মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই আশার আলো দেখছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত। সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে বাংলাদেশের পথে রওনা হয়েছে বিশাল আকৃতির ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।
মঙ্গলবার
(২১ এপ্রিল) বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ভোর ৬টায়
জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু
বন্দর থেকে যাত্রা শুরু
করেছে। রাষ্ট্রীয় একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন
রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) পক্ষ থেকে এই
তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইস্টার্ন
রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত বিষয়টি
নিশ্চিত করে বলেন, "মঙ্গলবার
স্থানীয় সময় সকাল ৬টায়
জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু
বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে
যাত্রা করেছে। তবে জাহাজটি ঠিক
কবে নাগাদ বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে, সে
বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট করে
বলা যাচ্ছে না।"
সম্প্রতি
ক্রুড অয়েলের তীব্র সংকটে পড়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির
মূল প্ল্যান্টটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরণের
ধোঁয়াশা তৈরি হয়। নতুন
এই জাহাজটি আসার খবরে সেই
সংকট কেটে যাবে এবং
দেশের একমাত্র শোধনাগারটি আবার পূর্ণ দমে
উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করা
হচ্ছে। তবে সৌদি আরবের
রাস তানুরা বন্দরে আটকে থাকা অন্য
একটি জাহাজে থাকা আরও এক
লাখ টন ক্রুড অয়েল
কবে নাগাদ আসবে, সে বিষয়ে এখনো
কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।
বাংলাদেশ
পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে
প্রায় ৭২ লাখ টন
জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বড়
একটি অংশ অর্থাৎ প্রায়
৯২ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে
আমদানি করতে হয়। ইস্টার্ন
রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫
লাখ টন অপরিশোধিত তেল
পরিশোধন করে চাহিদা মেটায়।
গত অর্থবছরে দেশে সর্বাধিক জ্বালানি
তেল ব্যবহৃত হয়েছে পরিবহন খাতে, যার পরিমাণ মোট
বিক্রির ৬৩ শতাংশেরও বেশি।
এছাড়া
কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও
বড় অঙ্কের জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে
ডিজেলের চাহিদা সবচাইতে বেশি হওয়ায় এই
আমদানি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব
বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন 'হরমুজ প্রণালি' নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার
কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে এই পথে
জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছিল বিএসসি ও বিপিসি।
বিশেষ
করে আমেরিকান চার্টারার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল পরিবহনে জটিলতা
তৈরি হওয়ায় গত মার্চ মাস
থেকে দুটি বড় চালান
আটকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে
বিকল্প ব্যবস্থায় সৌদি আরব থেকে
এই তেল আনার উদ্যোগ
নেওয়া হয়েছে। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ লোহিত
সাগর ও ভারত মহাসাগর
হয়ে সরাসরি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে, যা
দেশের জ্বালানি মজুতকে আরও শক্তিশালী করবে।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মাঝেই আশার আলো দেখছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত। সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে বাংলাদেশের পথে রওনা হয়েছে বিশাল আকৃতির ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’।
মঙ্গলবার
(২১ এপ্রিল) বাংলাদেশের স্থানীয় সময় ভোর ৬টায়
জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু
বন্দর থেকে যাত্রা শুরু
করেছে। রাষ্ট্রীয় একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন
রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) পক্ষ থেকে এই
তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইস্টার্ন
রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শরীফ হাসনাত বিষয়টি
নিশ্চিত করে বলেন, "মঙ্গলবার
স্থানীয় সময় সকাল ৬টায়
জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু
বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে
যাত্রা করেছে। তবে জাহাজটি ঠিক
কবে নাগাদ বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে, সে
বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট করে
বলা যাচ্ছে না।"
সম্প্রতি
ক্রুড অয়েলের তীব্র সংকটে পড়ে ইস্টার্ন রিফাইনারির
মূল প্ল্যান্টটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে এক ধরণের
ধোঁয়াশা তৈরি হয়। নতুন
এই জাহাজটি আসার খবরে সেই
সংকট কেটে যাবে এবং
দেশের একমাত্র শোধনাগারটি আবার পূর্ণ দমে
উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা করা
হচ্ছে। তবে সৌদি আরবের
রাস তানুরা বন্দরে আটকে থাকা অন্য
একটি জাহাজে থাকা আরও এক
লাখ টন ক্রুড অয়েল
কবে নাগাদ আসবে, সে বিষয়ে এখনো
কোনো নিশ্চয়তা মেলেনি।
বাংলাদেশ
পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বছরে
প্রায় ৭২ লাখ টন
জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বড়
একটি অংশ অর্থাৎ প্রায়
৯২ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে
আমদানি করতে হয়। ইস্টার্ন
রিফাইনারি বছরে প্রায় ১৫
লাখ টন অপরিশোধিত তেল
পরিশোধন করে চাহিদা মেটায়।
গত অর্থবছরে দেশে সর্বাধিক জ্বালানি
তেল ব্যবহৃত হয়েছে পরিবহন খাতে, যার পরিমাণ মোট
বিক্রির ৬৩ শতাংশেরও বেশি।
এছাড়া
কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতেও
বড় অঙ্কের জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে
ডিজেলের চাহিদা সবচাইতে বেশি হওয়ায় এই
আমদানি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব
বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লাইফলাইন 'হরমুজ প্রণালি' নিয়ে সাম্প্রতিক উত্তেজনার
কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে এই পথে
জাহাজ চলাচল সীমিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছিল বিএসসি ও বিপিসি।
বিশেষ
করে আমেরিকান চার্টারার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তেল পরিবহনে জটিলতা
তৈরি হওয়ায় গত মার্চ মাস
থেকে দুটি বড় চালান
আটকে যায়। এমন পরিস্থিতিতে
বিকল্প ব্যবস্থায় সৌদি আরব থেকে
এই তেল আনার উদ্যোগ
নেওয়া হয়েছে। মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ‘এমটি নিনেমিয়া’ লোহিত
সাগর ও ভারত মহাসাগর
হয়ে সরাসরি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে, যা
দেশের জ্বালানি মজুতকে আরও শক্তিশালী করবে।

আপনার মতামত লিখুন