নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বাবা ও বোনসহ পাঁচজনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে নিয়ামতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা হলেন-নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), তার দুই বোন ডালিমা ও হালিমা, ভাগনে সবুজ রানা (২৫) এবং ভগ্নিপতি শহিদুল।
গত সোমবার রাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন-হাবিবুর রহমান (৩২),তাঁর স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক তদন্ত সংস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণ এবং হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনে হচ্ছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
তিনি আরও জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাতে বাড়ির ভেতরেই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। পরদিন ভোরে ঘরের দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকে চারজনের মরদেহ দেখতে পান।
স্থানীয়রা জানান, জমিজমা নিয়ে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তার বোন শিরিনার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। এ নিয়ে আগে তাদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আজ ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন