জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, কৃষি সেচে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ এবং গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোতালেব হোসেন।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে রুহিন হোসেন প্রিন্স অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনা না করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও সরকার বাস্তব পরিস্থিতি অস্বীকার করছে। জনগণের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের অপ্রতুল সরবরাহের কারণে কৃষকরা তাদের সেচ কার্যক্রম সঠিকভাবে চালাতে পারছেন না। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশে বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে অবিলম্বে কৃষি খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর তার বক্তব্যে বলেন, তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন আজ বিপর্যস্ত। তিনি অবিলম্বে এই জনবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংকট মোকাবিলার তাগিদ দেন।
একই সাথে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. আহমেদ সাজেদুল হক রুবেল অভিযোগ করেন, জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনা এবং সিন্ডিকেট ও মজুদদারদের কারসাজির কারণেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, যার দায়ভার সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তার সরকারের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, সরকার একদিকে দাবি করছে দেশে কোনো সংকট নেই, অথচ অন্যদিকে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে চলেছে। সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি বাতিলের দাবি জানান।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, কৃষি সেচে পর্যাপ্ত ডিজেল সরবরাহ এবং গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা। শনিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবির ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মহানগর উত্তরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মোতালেব হোসেন।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে রুহিন হোসেন প্রিন্স অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনা না করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেও সরকার বাস্তব পরিস্থিতি অস্বীকার করছে। জনগণের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
সভাপতির বক্তব্যে হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও জ্বালানি তেলের অপ্রতুল সরবরাহের কারণে কৃষকরা তাদের সেচ কার্যক্রম সঠিকভাবে চালাতে পারছেন না। এতে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশে বড় ধরনের খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি করছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে অবিলম্বে কৃষি খাতে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক লূনা নূর তার বক্তব্যে বলেন, তেল, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবন আজ বিপর্যস্ত। তিনি অবিলম্বে এই জনবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কৃষি ও শিল্প খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে সংকট মোকাবিলার তাগিদ দেন।
একই সাথে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. আহমেদ সাজেদুল হক রুবেল অভিযোগ করেন, জ্বালানি খাতে অব্যবস্থাপনা এবং সিন্ডিকেট ও মজুদদারদের কারসাজির কারণেই এই কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে, যার দায়ভার সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তার সরকারের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, সরকার একদিকে দাবি করছে দেশে কোনো সংকট নেই, অথচ অন্যদিকে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে দফায় দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে চলেছে। সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি বাতিলের দাবি জানান।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন