ফুলে-ফলে ভরে আছে বিদ্যালয়ের ছাদ, চারদিকে সবুজের চোখজুড়ানো সমারোহ। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের ছাদটি এখন আর কেবল ছাদ নেই, হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত গবেষণাগার। গত ৭ বছর ধরে গড়ে তোলা এই বাগান বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কৃষি-উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৭ বছর আগে ছোট পরিসরে বাগানটি শুরু হলেও এখন তা পূর্ণতা পেয়েছে। ছাদজুড়ে শোভা পাচ্ছে দেশি আম, পেয়ারা, লেবু, বড়ই, মাল্টা, আমড়া ও সফেদা। নজর কাড়ছে বিদেশি ফল ড্রাগনও। দীর্ঘ সময়ের নিয়মিত পরিচর্যায় এখন প্রচুর ফলন মিলছে। টিফিনের বিরতি বা অবসরে শিক্ষার্থীরা যখন দল বেঁধে বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা ফল দেখে, তখন তাদের মধ্যেও বাগান করার আগ্রহ জন্মে।
বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ এরই মধ্যে প্রভাব ফেলেছে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনেও। অনেক শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে টব বা আঙিনায় বাগান শুরু করেছে। তারা জানায়, মাটির প্রস্তুতি, চারা রোপণ ও পরিচর্যার প্রাথমিক শিক্ষা তারা বিদ্যালয় থেকেই পেয়েছে।
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা আগে শুধু বইয়ের পাতায় কৃষি শিক্ষা পড়তাম। এখন বিদ্যালয়ের ছাদে এসে হাতে-কলমে শিখতে পারছি। এখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি নিজের বাড়ির উঠানেও সবজি ও ফলের গাছ লাগিয়েছি।”
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে এখান থেকেই আগামীর দক্ষ বাণিজ্যিক কৃষি-উদ্যোক্তা বেরিয়ে আসবে। আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও কলম তৈরির বিষয়ে কারিগরি সহায়তা পেলে পড়ালেখার পাশাপাশি তারা অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার পথও খুঁজে পাবে।
একদুয়ারিয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদির মৃধা বলেন, “আমাদের ছাদবাগানটি গত সাত বছরে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এটি দেখে ছেলেমেয়েরা যেভাবে গাছের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যদি শিক্ষার্থীদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে এরা বড় মাপের উদ্যোক্তা হতে পারবে।”
পরিবেশবিদেরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে ছাদবাগান কেবল পরিবেশ রক্ষা করে না, বরং নিরাপদ খাদ্যের জোগানও দেয়। বিদ্যালয়ের এই মডেলটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিলে তরুণেরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বপ্ন দেখতে পারবে।

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬
ফুলে-ফলে ভরে আছে বিদ্যালয়ের ছাদ, চারদিকে সবুজের চোখজুড়ানো সমারোহ। নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার একদুয়ারিয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের ছাদটি এখন আর কেবল ছাদ নেই, হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত গবেষণাগার। গত ৭ বছর ধরে গড়ে তোলা এই বাগান বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কৃষি-উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৭ বছর আগে ছোট পরিসরে বাগানটি শুরু হলেও এখন তা পূর্ণতা পেয়েছে। ছাদজুড়ে শোভা পাচ্ছে দেশি আম, পেয়ারা, লেবু, বড়ই, মাল্টা, আমড়া ও সফেদা। নজর কাড়ছে বিদেশি ফল ড্রাগনও। দীর্ঘ সময়ের নিয়মিত পরিচর্যায় এখন প্রচুর ফলন মিলছে। টিফিনের বিরতি বা অবসরে শিক্ষার্থীরা যখন দল বেঁধে বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা ফল দেখে, তখন তাদের মধ্যেও বাগান করার আগ্রহ জন্মে।
বিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ এরই মধ্যে প্রভাব ফেলেছে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবনেও। অনেক শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে টব বা আঙিনায় বাগান শুরু করেছে। তারা জানায়, মাটির প্রস্তুতি, চারা রোপণ ও পরিচর্যার প্রাথমিক শিক্ষা তারা বিদ্যালয় থেকেই পেয়েছে।
নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, “আমরা আগে শুধু বইয়ের পাতায় কৃষি শিক্ষা পড়তাম। এখন বিদ্যালয়ের ছাদে এসে হাতে-কলমে শিখতে পারছি। এখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমি নিজের বাড়ির উঠানেও সবজি ও ফলের গাছ লাগিয়েছি।”
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের এই স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারলে এখান থেকেই আগামীর দক্ষ বাণিজ্যিক কৃষি-উদ্যোক্তা বেরিয়ে আসবে। আধুনিক চাষ পদ্ধতি ও কলম তৈরির বিষয়ে কারিগরি সহায়তা পেলে পড়ালেখার পাশাপাশি তারা অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার পথও খুঁজে পাবে।
একদুয়ারিয়ার উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল কাদির মৃধা বলেন, “আমাদের ছাদবাগানটি গত সাত বছরে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। এটি দেখে ছেলেমেয়েরা যেভাবে গাছের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে, তা সত্যিই আশাব্যঞ্জক। কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যদি শিক্ষার্থীদের সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে ভবিষ্যতে এরা বড় মাপের উদ্যোক্তা হতে পারবে।”
পরিবেশবিদেরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে ছাদবাগান কেবল পরিবেশ রক্ষা করে না, বরং নিরাপদ খাদ্যের জোগানও দেয়। বিদ্যালয়ের এই মডেলটি দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিলে তরুণেরা নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টির স্বপ্ন দেখতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন