সংবাদ

কার অবহেলায় নষ্ট হলো তিস্তার উদ্ধার বোট?


প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

কার অবহেলায় নষ্ট হলো তিস্তার উদ্ধার বোট?

নীলফামারিতে তিস্তা তীরের মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা দুটি উদ্ধার বোট এখন কার্যত অকেজো। একটি অবহেলায় জরাজীর্ণ, অন্যটি বালুর নিচে চাপা পড়ে আছে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে। এ নিয়ে সংবাদে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে ‘নীলসাগর-১’ ও ‘নীলসাগর-২’ নামে বোট দুটি কেনা হয়েছিল। উদ্দেশে ছিল, বর্ষায় দুর্গম চরাঞ্চলে আটকে পড়া মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করা। বোটের চালক জানাচ্ছেন, বছরের পর বছর ধরে রং করা হয় না, মেরামত নেই, এমনকি ইঞ্জিন সচল রাখার জন্য এক লিটার মবিলও জোটেনি। চালকদের বেতনও বন্ধ দুই বছর ধরে।

অভিযোগ আছে, ‘নীলসাগর-২’ বন্যায় ডুবে বালুর নিচে চলে যাওয়ার পরেও কর্তৃপক্ষ তা উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়নি, দায় নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকলে একটি নৌযানের ৮০-৯০ শতাংশ কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই ক্ষতির দায় কে নেবে।

উদ্ধার বোট মেরামতের জন্য বরাদ্দ হওয়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার হিসাবও নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলছেন মেরামতের বরাদ্দ নেই, আর জেলা কর্মকর্তা জানাচ্ছেন প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।

রাষ্ট্রের টাকায় কেনা সম্পদের এই পরিণতি শুধু আর্থিক অপচয় নয়, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই অবস্থার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। জবাবদিহি না থাকলে রাষ্ট্রের সম্পদের এমন অপচয় চলতেই থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


কার অবহেলায় নষ্ট হলো তিস্তার উদ্ধার বোট?

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নীলফামারিতে তিস্তা তীরের মানুষের জীবন বাঁচাতে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা দুটি উদ্ধার বোট এখন কার্যত অকেজো। একটি অবহেলায় জরাজীর্ণ, অন্যটি বালুর নিচে চাপা পড়ে আছে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে। এ নিয়ে সংবাদে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে ‘নীলসাগর-১’ ও ‘নীলসাগর-২’ নামে বোট দুটি কেনা হয়েছিল। উদ্দেশে ছিল, বর্ষায় দুর্গম চরাঞ্চলে আটকে পড়া মানুষকে দ্রুত উদ্ধার করা। বোটের চালক জানাচ্ছেন, বছরের পর বছর ধরে রং করা হয় না, মেরামত নেই, এমনকি ইঞ্জিন সচল রাখার জন্য এক লিটার মবিলও জোটেনি। চালকদের বেতনও বন্ধ দুই বছর ধরে।

অভিযোগ আছে, ‘নীলসাগর-২’ বন্যায় ডুবে বালুর নিচে চলে যাওয়ার পরেও কর্তৃপক্ষ তা উদ্ধারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই ঘটনায় কোনো তদন্ত হয়নি, দায় নির্ধারণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকলে একটি নৌযানের ৮০-৯০ শতাংশ কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, এই ক্ষতির দায় কে নেবে।

উদ্ধার বোট মেরামতের জন্য বরাদ্দ হওয়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার হিসাবও নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বলছেন মেরামতের বরাদ্দ নেই, আর জেলা কর্মকর্তা জানাচ্ছেন প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।

রাষ্ট্রের টাকায় কেনা সম্পদের এই পরিণতি শুধু আর্থিক অপচয় নয়, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই অবস্থার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া। জবাবদিহি না থাকলে রাষ্ট্রের সম্পদের এমন অপচয় চলতেই থাকবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত