পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের প্রচারপর্বের শেষ দিনে শাসক, বিরোধী ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির টানা জনসভা রাজ্যের নির্বাচনী উত্তাপকে চরমে পৌঁছে দেয়। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও বামফ্রন্ট তিন শিবিরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালায়।
একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী একাধিক সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে দাবি করেন, গত কয়েক মাসে সাধারণ মানুষ নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়েছেন।
তার বক্তব্যে উঠে আসে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের প্রসঙ্গ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা, কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা, যা চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে তার বার্তা, গণতান্ত্রিক উপায়ে এর জবাব দিতে হবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় সভা করে পরিবর্তনের ডাক দেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি, মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা, বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত, সহজ চিকিৎসা পরিষেবা আয়ুষ্মান ভারত এর মাধ্যমে, এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি।
পাশাপাশি তিনি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি রাজ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা, অনুপ্রবেশ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সমস্যাগুলির সমাধান করা হবে।
এদিন রাহুল গান্ধীও উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জসহ একাধিক এলাকায় প্রচার সভা করেন। তাঁর বক্তব্যে মূলত বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করে বলেন, সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে বামফ্রন্টও বিভিন্ন জেলায় প্রচার চালায়। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে কর্মসংস্থান, শিল্পোন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি।
পাশাপাশি তারা শাসক ও প্রধান বিরোধী দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই সমালোচনার সুর চড়ায় এবং বিকল্প রাজনৈতিক পথের কথা তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের আগে শেষ দিনের প্রচারে প্রতিটি রাজনৈতিক শিবিরই নিজেদের প্রতিশ্রুতি, সমালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এই বহুমুখী প্রচার স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এবার অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, এবং শেষ পর্যন্ত জনমত কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের প্রচারপর্বের শেষ দিনে শাসক, বিরোধী ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির টানা জনসভা রাজ্যের নির্বাচনী উত্তাপকে চরমে পৌঁছে দেয়। তৃণমূল কংগ্রেস, বিজেপি ও বামফ্রন্ট তিন শিবিরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালায়।
একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জী একাধিক সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে দাবি করেন, গত কয়েক মাসে সাধারণ মানুষ নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়েছেন।
তার বক্তব্যে উঠে আসে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের প্রসঙ্গ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা, কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা, যা চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ভোটারদের উদ্দেশে তার বার্তা, গণতান্ত্রিক উপায়ে এর জবাব দিতে হবে।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রাজ্যের একাধিক জায়গায় সভা করে পরিবর্তনের ডাক দেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি, মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা, বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত, সহজ চিকিৎসা পরিষেবা আয়ুষ্মান ভারত এর মাধ্যমে, এবং বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি।
পাশাপাশি তিনি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আওতায় মাসিক ৩০০০ টাকা আর্থিক সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি রাজ্যে রাজনৈতিক সহিংসতা, অনুপ্রবেশ ও প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ তুলে ধরেন এবং দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই সমস্যাগুলির সমাধান করা হবে।
এদিন রাহুল গান্ধীও উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জসহ একাধিক এলাকায় প্রচার সভা করেন। তাঁর বক্তব্যে মূলত বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে।
তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সমালোচনা করে বলেন, সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে বামফ্রন্টও বিভিন্ন জেলায় প্রচার চালায়। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে কর্মসংস্থান, শিল্পোন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি।
পাশাপাশি তারা শাসক ও প্রধান বিরোধী দুই পক্ষের বিরুদ্ধেই সমালোচনার সুর চড়ায় এবং বিকল্প রাজনৈতিক পথের কথা তুলে ধরে।
সব মিলিয়ে, প্রথম দফার ভোটের আগে শেষ দিনের প্রচারে প্রতিটি রাজনৈতিক শিবিরই নিজেদের প্রতিশ্রুতি, সমালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। এই বহুমুখী প্রচার স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন এবার অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, এবং শেষ পর্যন্ত জনমত কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।

আপনার মতামত লিখুন