গ্রামের কৃষকেরা যাতে সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারেন, সেজন্য পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানী ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দেয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, শহরের মানুষ আরামে থাকবে এবং গ্রামের মানুষ অর্থাৎ খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য দূর করতেই শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে কৃষকেরা তাদের সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গতকাল বুধবার বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এই কষ্টের জন্য তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, আর উৎপাদন হয় মাত্র ১ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট। আমদানি করা হয় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। ঘাটতি পূরণে অবকাঠামো বাড়ানো সম্ভব নায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, আমদানিকৃত ও কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র মেইনটেন্যান্সে থাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলো পূর্ণ উৎপাদনে চলে গেলে লোডশেডিং আগামী সাত দিনের মধ্যে কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, এই উত্তপ্ত গরমে অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়েছে। এই সমস্যা এক দিনের নয়। পুঞ্জিভূত এই সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার বা কারও নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় সবাইকে নিতে হচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী দেশবাসীর কষ্টের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
গ্রামের কৃষকেরা যাতে সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারেন, সেজন্য পরীক্ষামূলকভাবে রাজধানী ঢাকায় ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে দেয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি, শহরের মানুষ আরামে থাকবে এবং গ্রামের মানুষ অর্থাৎ খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। গ্রাম ও শহরের মধ্যে বৈষম্য দূর করতেই শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে কৃষকেরা তাদের সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারেন।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গতকাল বুধবার বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। অর্থাৎ প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এই কষ্টের জন্য তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎ সমস্যার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবকে দায়ী করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট, আর উৎপাদন হয় মাত্র ১ হাজার ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট। আমদানি করা হয় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। ঘাটতি পূরণে অবকাঠামো বাড়ানো সম্ভব নায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, আমদানিকৃত ও কয়লাভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র মেইনটেন্যান্সে থাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেগুলো পূর্ণ উৎপাদনে চলে গেলে লোডশেডিং আগামী সাত দিনের মধ্যে কমে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, এই উত্তপ্ত গরমে অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়েছে। এই সমস্যা এক দিনের নয়। পুঞ্জিভূত এই সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার বা কারও নয়। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় সবাইকে নিতে হচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী দেশবাসীর কষ্টের জন্য তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, জনগণের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন