বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বয়সসীমা তুলে দিয়ে দুটি বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। কিন্তু বিল পাসের পর শুরু হলো অনির্ধারিত বিতর্ক।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিল দুটি পাস হওয়ার পর সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বিরোধী দল বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে দলীয় লোক আখ্যা দিয়ে তার অপসারণ দাবি করে।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন- অর্থনৈতিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিয়োগ দেওয়া হবে না।
পাস হওয়া বিল দুটির মাধ্যমে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে এবং আইডিআরএর চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সর্বোচ্চ বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে।
আগের আইনে বিএসইসির ক্ষেত্রে ৬৫ বছর এবং আইডিআরএর ক্ষেত্রে ৬৭ বছর বয়সসীমা ছিল। এখন সেই বাধা সরিয়ে দেওয়া হলো।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিল পাসের সময় বলেন, বিশ্বের প্রায় কোনো দেশেই এসব প্রতিষ্ঠানে বয়সসীমা নেই। দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে বলেও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেন তিনি।
বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়েই প্রথম আপত্তি তোলে বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিল আনা হয়েছে। তিন দিন আগে নোটিশ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও আজই তারা বিলের কপি পেয়েছেন। তিনি বিল দুটি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।
তবে ততক্ষণে একটি বিল পাস হয়ে যায়। স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, গতকালই বিলের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে এবং সময় মার্জনার এখতিয়ার স্পিকারের আছে।
বিল পাসের পর ফ্লোর নেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এটা কি কোনো ব্যক্তিকে মাথায় রেখে করা হচ্ছে নাকি নীতিকে মাথায় রেখে?’ তিনি বলেন, যেভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ হয়েছে, সেভাবে যদি বিশেষ ব্যক্তিদের মাথায় রেখে বয়সসীমা তুলে ধরা হয়, তাহলে তা দক্ষতা ও যোগ্যতার নীতির বিপরীতে যাবে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের দাবি করেন, বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তাই তাঁকে অপসারণ করা উচিত।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কোনো দলের ব্যক্তি নন। তিনি একটা দলের সমর্থক হতেই পারেন। এখন পর্যন্ত তার পারফরম্যান্স অন্য যেকোনো গভর্নরের চেয়ে ভালো।’
বিতর্কের জেরে অর্থমন্ত্রী সাফ জানান, ‘ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, অর্থনৈতিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না।’ আইন পাসের এই প্রক্রিয়া ও তার পরের বিতর্ক সংসদীয় ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করল।

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বয়সসীমা তুলে দিয়ে দুটি বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। কিন্তু বিল পাসের পর শুরু হলো অনির্ধারিত বিতর্ক।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিল দুটি পাস হওয়ার পর সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। বিরোধী দল বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে দলীয় লোক আখ্যা দিয়ে তার অপসারণ দাবি করে।
অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন- অর্থনৈতিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিয়োগ দেওয়া হবে না।
পাস হওয়া বিল দুটির মাধ্যমে বিএসইসির চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে এবং আইডিআরএর চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে সর্বোচ্চ বয়সসীমা তুলে দেওয়া হয়েছে।
আগের আইনে বিএসইসির ক্ষেত্রে ৬৫ বছর এবং আইডিআরএর ক্ষেত্রে ৬৭ বছর বয়সসীমা ছিল। এখন সেই বাধা সরিয়ে দেওয়া হলো।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিল পাসের সময় বলেন, বিশ্বের প্রায় কোনো দেশেই এসব প্রতিষ্ঠানে বয়সসীমা নেই। দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে বলেও এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেন তিনি।
বিল পাসের প্রক্রিয়া নিয়েই প্রথম আপত্তি তোলে বিরোধী দল। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই বিল আনা হয়েছে। তিন দিন আগে নোটিশ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও আজই তারা বিলের কপি পেয়েছেন। তিনি বিল দুটি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান।
তবে ততক্ষণে একটি বিল পাস হয়ে যায়। স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, গতকালই বিলের রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে এবং সময় মার্জনার এখতিয়ার স্পিকারের আছে।
বিল পাসের পর ফ্লোর নেন এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এটা কি কোনো ব্যক্তিকে মাথায় রেখে করা হচ্ছে নাকি নীতিকে মাথায় রেখে?’ তিনি বলেন, যেভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ হয়েছে, সেভাবে যদি বিশেষ ব্যক্তিদের মাথায় রেখে বয়সসীমা তুলে ধরা হয়, তাহলে তা দক্ষতা ও যোগ্যতার নীতির বিপরীতে যাবে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পরে জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের দাবি করেন, বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। তাই তাঁকে অপসারণ করা উচিত।
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কোনো দলের ব্যক্তি নন। তিনি একটা দলের সমর্থক হতেই পারেন। এখন পর্যন্ত তার পারফরম্যান্স অন্য যেকোনো গভর্নরের চেয়ে ভালো।’
বিতর্কের জেরে অর্থমন্ত্রী সাফ জানান, ‘ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, অর্থনৈতিক খাতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না।’ আইন পাসের এই প্রক্রিয়া ও তার পরের বিতর্ক সংসদীয় ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করল।

আপনার মতামত লিখুন