ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর এলাকায় ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘চাঁদপুর উচ্চ বিদ্যানিকেতন’। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির ভাগ্যে এখনো একটি পাকা ভবন জোটেনি। জরাজীর্ণ টিনের চাল আর বাঁশের বেড়ায় ঘেরা ঘরেই চলছে ২৬০ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে একটি টিনশেড ঘর ও একটি আধাপাকা ভবন থাকলেও সেগুলোর অবস্থা অত্যন্ত করুণ। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় বিদ্যালয়টি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নষ্ট হয়ে যায় আসবাবপত্র, লাইব্রেরির বই, দাপ্তরিক নথিপত্র ও একমাত্র কম্পিউটারটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ দরজা-জানালা আর ভাঙা মেঝের কক্ষগুলোতে গাদাগাদি করে বসে শিক্ষার্থীরা ক্লাস করছে।
বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, ‘বর্ষাকালে টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে, আবার গ্রীষ্মে অসহ্য গরমে টেকা দায় হয়ে পড়ে। মেয়েদের জন্য কোনো কমনরুম বা ভালো স্যানিটেশন ব্যবস্থাও নেই। প্রয়োজনীয় সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের শিক্ষার্থীরা।’
দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, আবহাওয়া খারাপ থাকলে তাদের ক্লাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী থাকলেও উন্নত পরিবেশের অভাবে তারা পিছিয়ে পড়ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একাধিকবার নতুন ভবনের জন্য আবেদন করেছি। শুধু আশ্বাসই মিলেছে, বরাদ্দ মেলেনি। সর্বশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। যাতায়াত ও পড়ালেখার উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথে অন্য স্কুলে চলে যায়।’
স্থানীয় বাসিন্দা ও লেমুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি এম এ মোর্শেদ হেলাল বলেন, এলাকাবাসীর সহায়তায় বিদ্যালয়টি কোনোমতে টিকে আছে। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও জমির মালিকানাসংক্রান্ত অজুহাতে এর উন্নয়নে বাধা দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় এবং একটি পাকা ভবনের দাবিতে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন ভিপির জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন