সংবাদ

বিশ্ববাজারে কমেছে দাম, বাংলাদেশে পাম্পে ভিড় কমবে?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

বিশ্ববাজারে কমেছে দাম, বাংলাদেশে পাম্পে ভিড় কমবে?
বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনায় তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকায় এবং হলমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, গত মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল। মার্চের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। 

তবে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে দাম কমতে শুরু করে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে। অর্থাৎ গত এক মাসে দাম কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশের বেশি।

তেলের জন্য পাম্পে দীর্ঘলাইন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার কারণে হলমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হতে পারে বলে বাজারে আশা তৈরি হয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, হলমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। 

এতে বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ২০ বিলিয়ন ডলার জব্দ করা অর্থ ছাড় করতে পারে-এমন খবরও দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম কমলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি বাড়লেও বৈশ্বিক তেলের মজুত ৯০০ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

তিনটি প্রধান জ্বালানি সংস্থা (ওপেক, ইআইএ ও আইইএ) ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস দিচ্ছে। ওপেক আশাবাদী হলেও আইইএ মনে করছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা কমতে পারে।

জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ বাংলাদেশের জন্য বিশ্ববাজারে দাম কমানো ইতিবাচক সংকেত। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে দাম কমতে শুরু করায় আমদানি ব্যয় কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে হলমুজ প্রণালী পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল না-ও থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত এখন ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্র: রয়টার্স

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


বিশ্ববাজারে কমেছে দাম, বাংলাদেশে পাম্পে ভিড় কমবে?

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনায় তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকায় এবং হলমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, গত মার্চ মাসে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল। মার্চের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। 

তবে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে দাম কমতে শুরু করে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে। অর্থাৎ গত এক মাসে দাম কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশের বেশি।

তেলের জন্য পাম্পে দীর্ঘলাইন

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার কারণে হলমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হতে পারে বলে বাজারে আশা তৈরি হয়েছে। ইরান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, হলমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত। 

এতে বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ২০ বিলিয়ন ডলার জব্দ করা অর্থ ছাড় করতে পারে-এমন খবরও দাম কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম কমলেও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি বাড়লেও বৈশ্বিক তেলের মজুত ৯০০ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

তিনটি প্রধান জ্বালানি সংস্থা (ওপেক, ইআইএ ও আইইএ) ভবিষ্যৎ চাহিদা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস দিচ্ছে। ওপেক আশাবাদী হলেও আইইএ মনে করছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক তেলের চাহিদা কমতে পারে।

জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ বাংলাদেশের জন্য বিশ্ববাজারে দাম কমানো ইতিবাচক সংকেত। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা করেছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তবে দাম কমতে শুরু করায় আমদানি ব্যয় কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে হলমুজ প্রণালী পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল না-ও থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেলের মজুত এখন ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। সূত্র: রয়টার্স


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত