সংবাদ

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ


প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রতিনিধি, ফরিদপুর
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ
বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী তার জন্মভূমি ফরিদপুরের মধুখালীতে অত্যন্ত সাদামাটা ও দায়সারাভাবে পালিত হয়েছে। প্রতিবছর যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালন করা হলেও এবার প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।

গত ২০ এপ্রিল ছিল এই অকুতোভয় যোদ্ধার প্রয়াণ দিবস। সচরাচর এদিন সকাল সাতটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হলেও এবার চিত্র ছিল ভিন্ন। উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার’-এর কর্মচারীরা নিজেরাই সকাল নয়টায় পতাকা উত্তোলন করেন।

জাদুঘরের সহকারী লাইব্রেরিয়ান সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে কর্মকর্তাদের জন্য অপেক্ষা করেছি। কেউ না আসায় সাধারণ নিয়মেই আমরা জাদুঘর খুলেছি এবং পতাকা উড়িয়েছি।’

দিবসটি পালনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাঝেও ছিল চরম অনীহা। কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান নিজের দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আসলে দিবসটির কথা আমার একদম স্মরণে ছিল না। দুপুরে ফরিদপুরে থাকাকালে একজন কর্মসূচির কথা জানতে চাইলে আমার ভুল ভাঙে। এরপর দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়ে মিলাদের ব্যবস্থা করি।’

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মধুখালী ইউএনও রওশনা জাহান উপস্থিত থাকলেও পুরো আয়োজনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

ইউএনও বলেন, এর আগে দিবসটি কীভাবে পালিত হতো, সে বিষয়ে তাকে কেউ অবহিত করেনি। তবে ভবিষ্যতে সব জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠের বড় বোন জোহরা বেগম ঢাকা থেকে এসে যোগ দিলেও প্রশাসনের এমন অগোছালো ও অবহেলাপূর্ণ ভূমিকায় তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীরশ্রেষ্ঠদের সম্মান রক্ষায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো আরও পরিকল্পিত ও স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া উচিত।

১৯৪৩ সালের ৮ মে মধুখালীর সালামতপুরে জন্মগ্রহণ করেন মুন্সি আব্দুর রউফ। ১৯৬৩ সালে তিনি তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলে (ইপিআর) যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল রাঙামাটির মহালছড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখসমরে শহীদ হন এই বীর যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের শাহাদাতবার্ষিকী পালনে প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী তার জন্মভূমি ফরিদপুরের মধুখালীতে অত্যন্ত সাদামাটা ও দায়সারাভাবে পালিত হয়েছে। প্রতিবছর যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালন করা হলেও এবার প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধার পরিবার।

গত ২০ এপ্রিল ছিল এই অকুতোভয় যোদ্ধার প্রয়াণ দিবস। সচরাচর এদিন সকাল সাতটায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হলেও এবার চিত্র ছিল ভিন্ন। উপজেলা প্রশাসন বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে ‘বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার’-এর কর্মচারীরা নিজেরাই সকাল নয়টায় পতাকা উত্তোলন করেন।

জাদুঘরের সহকারী লাইব্রেরিয়ান সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে কর্মকর্তাদের জন্য অপেক্ষা করেছি। কেউ না আসায় সাধারণ নিয়মেই আমরা জাদুঘর খুলেছি এবং পতাকা উড়িয়েছি।’

দিবসটি পালনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাঝেও ছিল চরম অনীহা। কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান চৌধুরী রাকিব হোসেন ইরান নিজের দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আসলে দিবসটির কথা আমার একদম স্মরণে ছিল না। দুপুরে ফরিদপুরে থাকাকালে একজন কর্মসূচির কথা জানতে চাইলে আমার ভুল ভাঙে। এরপর দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়ে মিলাদের ব্যবস্থা করি।’

বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মধুখালী ইউএনও রওশনা জাহান উপস্থিত থাকলেও পুরো আয়োজনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

ইউএনও বলেন, এর আগে দিবসটি কীভাবে পালিত হতো, সে বিষয়ে তাকে কেউ অবহিত করেনি। তবে ভবিষ্যতে সব জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের আশ্বাস দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠের বড় বোন জোহরা বেগম ঢাকা থেকে এসে যোগ দিলেও প্রশাসনের এমন অগোছালো ও অবহেলাপূর্ণ ভূমিকায় তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বীরশ্রেষ্ঠদের সম্মান রক্ষায় রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলো আরও পরিকল্পিত ও স্বতঃস্ফূর্ত হওয়া উচিত।

১৯৪৩ সালের ৮ মে মধুখালীর সালামতপুরে জন্মগ্রহণ করেন মুন্সি আব্দুর রউফ। ১৯৬৩ সালে তিনি তৎকালীন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলে (ইপিআর) যোগ দেন। ১৯৭১ সালের ২০ এপ্রিল রাঙামাটির মহালছড়িতে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখসমরে শহীদ হন এই বীর যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য তাকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত