আগামী শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ফের জ্বলে উঠবে দিল্লি- সরাসরি এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে কেন্দ্রকে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিল ‘ককরোচ’ বা ‘আরশোলা’ নামধারী যুব আন্দোলন।
স্পষ্ট দাবি, এনইইটি-সহ একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরে দাঁড়াতেই হবে। নইলে আগামী শনিবার ফের যন্তর মন্তর-এ জড়ো হবে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী, শুরু হবে আরও তীব্র গণআন্দোলন।
এই হুঁশিয়ারির আবহেই শনিবার দিনভর উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লির রাজপথ।
‘ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে এক অভিনব প্রতিবাদে ফেটে পড়ে জনতার ঢল। মুখে আরশোলা মুখোশ, হাতে পোস্টার- প্রতীকী ভাষায় আন্দোলনকারীরা বার্তা দেয়, দমন করলেও তারা বারবার ফিরে আসবে।
শুধু তরুণরাই নয়- এই আন্দোলনে অংশ নেন প্রবীণ, মধ্যবয়সী, এমনকি পরিবার নিয়ে আসা সাধারণ মানুষও। ফলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এই ক্ষোভ আর শুধুমাত্র ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই- এটি ধীরে ধীরে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি দিল্লিতে এসে প্রতিবাদে যোগ দেন। তার হাতে ছিল বিআর আম্বেদকর-এর আত্মজীবনী-যা এই আন্দোলনের সাংবিধানিক ও আদর্শিক অবস্থানকে তুলে ধরে। মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “ভয় দেখিয়ে এই লড়াই থামানো যাবে না। ছাত্র-যুবরা বিক্রি হয়ে যায়নি।”
প্রতিবাদ মঞ্চে যোগ দেন সমাজকর্মী লাদাখের জানপ্রিয় বিরোধী নেতা সোনাম ওঙচুক, বাম নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচাৰ্য এবং অ্যানি রাজাসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাদের উপস্থিতি এই আন্দোলনের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিবাদের সময় ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানের পাশাপাশি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধেও সরব হয় জনতা। আন্দোলনকারীরা সংবিধান হাতে, জাতীয় পতাকা নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বার্তা দেন- যা একে অন্য মাত্রা দেয়।
দিনভর কর্মসূচির পর বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয় এবং ১৩ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার যদি কোনও পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে শনিবার ফের যন্তর-মন্তরে জড়ো হয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ- এনইইটি, সিবিএসই, সিইউইটি, এসএসসিসহ একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ। সেই ক্ষোভই এখন সংগঠিত রূপে রাস্তায় নেমে এসেছে।
প্রশাসনের তরফে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হলেও, আন্দোলন মূলত শান্তিপূর্ণই ছিল। কিছু জায়গায় উত্তেজনা এড়াতে কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সব মিলিয়ে, ‘ককরোচ’ আন্দোলন এখন শুধু একটি প্রতিবাদ নয়- এটি একটি বড় বার্তা। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা- এই তিন দাবিকে সামনে রেখে তৈরি হচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক স্রোত।
এখন নজর সেই ৭ দিনের দিকে। কারণ, সিদ্ধান্ত একটাই- সরকার কি চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে, নাকি আগামী শনিবার দিল্লির রাজপথ আরও বড় বিস্ফোরণের সাক্ষী থাকবে।

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
আগামী শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ফের জ্বলে উঠবে দিল্লি- সরাসরি এমনই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে কেন্দ্রকে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিল ‘ককরোচ’ বা ‘আরশোলা’ নামধারী যুব আন্দোলন।
স্পষ্ট দাবি, এনইইটি-সহ একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরে দাঁড়াতেই হবে। নইলে আগামী শনিবার ফের যন্তর মন্তর-এ জড়ো হবে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী, শুরু হবে আরও তীব্র গণআন্দোলন।
এই হুঁশিয়ারির আবহেই শনিবার দিনভর উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লির রাজপথ।
‘ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে এক অভিনব প্রতিবাদে ফেটে পড়ে জনতার ঢল। মুখে আরশোলা মুখোশ, হাতে পোস্টার- প্রতীকী ভাষায় আন্দোলনকারীরা বার্তা দেয়, দমন করলেও তারা বারবার ফিরে আসবে।
শুধু তরুণরাই নয়- এই আন্দোলনে অংশ নেন প্রবীণ, মধ্যবয়সী, এমনকি পরিবার নিয়ে আসা সাধারণ মানুষও। ফলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, এই ক্ষোভ আর শুধুমাত্র ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই- এটি ধীরে ধীরে বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে।
আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি দিল্লিতে এসে প্রতিবাদে যোগ দেন। তার হাতে ছিল বিআর আম্বেদকর-এর আত্মজীবনী-যা এই আন্দোলনের সাংবিধানিক ও আদর্শিক অবস্থানকে তুলে ধরে। মঞ্চ থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “ভয় দেখিয়ে এই লড়াই থামানো যাবে না। ছাত্র-যুবরা বিক্রি হয়ে যায়নি।”
প্রতিবাদ মঞ্চে যোগ দেন সমাজকর্মী লাদাখের জানপ্রিয় বিরোধী নেতা সোনাম ওঙচুক, বাম নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচাৰ্য এবং অ্যানি রাজাসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তাদের উপস্থিতি এই আন্দোলনের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রতিবাদের সময় ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানের পাশাপাশি ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধেও সরব হয় জনতা। আন্দোলনকারীরা সংবিধান হাতে, জাতীয় পতাকা নিয়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের বার্তা দেন- যা একে অন্য মাত্রা দেয়।
দিনভর কর্মসূচির পর বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয় এবং ১৩ জুন পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার যদি কোনও পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে শনিবার ফের যন্তর-মন্তরে জড়ো হয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই আন্দোলনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ- এনইইটি, সিবিএসই, সিইউইটি, এসএসসিসহ একাধিক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ। সেই ক্ষোভই এখন সংগঠিত রূপে রাস্তায় নেমে এসেছে।
প্রশাসনের তরফে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হলেও, আন্দোলন মূলত শান্তিপূর্ণই ছিল। কিছু জায়গায় উত্তেজনা এড়াতে কয়েকজনকে আটক করা হয়।
সব মিলিয়ে, ‘ককরোচ’ আন্দোলন এখন শুধু একটি প্রতিবাদ নয়- এটি একটি বড় বার্তা। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা- এই তিন দাবিকে সামনে রেখে তৈরি হচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক স্রোত।
এখন নজর সেই ৭ দিনের দিকে। কারণ, সিদ্ধান্ত একটাই- সরকার কি চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে, নাকি আগামী শনিবার দিল্লির রাজপথ আরও বড় বিস্ফোরণের সাক্ষী থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন