ও বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। প্রবাসে থেকেও তিনি নিষ্ঠা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।”

ডলি বেগম

মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও নিউইর্ক থেকে প্রকাশিত ঠিকানা পত্রিকার সম্পাদক এম এম শাহীন ফেসবুকে লিখেছেন, “কানাডার প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়ায় ডলি বেগমকে অভিনন্দন। মূলধারার রাজনীতিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গড়লেন নতুন ইতিহাস।”

বর্তমান সংসদ সদস্য নাসের রহমানও এক শুভেচ্ছা বার্তায় বলেন, “ডলি বেগমকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন! তিনি মৌলভীবাজারের নাম বিশ্ব অঙ্গনের এক উচ্চ শিখরে নিয়ে গেছেন।”

ডলি বেগমের গল্প কেবল একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। এটি সেই সব তরুণ-তরুণীর জন্য এক জ্বলন্ত উদাহরণ, যারা স্বপ্ন দেখেন—পাড়ার স্কুলের বেঞ্চ থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর স্বপ্ন। যারা ভাবেন, হয়তো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

ডলি দেখিয়েছেন, সম্ভব। যত কঠিন পথই হোক না কেন। বারো বছর বয়সে অচেনা এক দেশে পা রেখে যিনি হাল ছাড়েননি, যিনি পড়াশোনা আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন, তাঁর কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার মতো অনেক কিছু আছে।

গ্রামের কাঁচা রাস্তা থেকে কানাডার পার্লামেন্টের মখমল আসন- দূরত্বটা শুধু ভৌগোলিক নয়, এটি মেধা, নিষ্ঠা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য জয়যাত্রা। ডলি বেগম আজ শুধু মৌলভীবাজারের নয়, গোটা বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত