সংবাদ

স্লুইসগেইট খুলে ফসল নষ্ট: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন


প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩১ পিএম

স্লুইসগেইট খুলে ফসল নষ্ট: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে রাতের আঁধারে কালকি স্লুইসগেইটের জলকপাট তুলে দিয়ে লোনা পানি ঢুকিয়ে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের অন্তত ৮টি গ্রামের প্রায় দশ হাজার বিঘা ধানখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক জমির ধান কাটা শেষ হয়নি। ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পানীয় জল ও গবাদি পশুর খাবার নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাছ ধরার জন্য পরিকল্পিতভাবে স্লুইসগেইট খুলে দিয়েছে। প্রভাবশালী মহল ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে স্লুইসগেইটের জলকপাট তুলেছে। স্লুইসগেইট সংস্কারের পর তদারকির অভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকা দীর্ঘদিন ধরে লবণাক্ততার সঙ্গে লড়াই করছে। ঘূর্ণিঝড়, বেড়িবাঁধ ভাঙা ও জোয়ারের পানিতে বারবার ফসল নষ্ট হয়েছে। সরকারি নানা উদ্যোগে চাষাবাদ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে এই মানবসৃষ্ট বিপর্যয় কৃষকদের সেই প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। 

এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন ও দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। উপকূলীয় কৃষি ইতোমধ্যে নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর ওপর যদি পরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে লোনা পানি ঢোকানো হয়, তাহলে কৃষকদের সমূহ ক্ষতির শিকার হতে হয়। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আমার আশা করবো, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্লুইসগেইটের নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে। কৃষকরা উপকূলের খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তি। তাদের সুরক্ষা না দিতে পারলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়বে। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


স্লুইসগেইট খুলে ফসল নষ্ট: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার আশাশুনিতে রাতের আঁধারে কালকি স্লুইসগেইটের জলকপাট তুলে দিয়ে লোনা পানি ঢুকিয়ে দেয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের অন্তত ৮টি গ্রামের প্রায় দশ হাজার বিঘা ধানখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক জমির ধান কাটা শেষ হয়নি। ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পানীয় জল ও গবাদি পশুর খাবার নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সংবাদ-এ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মাছ ধরার জন্য পরিকল্পিতভাবে স্লুইসগেইট খুলে দিয়েছে। প্রভাবশালী মহল ভারী যন্ত্র ব্যবহার করে স্লুইসগেইটের জলকপাট তুলেছে। স্লুইসগেইট সংস্কারের পর তদারকির অভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকা দীর্ঘদিন ধরে লবণাক্ততার সঙ্গে লড়াই করছে। ঘূর্ণিঝড়, বেড়িবাঁধ ভাঙা ও জোয়ারের পানিতে বারবার ফসল নষ্ট হয়েছে। সরকারি নানা উদ্যোগে চাষাবাদ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে এই মানবসৃষ্ট বিপর্যয় কৃষকদের সেই প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা দিয়েছে। 

এ ধরনের ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন ও দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। উপকূলীয় কৃষি ইতোমধ্যে নানা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর ওপর যদি পরিকল্পিতভাবে কৃষিজমিতে লোনা পানি ঢোকানো হয়, তাহলে কৃষকদের সমূহ ক্ষতির শিকার হতে হয়। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আমার আশা করবো, এই ঘটনার জন্য দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্লুইসগেইটের নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। 

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা দেয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে। কৃষকরা উপকূলের খাদ্য উৎপাদনের ভিত্তি। তাদের সুরক্ষা না দিতে পারলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়বে। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত