বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চীন ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এসব আশ্বাসের কথা বলেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং বহুমাত্রিক উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বহুমুখী সহযোগিতায় চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছে। এই বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে চীন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রি, সোলার পাওয়ার, আইসিটি, ই-ভেহিকলস, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং কৃষি-বীজ ও সার খাতে দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার পাশাপাশি একটি ‘চাইনিজ ইপিজেড’ স্থাপনের কথা বলেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে শিক্ষা খাতের মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। চীন বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করতে আগ্রহী।
পাশাপাশি শ্রমবাজারে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষায় প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নেও চীন কাজ করতে চায়।
দুই দেশের মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া দেশে ইলেকট্রিক-বাস চালুর ক্ষেত্রেও চীন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। বৈঠকে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও উঠে আসে।
রাষ্ট্রদূত স্মরণ করে বলেন, চীনের সঙ্গে বিএনপির ঐতিহ্যগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার সময়েও এই সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিল। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চীন ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চীন ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এসব আশ্বাসের কথা বলেন।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ভবিষ্যৎ সহযোগিতা এবং বহুমাত্রিক উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বহুমুখী সহযোগিতায় চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছে। এই বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে চীন সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রি, সোলার পাওয়ার, আইসিটি, ই-ভেহিকলস, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং কৃষি-বীজ ও সার খাতে দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস খাতে সম্ভাব্য সহযোগিতার পাশাপাশি একটি ‘চাইনিজ ইপিজেড’ স্থাপনের কথা বলেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে শিক্ষা খাতের মানোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। চীন বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করতে আগ্রহী।
পাশাপাশি শ্রমবাজারে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম, টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষায় প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নেও চীন কাজ করতে চায়।
দুই দেশের মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং তৃতীয় ভাষা হিসেবে চীনা ভাষা অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া দেশে ইলেকট্রিক-বাস চালুর ক্ষেত্রেও চীন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’ প্রদানের উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান। বৈঠকে রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও উঠে আসে।
রাষ্ট্রদূত স্মরণ করে বলেন, চীনের সঙ্গে বিএনপির ঐতিহ্যগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়ার সময়েও এই সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় ছিল। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চীন ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

আপনার মতামত লিখুন