প্রচণ্ড দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে দেশ। প্রায় সারা দেশেই চলছে তাপপ্রবাহ। এই সময়ে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। তাই খাদ্যাভ্যাসে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
কিছু খাবার আছে যা গরমের সময় শরীরের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। আবার কিছু খাবার আপনাকে রাখবে সতেজ ও সুস্থ। জেনে নিন তাপপ্রবাহের সময় কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন।
অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার : ঝাল- মসলার টান গরমের সময় বাড়তি বাড়তি অস্বস্তি ডেকে আনে। মরিচ, আদা, গরম মসলার থার্মোজেনিক প্রভাব শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে ভেতর থেকে শরীর আরও গরম হয়ে যায়। সঙ্গে বাড়ে বুক জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি। তাই গরমের সময়ে মশলাদার কারি, তরকারি, বিশেষ করে ঝাল পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি।
ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত ফাস্টফুড : বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চপ, সিঙাড়া, সমুচা- এই সব ডুবোতেলে ভাজা খাবার হজম করতে শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। বেশি চর্বি হজম করতে গিয়ে শরীরে তাপ উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে গরমে বাড়ে পিপাসা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি। তাই তাপপ্রবাহে ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।
চা, কফি ও কোমল পানীয় : অনেকের ধারণা, গরমে ঠান্ডা কোমল পানীয় স্বস্তি দেয়। কিন্তু আসলে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত সোডা বা এনার্জি ড্রিংকস রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে, ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। অন্যদিকে চা বা কফির ক্যাফেইন মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। ফলে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। তাই তাপপ্রবাহে কফি-চায়ের কাপ কমিয়ে দিন।
রেড মিট বা লাল মাংস : গরু, খাসি বা মহিষের মাংস- এসব লাল মাংস হজম হতে অনেক সময় নেয়। এতে প্রোটিনের মাত্রা বেশি, যা হজমের সময় শরীরে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গরমের সময় এই ধরনের মাংস এড়িয়ে চলা ভালো। চাইলে মুরগির মাংস খেতে পারেন, তবে সেটিও মসলা কমিয়ে।
তীব্র গরমে কিছু খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর
আইসক্রিম ও অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় : একেবারে গরমে ঠান্ডা আইসক্রিম বা বরফ দিয়ে ঠান্ডা করা শরবত খেতে ভালো লাগে বৈকি। কিন্তু পেটের গরমে হুট করে ঠান্ডা খাবার গেলে শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনতে ব্যাকুল হয়। তখন অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা হুট করে বেড়ে যেতে পারে। এমনকি হতে পারে পেটের পীড়া, গলা ব্যথা বা হজমের সমস্যা। তাই খেতে চাইলে আইসক্রিম না খেয়ে ঘরের তৈরি পাকা তরমুজ, বেলের শরবত বা ফলের রস বরং ভালো।

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রচণ্ড দাবদাহে হাঁসফাঁস করছে দেশ। প্রায় সারা দেশেই চলছে তাপপ্রবাহ। এই সময়ে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। তাই খাদ্যাভ্যাসে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।
কিছু খাবার আছে যা গরমের সময় শরীরের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। আবার কিছু খাবার আপনাকে রাখবে সতেজ ও সুস্থ। জেনে নিন তাপপ্রবাহের সময় কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেন।
অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার : ঝাল- মসলার টান গরমের সময় বাড়তি বাড়তি অস্বস্তি ডেকে আনে। মরিচ, আদা, গরম মসলার থার্মোজেনিক প্রভাব শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়। ফলে ভেতর থেকে শরীর আরও গরম হয়ে যায়। সঙ্গে বাড়ে বুক জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি। তাই গরমের সময়ে মশলাদার কারি, তরকারি, বিশেষ করে ঝাল পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা জরুরি।
ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত ফাস্টফুড : বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চপ, সিঙাড়া, সমুচা- এই সব ডুবোতেলে ভাজা খাবার হজম করতে শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। বেশি চর্বি হজম করতে গিয়ে শরীরে তাপ উৎপাদন বেড়ে যায়। ফলে গরমে বাড়ে পিপাসা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি। তাই তাপপ্রবাহে ভাজাপোড়া খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।
চা, কফি ও কোমল পানীয় : অনেকের ধারণা, গরমে ঠান্ডা কোমল পানীয় স্বস্তি দেয়। কিন্তু আসলে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত সোডা বা এনার্জি ড্রিংকস রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট করে, ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। অন্যদিকে চা বা কফির ক্যাফেইন মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে। ফলে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। তাই তাপপ্রবাহে কফি-চায়ের কাপ কমিয়ে দিন।
রেড মিট বা লাল মাংস : গরু, খাসি বা মহিষের মাংস- এসব লাল মাংস হজম হতে অনেক সময় নেয়। এতে প্রোটিনের মাত্রা বেশি, যা হজমের সময় শরীরে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। গরমের সময় এই ধরনের মাংস এড়িয়ে চলা ভালো। চাইলে মুরগির মাংস খেতে পারেন, তবে সেটিও মসলা কমিয়ে।
তীব্র গরমে কিছু খাবার শরীরের জন্য ক্ষতিকর
আইসক্রিম ও অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় : একেবারে গরমে ঠান্ডা আইসক্রিম বা বরফ দিয়ে ঠান্ডা করা শরবত খেতে ভালো লাগে বৈকি। কিন্তু পেটের গরমে হুট করে ঠান্ডা খাবার গেলে শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আনতে ব্যাকুল হয়। তখন অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা হুট করে বেড়ে যেতে পারে। এমনকি হতে পারে পেটের পীড়া, গলা ব্যথা বা হজমের সমস্যা। তাই খেতে চাইলে আইসক্রিম না খেয়ে ঘরের তৈরি পাকা তরমুজ, বেলের শরবত বা ফলের রস বরং ভালো।

আপনার মতামত লিখুন