সংবাদ

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ‘টোটাল ফাইট’


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ জুন ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ‘টোটাল ফাইট’

  • একার লড়াই নয়, প্রয়োজন প্রতিটি নাগরিকের আঙিনা পরিষ্কারের যুদ্ধ

বর্ষার আগমনী বার্তার সাথেই দেশজুড়ে আবারও চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। ঘরের কোণে জমে থাকা এক ফোঁটা স্বচ্ছ পানিও এখন হয়ে উঠতে পারে একেকটি পরিবারের কান্নার কারণ। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রবিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ . মিল্টন হলে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক এক জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক সমন্বিত যুদ্ধের ডাক দেন।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু পরিস্থিতিকেটোটাল ফাইটআখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়; এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।"

মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "আমি সিটি করপোরেশন জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।"

ডেঙ্গুর ব্যয়বহুল ভ্যাকসিনের চেয়ে প্রতিরোধে জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, "যদি ব্যাপক ভ্যাকসিনেশনে যেতে হয়, তাহলে বিপুল বাজেট প্রয়োজন হবে। চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।"

প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, "ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্লাজমা লিকেজ সময়মতো শনাক্ত করা। রোগীর অবস্থা কখন সংকটজনক পর্যায়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখতে হবে।"

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী চিকিৎসকদের সতর্ক করে বলেন, "ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকা জরুরি। নিয়মিত সিবিসি পরীক্ষা এবং প্লাজমা লিকেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। প্লাজমা লিকেজ বেড়ে গেলে রোগী দ্রুত শকে চলে যেতে পারে, যা জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে।"

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, "ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় এবাররিঅ্যাকটিভনয়, বরংপ্রো-অ্যাকটিভকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।"

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ‘টোটাল ফাইট’

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

  • একার লড়াই নয়, প্রয়োজন প্রতিটি নাগরিকের আঙিনা পরিষ্কারের যুদ্ধ

বর্ষার আগমনী বার্তার সাথেই দেশজুড়ে আবারও চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। ঘরের কোণে জমে থাকা এক ফোঁটা স্বচ্ছ পানিও এখন হয়ে উঠতে পারে একেকটি পরিবারের কান্নার কারণ। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি নাগরিককে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

রবিবার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ . মিল্টন হলে ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক এক জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এক সমন্বিত যুদ্ধের ডাক দেন।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু পরিস্থিতিকেটোটাল ফাইটআখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, "ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়; এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলা কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।"

মশার বংশবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, "আমি সিটি করপোরেশন জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।"

ডেঙ্গুর ব্যয়বহুল ভ্যাকসিনের চেয়ে প্রতিরোধে জোর দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, "যদি ব্যাপক ভ্যাকসিনেশনে যেতে হয়, তাহলে বিপুল বাজেট প্রয়োজন হবে। চার মাস পরপর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।"

প্রতিরোধের পাশাপাশি আক্রান্তদের সঠিক চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, "ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্লাজমা লিকেজ সময়মতো শনাক্ত করা। রোগীর অবস্থা কখন সংকটজনক পর্যায়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখতে হবে।"

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. এফ এম সিদ্দিকী চিকিৎসকদের সতর্ক করে বলেন, "ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকা জরুরি। নিয়মিত সিবিসি পরীক্ষা এবং প্লাজমা লিকেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। প্লাজমা লিকেজ বেড়ে গেলে রোগী দ্রুত শকে চলে যেতে পারে, যা জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে।"

অন্যদিকে, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান আশার বাণী শুনিয়ে বলেন, "ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় এবাররিঅ্যাকটিভনয়, বরংপ্রো-অ্যাকটিভকৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।"


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত