চৈত্র-বৈশাখের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। এপ্রিল মাসেই তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন ভয়াবহ গরমে যেখানে এসি থাকা অফিসগুলোতেও হাঁসফাঁস অবস্থা, সেখানে এসিবিহীন অফিসের কথা তো ভাবাই যায় না।
বিশেষ করে গার্মেন্টস কারখানা, ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও অনেক সরকারি-বেসরকারি অফিসে এখনও এসির ব্যবস্থা নেই। লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন তীব্র গরম উপেক্ষা করেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই প্রতিবেদনে জানানো হবে তীব্র গরমে এসিবিহীন অফিসে কর্মরতদের নিজেদের সুরক্ষার উপায়।
চলতি বছর এপ্রিলেই তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মে মাসে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। চরম এই গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভেজা বাতাসের কারণে (হিউমিডিটি) ঘাম শুকোতে চায় না, ফলে শরীর ঠান্ডা হতে পারে না।
এসিবিহীন অফিসে কাজ করলে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
কী করবেন
বাতাসের চলাচল নিশ্চিত করুন: ক্রস ভেন্টিলেশন তৈরি করুন: বিপরীত দিকের জানালা ও দরজা খুলে দিন। এতে বাতাস প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ পায়।
ফ্যান ব্যবহার করুন: সিলিং ফ্যানের সঙ্গে টেবিল ফ্যান বা পেডেস্টাল ফ্যান ব্যবহার করলে বাতাস চলাচল বাড়ে।
ফ্যানের সঠিক দিক: ফ্যান ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘোরালে বাতাস নিচের দিকে চাপ দেয়, যা বেশি কার্যকর।
অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখুন: কম্পিউটার মনিটর, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন—এসব প্রচুর তাপ ছড়ায়।
এলইডি বাল্ব ব্যবহার করুন: পুরোনো বাল্বের পরিবর্তে এলইডি বাল্ব ব্যবহার করলে তাপ কম উৎপন্ন হয়।
দুপুরের রোদ বন্ধ করুন: জানালায় ভারী পর্দা বা ব্ল্যাকআউট কার্টেন টানিয়ে দিন। প্রয়োজনে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল লাগানো যেতে পারে।
ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন: ঘাড়ে, কপালে বা গলায় ভেজা ঠান্ডা কাপড় জড়িয়ে রাখুন। এটি শরীরের তাপমাত্রা কমায়।
মিস্ট স্প্রে করুন: স্প্রে বোতলে ঠান্ডা পানি ভরে মুখে ও গায়ে মাঝেমধ্যে স্প্রে করুন।
বরফের কৌশল: ফ্যানের সামনে বরফের বালতি রেখে দিন। ফ্যান ঠান্ডা বাতাস ছড়াবে।
ঢিলেঢালা ও সুতি কাপড় পরুন: লিনেন, তুলা বা বাঁশের ফাইবারের তৈরি হালকা রঙের কাপড় ব্যবহার করুন। সিনথেটিক ও গাঢ় রঙের কাপড় এড়িয়ে চলুন।
প্রচুর পানি পান করুন: প্রতি ২০-৩০ মিনিটে অন্তত এক গ্লাস পানি পান করুন। পিপাসা না পেলেও পান করুন।
লবণ ও চিনির পানি পান করুন: গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়। ওআরএস বা খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত খেতে পারেন।
জলীয় ফল খান: তরমুজ, শসা, টমেটো, বেল—এসব ফল শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
ভারী তেল-মসলার খাবার এড়িয়ে চলুন: দুপুরে হালকা খাবার খান। চর্বিযুক্ত ও মসলাদার খাবার শরীরের তাপ বাড়ায়।
সকালে ভারী কাজ করুন: তাপমাত্রা বাড়ার আগে সকাল ১০টার মধ্যে জরুরি ও ভারী কাজ সেরে ফেলুন।
দুপুরে হালকা কাজ করুন: দুপুর ১টা থেকে ৩টা—এ সময় তাপ সবচেয়ে বেশি। তখন হালকা কাজ বা ডেস্কের কাজ করুন।
বিশ্রামের সময় বাড়ান: প্রতি ঘণ্টায় ১০-১৫ মিনিট বিশ্রাম নিন। ছায়ায় বা ভেন্টিলেটেড জায়গায় বসুন।
ঘূর্ণায়মান ডিউটি: সম্ভব হলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় কর্মী বদল করুন, যেন একই ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ তাপে না থাকেন।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলেই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে
হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা,,বমি বমি ভাব বা বমি,,মাংসপেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি,,দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন, ত্বক লাল ও গরম হয়ে যাওয়া (ঘাম বন্ধ হয়ে যেতে পারে) ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্ত অবস্থা।
এমন অবস্থা হলে দ্রুত রোগীকে ছায়ায় বা ঠান্ডা জায়গায় সরান, ফ্যান বা বাতাসের মুখে রাখুন, শরীরে ঠান্ডা পানি স্প্রে করুন বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছুন, পান করতে ঠান্ডা পানি বা ওআরএস দিন এবং রোগী অজ্ঞান হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
গার্মেন্টস কারখানায় তো প্রায়ই এসি থাকে না। আবার কাজের চাপও বেশি। সেক্ষেত্রে—
মালিক পক্ষকে অনুরোধ করুন: কারখানায় শীতল পানির ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে শিফটের বিরতিতে ঠান্ডা পানি সরবরাহ নিশ্চিত করুন।
কাজের ফ্লোরে বড় পাখা (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্যান) লাগান: ফ্যানের সংখ্যা বাড়ানো ও সঠিক বায়ুচলাচল নিশ্চিত করুন।
শিফট রোটেশন করুন: দুপুরের তীব্র গরমে সেদিন সন্ধ্যার শিফটে রেখে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
জরুরি চিকিৎসা সহায়তা রাখুন: কারখানায় ফার্স্ট এইড বক্সের পাশাপাশি ওআরএস ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা রাখুন।
নিয়মিত মনিটরিং করুন: শ্রম মন্ত্রণালয় ও ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টরেট গরমের সময় এসিবিহীন কারখানায় তাপমাত্রা মনিটরিং করুক।
বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নিন: যেসব কারখানা বা অফিসে এসি নেই, সেখানে বায়ুচলাচল ও কুলিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হোক।
গরমকালীন বিশেষ ছুটি ঘোষণা করুন: তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়ালে অফিসের সময় কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিন।
পোর্টেবল কুলার বা কুলিং ফ্যান কিনুন: অনেক সাশ্রয়ী সমাধান আছে যা বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে ঠান্ডা রাখে।
বাইরের ছাউনি বা শেড তৈরি করুন: কারখানার ছাদ ও দেয়ালে সাদা রং বা তাপপ্রতিরোধী কোটিং করুন।
বিরতির সময় বাড়ান: কর্মীদের বেশি বেশি বিরতি দিন। প্রতিবারই পানি পান করার সুযোগ দিন।
শীতল পানীয় সরবরাহ করুন: দিনে অন্তত দুবার শরবত, লেবুর পানি বা ডাবের পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
তীব্র গরম এখন শুধু অস্বস্তির নয়, মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসিবিহীন অফিস বা কারখানায় কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে মালিক ও সরকারকেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।আমাদের প্রত্যেকের উচিত গরমের এই সময়টায় পিপাসা না পেলেও পান করা, বিশ্রাম নেওয়া ও অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। সূত্র: আবহাওয়া অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
চৈত্র-বৈশাখের তীব্র দাবদাহে পুড়ছে গোটা দেশ। এপ্রিল মাসেই তাপমাত্রা ছাড়িয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমন ভয়াবহ গরমে যেখানে এসি থাকা অফিসগুলোতেও হাঁসফাঁস অবস্থা, সেখানে এসিবিহীন অফিসের কথা তো ভাবাই যায় না।
বিশেষ করে গার্মেন্টস কারখানা, ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও অনেক সরকারি-বেসরকারি অফিসে এখনও এসির ব্যবস্থা নেই। লাখ লাখ মানুষ প্রতিদিন তীব্র গরম উপেক্ষা করেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই প্রতিবেদনে জানানো হবে তীব্র গরমে এসিবিহীন অফিসে কর্মরতদের নিজেদের সুরক্ষার উপায়।
চলতি বছর এপ্রিলেই তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মে মাসে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। চরম এই গরমে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ভেজা বাতাসের কারণে (হিউমিডিটি) ঘাম শুকোতে চায় না, ফলে শরীর ঠান্ডা হতে পারে না।
এসিবিহীন অফিসে কাজ করলে হিট স্ট্রোক, পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় তাপপ্রবাহে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
কী করবেন
বাতাসের চলাচল নিশ্চিত করুন: ক্রস ভেন্টিলেশন তৈরি করুন: বিপরীত দিকের জানালা ও দরজা খুলে দিন। এতে বাতাস প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ পায়।
ফ্যান ব্যবহার করুন: সিলিং ফ্যানের সঙ্গে টেবিল ফ্যান বা পেডেস্টাল ফ্যান ব্যবহার করলে বাতাস চলাচল বাড়ে।
ফ্যানের সঠিক দিক: ফ্যান ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘোরালে বাতাস নিচের দিকে চাপ দেয়, যা বেশি কার্যকর।
অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখুন: কম্পিউটার মনিটর, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন—এসব প্রচুর তাপ ছড়ায়।
এলইডি বাল্ব ব্যবহার করুন: পুরোনো বাল্বের পরিবর্তে এলইডি বাল্ব ব্যবহার করলে তাপ কম উৎপন্ন হয়।
দুপুরের রোদ বন্ধ করুন: জানালায় ভারী পর্দা বা ব্ল্যাকআউট কার্টেন টানিয়ে দিন। প্রয়োজনে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল লাগানো যেতে পারে।
ভেজা কাপড় ব্যবহার করুন: ঘাড়ে, কপালে বা গলায় ভেজা ঠান্ডা কাপড় জড়িয়ে রাখুন। এটি শরীরের তাপমাত্রা কমায়।
মিস্ট স্প্রে করুন: স্প্রে বোতলে ঠান্ডা পানি ভরে মুখে ও গায়ে মাঝেমধ্যে স্প্রে করুন।
বরফের কৌশল: ফ্যানের সামনে বরফের বালতি রেখে দিন। ফ্যান ঠান্ডা বাতাস ছড়াবে।
ঢিলেঢালা ও সুতি কাপড় পরুন: লিনেন, তুলা বা বাঁশের ফাইবারের তৈরি হালকা রঙের কাপড় ব্যবহার করুন। সিনথেটিক ও গাঢ় রঙের কাপড় এড়িয়ে চলুন।
প্রচুর পানি পান করুন: প্রতি ২০-৩০ মিনিটে অন্তত এক গ্লাস পানি পান করুন। পিপাসা না পেলেও পান করুন।
লবণ ও চিনির পানি পান করুন: গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে লবণ বেরিয়ে যায়। ওআরএস বা খাবার স্যালাইন, ডাবের পানি, লেবুর শরবত খেতে পারেন।
জলীয় ফল খান: তরমুজ, শসা, টমেটো, বেল—এসব ফল শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
ভারী তেল-মসলার খাবার এড়িয়ে চলুন: দুপুরে হালকা খাবার খান। চর্বিযুক্ত ও মসলাদার খাবার শরীরের তাপ বাড়ায়।
সকালে ভারী কাজ করুন: তাপমাত্রা বাড়ার আগে সকাল ১০টার মধ্যে জরুরি ও ভারী কাজ সেরে ফেলুন।
দুপুরে হালকা কাজ করুন: দুপুর ১টা থেকে ৩টা—এ সময় তাপ সবচেয়ে বেশি। তখন হালকা কাজ বা ডেস্কের কাজ করুন।
বিশ্রামের সময় বাড়ান: প্রতি ঘণ্টায় ১০-১৫ মিনিট বিশ্রাম নিন। ছায়ায় বা ভেন্টিলেটেড জায়গায় বসুন।
ঘূর্ণায়মান ডিউটি: সম্ভব হলে ঘণ্টায় ঘণ্টায় কর্মী বদল করুন, যেন একই ব্যক্তি দীর্ঘক্ষণ তাপে না থাকেন।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলেই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে
হিট স্ট্রোকের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা,,বমি বমি ভাব বা বমি,,মাংসপেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি,,দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দন, ত্বক লাল ও গরম হয়ে যাওয়া (ঘাম বন্ধ হয়ে যেতে পারে) ও অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা বিভ্রান্ত অবস্থা।
এমন অবস্থা হলে দ্রুত রোগীকে ছায়ায় বা ঠান্ডা জায়গায় সরান, ফ্যান বা বাতাসের মুখে রাখুন, শরীরে ঠান্ডা পানি স্প্রে করুন বা ভেজা কাপড় দিয়ে মুছুন, পান করতে ঠান্ডা পানি বা ওআরএস দিন এবং রোগী অজ্ঞান হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
গার্মেন্টস কারখানায় তো প্রায়ই এসি থাকে না। আবার কাজের চাপও বেশি। সেক্ষেত্রে—
মালিক পক্ষকে অনুরোধ করুন: কারখানায় শীতল পানির ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে শিফটের বিরতিতে ঠান্ডা পানি সরবরাহ নিশ্চিত করুন।
কাজের ফ্লোরে বড় পাখা (ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফ্যান) লাগান: ফ্যানের সংখ্যা বাড়ানো ও সঠিক বায়ুচলাচল নিশ্চিত করুন।
শিফট রোটেশন করুন: দুপুরের তীব্র গরমে সেদিন সন্ধ্যার শিফটে রেখে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যেতে পারে।
জরুরি চিকিৎসা সহায়তা রাখুন: কারখানায় ফার্স্ট এইড বক্সের পাশাপাশি ওআরএস ও ঠান্ডা পানির ব্যবস্থা রাখুন।
নিয়মিত মনিটরিং করুন: শ্রম মন্ত্রণালয় ও ফ্যাক্টরি ইন্সপেক্টরেট গরমের সময় এসিবিহীন কারখানায় তাপমাত্রা মনিটরিং করুক।
বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা নিন: যেসব কারখানা বা অফিসে এসি নেই, সেখানে বায়ুচলাচল ও কুলিং ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হোক।
গরমকালীন বিশেষ ছুটি ঘোষণা করুন: তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়ালে অফিসের সময় কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিন।
পোর্টেবল কুলার বা কুলিং ফ্যান কিনুন: অনেক সাশ্রয়ী সমাধান আছে যা বিদ্যুৎ খরচ কমিয়ে ঠান্ডা রাখে।
বাইরের ছাউনি বা শেড তৈরি করুন: কারখানার ছাদ ও দেয়ালে সাদা রং বা তাপপ্রতিরোধী কোটিং করুন।
বিরতির সময় বাড়ান: কর্মীদের বেশি বেশি বিরতি দিন। প্রতিবারই পানি পান করার সুযোগ দিন।
শীতল পানীয় সরবরাহ করুন: দিনে অন্তত দুবার শরবত, লেবুর পানি বা ডাবের পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
তীব্র গরম এখন শুধু অস্বস্তির নয়, মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসিবিহীন অফিস বা কারখানায় কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিজেদের সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে মালিক ও সরকারকেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।আমাদের প্রত্যেকের উচিত গরমের এই সময়টায় পিপাসা না পেলেও পান করা, বিশ্রাম নেওয়া ও অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। সূত্র: আবহাওয়া অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।

আপনার মতামত লিখুন