সংবাদ

খরা ও সেচ সংকটে সুন্দরগঞ্জের কৃষকেরা, তেলের জন্য হাহাকার


প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রতিনিধি, গাইবান্ধা
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

খরা ও সেচ সংকটে সুন্দরগঞ্জের কৃষকেরা, তেলের জন্য হাহাকার
ছবি : সংবাদ

তীব্র খরা আর দাবদাহে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সেচ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানির অভাবে বোরো ধানসহ বিভিন্ন আবাদি জমি শুকিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ফসল বাঁচাতে তারা এখন পেট্রোলচালিত ক্ষুদ্র সেচ পাম্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তবে চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ কম থাকায় স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না অনেক চাষি।

সোমবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত কৃষক সেচ পাম্প ও তেলের পাত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক কৃষক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ধান শুকিয়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।

উপজেলার উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক শামীম মিয়া বলেন, `এখন বোরো ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। একদিন পরপর জমিতে পানি দিতে না পারলে থোড় আসা ধান শুকিয়ে চিটা হয়ে যাবে। কিন্তু সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনমতো তেল পাচ্ছি না। পাম্প চালানোর তেল না পেলে সব আবাদ নষ্ট হয়ে যাবে।'

একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়মে ও সীমিত পরিমাণে পেট্রোল বিতরণ করা হচ্ছে। এই বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফলে প্রতিদিন শত শত কৃষক দিনভর অপেক্ষা করে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি তালিকা অনুসরণ করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ করে পেট্রোলচালিত পাম্পের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় এই ভিড় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে সুন্দরগঞ্জের কৃষকেরা দাবি তুলেছেন, সংকট মোকাবিলায় সেচ কাজে নিয়োজিত প্রকৃত কৃষকদের জন্য দ্রুত আলাদা ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করতে হবে। তা না হলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খরার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক গভীর নলকূপ থেকেও পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র পাম্পগুলোই কৃষকদের শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬


খরা ও সেচ সংকটে সুন্দরগঞ্জের কৃষকেরা, তেলের জন্য হাহাকার

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

তীব্র খরা আর দাবদাহে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সেচ সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পানির অভাবে বোরো ধানসহ বিভিন্ন আবাদি জমি শুকিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ফসল বাঁচাতে তারা এখন পেট্রোলচালিত ক্ষুদ্র সেচ পাম্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তবে চাহিদার তুলনায় জ্বালানি সরবরাহ কম থাকায় স্থানীয় ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছেন না অনেক চাষি।

সোমবার সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত কৃষক সেচ পাম্প ও তেলের পাত্র নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক কৃষক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ধান শুকিয়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে।

উপজেলার উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের কৃষক শামীম মিয়া বলেন, `এখন বোরো ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। একদিন পরপর জমিতে পানি দিতে না পারলে থোড় আসা ধান শুকিয়ে চিটা হয়ে যাবে। কিন্তু সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনমতো তেল পাচ্ছি না। পাম্প চালানোর তেল না পেলে সব আবাদ নষ্ট হয়ে যাবে।'

একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নিয়মে ও সীমিত পরিমাণে পেট্রোল বিতরণ করা হচ্ছে। এই বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফলে প্রতিদিন শত শত কৃষক দিনভর অপেক্ষা করে খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।

ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি তালিকা অনুসরণ করে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ করে পেট্রোলচালিত পাম্পের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় এই ভিড় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে সুন্দরগঞ্জের কৃষকেরা দাবি তুলেছেন, সংকট মোকাবিলায় সেচ কাজে নিয়োজিত প্রকৃত কৃষকদের জন্য দ্রুত আলাদা ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করতে হবে। তা না হলে চলতি মৌসুমে বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, খরার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক গভীর নলকূপ থেকেও পর্যাপ্ত পানি উঠছে না। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষুদ্র পাম্পগুলোই কৃষকদের শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত