সংবাদ

পায়ে ১০ কেজির শিকল, এভাবেই কাটল ১৫ বছর


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

পায়ে ১০ কেজির শিকল, এভাবেই কাটল ১৫ বছর
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় উন্নত চিকিৎসার অভাবে গত ১৫ বছর ধরে শিকলবন্দী অবস্থায় দিন কাটছে তরুণী মিতুর। ছবি : সংবাদ

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রাম। এই গ্রামের মোড়ল পাড়ায় গত ১৫ বছর ধরে পায়ে শিকল ও বেড়ি পরা অবস্থায় দিন কাটছে ২৪ বছর বয়সী মিতুর। অভাবের তাড়নায় উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে ‘নিরাপত্তার’ অজুহাতে মিতুর পরিবার তাকে এই অমানবিক অবস্থায় বন্দি করে রেখেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই মিতু মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের দাবি, মাঝেমধ্যে মিতু এদিক-সেদিক চলে যান, তাই তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিকলই এখন তার জীবনের রূঢ় বাস্তবতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি। এই ভারী শিকল নিয়ে চলাফেরা করা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। দীর্ঘ সময় শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক বিকাশ ও জীবনযাপন পুরোপুরি থমকে গেছে।

মিতুর মা হাসিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘মেয়েটি যখন-তখন ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। হারানোর ভয়ে বাধ্য হয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রেখেছি। আমাদের যে আয়, তাতে তার চিকিৎসা করানো অসম্ভব। তবে ডাক্তাররা বলেছেন, ভালো চিকিৎসা পেলে ও সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।’

মিতুর বাবা আবুল মোড়ল প্রায় আট বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে মা-ই তার প্রধান দেখাশোনা করেন। পরিবারে মিতুর এক ভাই ও দুই বোন রয়েছে। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে মাত্র আট হাজার টাকা বেতন পান। এই সামান্য আয়ে পুরো পরিবারের খরচ চালিয়ে মিতুর ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো পরিবারের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, ‘সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তালা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুতই মিতুকে সেখানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে। সমাজসেবা দপ্তরের পক্ষ থেকেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

দ্রুত চিকিৎসা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মিতু এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬


পায়ে ১০ কেজির শিকল, এভাবেই কাটল ১৫ বছর

প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের প্রসাদপুর গ্রাম। এই গ্রামের মোড়ল পাড়ায় গত ১৫ বছর ধরে পায়ে শিকল ও বেড়ি পরা অবস্থায় দিন কাটছে ২৪ বছর বয়সী মিতুর। অভাবের তাড়নায় উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে ‘নিরাপত্তার’ অজুহাতে মিতুর পরিবার তাকে এই অমানবিক অবস্থায় বন্দি করে রেখেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই মিতু মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের দাবি, মাঝেমধ্যে মিতু এদিক-সেদিক চলে যান, তাই তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পায়ে শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শিকলই এখন তার জীবনের রূঢ় বাস্তবতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মিতুর পায়ে বাঁধা শিকল ও বেড়ির ওজন প্রায় ১০ কেজি। এই ভারী শিকল নিয়ে চলাফেরা করা তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। দীর্ঘ সময় শিকলবন্দী থাকায় তার স্বাভাবিক বিকাশ ও জীবনযাপন পুরোপুরি থমকে গেছে।

মিতুর মা হাসিনা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘মেয়েটি যখন-তখন ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। হারানোর ভয়ে বাধ্য হয়ে তাকে শিকলে বেঁধে রেখেছি। আমাদের যে আয়, তাতে তার চিকিৎসা করানো অসম্ভব। তবে ডাক্তাররা বলেছেন, ভালো চিকিৎসা পেলে ও সুস্থ হয়ে উঠতে পারে।’

মিতুর বাবা আবুল মোড়ল প্রায় আট বছর আগে মারা গেছেন। বর্তমানে মা-ই তার প্রধান দেখাশোনা করেন। পরিবারে মিতুর এক ভাই ও দুই বোন রয়েছে। বড় বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট ভাই ঢাকায় একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে মাত্র আট হাজার টাকা বেতন পান। এই সামান্য আয়ে পুরো পরিবারের খরচ চালিয়ে মিতুর ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো পরিবারের জন্য দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. খালিদ হাসান নয়ন বলেন, ‘সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মিতুর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে তালা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুতই মিতুকে সেখানে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হবে। সমাজসেবা দপ্তরের পক্ষ থেকেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

দ্রুত চিকিৎসা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মিতু এই শিকলবন্দী জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত