জাতীয় সংসদে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের একটি লিফলেট উদ্ধার করে বিরোধী দলের সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই লিফলেটে জুলাই সনদের কোনো উল্লেখ না থাকায় এবং গণভোট প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গণভোটে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান আধা প্রেম, আধা প্রতারণা।’
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল কেন সংস্কার চায় সেখানে লিফলেটে কয়েকটি পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। এই পয়েন্টের মধ্যে কোথাও জুলাই সনদের কথা বলা নেই। এখানে বলা হয়েছে গণভোটের কথা। জুলাই সনদ থেকে গণভোটকে ডেভিয়েট (বিচ্যুত) করা হয়েছে। এটি সংবিধানের সঙ্গেও প্রতারণা, আইনের সঙ্গেও প্রতারণা।’
মন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদে ৩৩টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু বিরোধী দলের লিফলেটে সেটির কোনো চিহ্ন নেই।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘লিফলেট পড়তে গিয়ে মনে হলো, আমি কি ৩৩ এ পাসের স্টেজে আছি? ১৮৫৪ সালে উপমহাদেশে যখন ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা শুরু হয়, ব্রিটিশরা মনে করতো এ দেশের মানুষ অর্ধেক বুদ্ধি ধারণ করেন। তাই তারা পাস নম্বর রাখেন সাড়ে ৩২। পরে ১৯৬২ সালে তা ৩৩ করা হয়। মনে হচ্ছে, উনারা এখনও মনে করেন আমরা অর্ধশিক্ষিত। যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সনদের কোনো শব্দ নেই।’
গণভোট কবে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারুইশের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘প্রেমিকা জিজ্ঞেস করেছিলেন- আমাদের দেখা হবে কবে? কবি বলেছিলেন- যেদিন যুদ্ধ থামবে। প্রেমিকা আবার প্রশ্ন করেন- যুদ্ধ কবে থামবে? উত্তরে কবি বলেন- যেদিন আমাদের দেখা হবে।’
জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে বিএনপির কোনও আপত্তি কখনও ছিল না। বাকি অর্ধেক যে প্রশ্নটা সে আধা প্রশ্নটা হলো আধা প্রেম, আধা প্রতারণা। আধা প্রেম কী রকম? দেখাচ্ছেন আমরা করতে চাচ্ছি। এটা জুলাই সনদের অংশ। আধা প্রতারণা হলো, জুলাই সনদের মধ্যে বলা আছে। ওই প্রশ্নটা কখনওই প্রাসঙ্গিক হবে না বিএনপির জন্য।”
জামায়াতের সমালোচনা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে মা-বোনের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে শুনেছি, কেউ বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছেন। আমি নিজে কানে শুনেছি। আমি সেই ঘটনার সাক্ষী।’
আইনমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাসহ সব সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান- বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণের আইনে জামায়াতে ইসলামী বিরোধিতা করেনি বলে। তিনি বলেন, ‘এই আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলো, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিলেন, কারা খুন ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’
উল্লেখ্য, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা আইনের পক্ষে মত দেন। আইনমন্ত্রী সেই সমর্থনের জন্যই বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় সংসদে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের একটি লিফলেট উদ্ধার করে বিরোধী দলের সমালোচনা করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এই লিফলেটে জুলাই সনদের কোনো উল্লেখ না থাকায় এবং গণভোট প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘গণভোটে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান আধা প্রেম, আধা প্রতারণা।’
বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল কেন সংস্কার চায় সেখানে লিফলেটে কয়েকটি পয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। এই পয়েন্টের মধ্যে কোথাও জুলাই সনদের কথা বলা নেই। এখানে বলা হয়েছে গণভোটের কথা। জুলাই সনদ থেকে গণভোটকে ডেভিয়েট (বিচ্যুত) করা হয়েছে। এটি সংবিধানের সঙ্গেও প্রতারণা, আইনের সঙ্গেও প্রতারণা।’
মন্ত্রী জানান, জুলাই জাতীয় সনদে ৩৩টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছিল। কিন্তু বিরোধী দলের লিফলেটে সেটির কোনো চিহ্ন নেই।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘লিফলেট পড়তে গিয়ে মনে হলো, আমি কি ৩৩ এ পাসের স্টেজে আছি? ১৮৫৪ সালে উপমহাদেশে যখন ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা শুরু হয়, ব্রিটিশরা মনে করতো এ দেশের মানুষ অর্ধেক বুদ্ধি ধারণ করেন। তাই তারা পাস নম্বর রাখেন সাড়ে ৩২। পরে ১৯৬২ সালে তা ৩৩ করা হয়। মনে হচ্ছে, উনারা এখনও মনে করেন আমরা অর্ধশিক্ষিত। যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সনদের কোনো শব্দ নেই।’
গণভোট কবে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী ফিলিস্তিনি কবি মাহমুদ দারুইশের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘প্রেমিকা জিজ্ঞেস করেছিলেন- আমাদের দেখা হবে কবে? কবি বলেছিলেন- যেদিন যুদ্ধ থামবে। প্রেমিকা আবার প্রশ্ন করেন- যুদ্ধ কবে থামবে? উত্তরে কবি বলেন- যেদিন আমাদের দেখা হবে।’
জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপির অবস্থান উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “তিনটি প্রশ্নের ব্যাপারে বিএনপির কোনও আপত্তি কখনও ছিল না। বাকি অর্ধেক যে প্রশ্নটা সে আধা প্রশ্নটা হলো আধা প্রেম, আধা প্রতারণা। আধা প্রেম কী রকম? দেখাচ্ছেন আমরা করতে চাচ্ছি। এটা জুলাই সনদের অংশ। আধা প্রতারণা হলো, জুলাই সনদের মধ্যে বলা আছে। ওই প্রশ্নটা কখনওই প্রাসঙ্গিক হবে না বিএনপির জন্য।”
জামায়াতের সমালোচনা করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে মা-বোনের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে শুনেছি, কেউ বেহেশতের টিকিট বিক্রি করেছেন। আমি নিজে কানে শুনেছি। আমি সেই ঘটনার সাক্ষী।’
আইনমন্ত্রী বিরোধীদলীয় নেতাসহ সব সংসদ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান- বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা নির্ধারণের আইনে জামায়াতে ইসলামী বিরোধিতা করেনি বলে। তিনি বলেন, ‘এই আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হলো, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে কারা বিরোধিতা করেছিলেন, কারা খুন ও ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’
উল্লেখ্য, জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান সংসদে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা আইনের পক্ষে মত দেন। আইনমন্ত্রী সেই সমর্থনের জন্যই বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন